আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ভারত ও বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো বিনিময় হলেও বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া ছিটমহলগুলোতে খুব সহজেই ভোটার তালিকার কাজ শুরু হচ্ছে না। সংযুক্ত হতে যাওয়া ছিটমহল কোন ইউনিয়ন, উপজেলা ও কোন নির্বাচনী এলাকার আওতাভুক্ত হবে, সেসব কিছুই এখন পর্যন্ত নির্ধারণের প্রাথমিক কোনো কার্যক্রমই নেই। এসব কারণে রমজানের ঈদের পর শুরু হতে যাওয়া সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ছিটমহল এলাকা আওতাভুক্ত করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থলসীমান্ত চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ছিটমহলবাসীদের ভোটার তালিকাভুক্ত করতে কিছু প্রশাসনিক সমস্যা রয়েছে। ছিটমহলে বসবাসকারীদের মধ্যে সবাই বাংলাদেশী নাগরিক হতে চান কি না- এখনও তা নির্ধারিত হয়নি। এছাড়া জাতীয় সংসদের এলাকা হিসেবে ভোটার করা হয়। ছিটমহলগুলোকে সংসদীয় আসনের আওতায় এনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করার পর ছিটমহলবাসীদের ভোটার করা যেতে পারে।
জানতে চাওয়া হলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহউদ্দিন বলেন, ছিটমহলবাসীকে ভোটার তালিকাভুক্ত করার আগে প্রশাসনিক কার্যক্রমগুলো শেষ করতে হবে। এসব কাজ শেষ করতে এ বছর পুরোটাই লেগে যেতে পারে। তিনি বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত পেলে ছিটমহলবাসীদের ভোটার করতে স্পেশাল প্রোগ্রাম (বিশেষ ব্যবস্থা) হাতে নেয়া হবে।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ৬ জুন বাংলাদেশে সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থলসীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত চুক্তির অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় করেন। ফলে ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ইসির বৈঠকেও আলোচনা হয়।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ১৯৯৭ সালের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিনিময়যোগ্য ছিটমহলের সংখ্যা ১৬২টি। ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহলের সংখ্যা ৫১টি, যার মোট আয়তন সাত হাজার ১১০ একর। এসব ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। এসব ছিটমহলের অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এর মধ্যে ৪৭টি কুচবিহার এবং চারটি জলপাইগুড়ি জেলায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমহলের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি এবং নীলফামারীতে ৪টি ছিটমহল রয়েছে। যার মোট আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ একর। এসব ছিটমহলে ৩৭ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলগুলো বাংলাদেশে থাকবে।
ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ছিটমহলবাসীদের ভোটার করার আগে ওই এলাকার ছিটমহলগুলোর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলার আওতায় এনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করতে হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন ওই সব এলাকার সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করার পরই ছিটমহলবাসীকে ভোটার করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে এ বছর চলে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তিনি আরও জানান, ছিটমহলবাসীকে ভোটার করার বিষয়ে মতামত চেয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবারও চিঠি দেয়ার চিন্তা করছে কমিশন। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তারা জানান, এর আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ছিটমহলবাসীকে ভোটার করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মাহফুজা আক্তার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, গত ১৫ মে (২০১৪ সাল) সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনবসতি আছে এমন বাংলাদেশী ছিটমহলগুলোতে ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে নির্বাচন কমিশন ছিটমহলগুলোতে তথ্য সংগ্রহ ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত ছিটমহলগুলোর হস্তান্তরের বিষয়ে মতামত এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়- সে বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। ওই চিঠির জবাবে মন্ত্রণালয় দুটি জানায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় এবং চলমান বিষয়ের মধ্যে সক্রিয় বিবেচনাধীন আছে। বিরোধ নিষ্পত্তি হলে দুই দেশের ছিটমহল বিনিময় হবে। তাই ছিটমহল নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করার জন্য মতামত দেয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply