ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকায় দেয়া বক্তব্যের ওপর পাকিস্তানি মিডিয়ার ক্ষোভের পর এবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে পাক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কাজি খলিলুল্লাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে প্রমাণ করেছেন পাকিস্তান ভাঙতে ভারত জড়িত ছিল। একই সঙ্গে ভারত যে দ্বিতীয় একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিল তারও প্রমাণ হলো, যা জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আর এটা নিয়ে ভারতের গর্ব করা খুবই দুঃখজনক। মোদির এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘নোট’ করে রাখা উচিত বলেও পাক সরকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাক-ভারত সম্পর্কের আমরা সুন্দর একটি সুরাহা কামনা করছি কিন্তু মোদি দুই দুইবার সেই সুতোয় কাঁটা গেঁথে দিলেন। তিনি এখন দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তিনি ভুলে গেছেন ইংরেজদের তাড়াতে আমরা দুই দেশ একসঙ্গেই লড়েছি।
কাজি খলিলুল্লাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে বক্তব্য দিয়ে পাক-ভারতের দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন। কিন্তু এই চেষ্টা সফল হবে না। কেননা পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এক সুতোয় আবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান -বাংলাদেশের মধ্যে যুদ্ধ সংগঠিত হলেও এখনো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে পাকিস্তান ভাঙার স্বীকারোক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলকে নোট করার দাবি জানান কাজি খলিলুল্লাহ । তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করেছেন, পূর্ব পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার বিষয়টি প্রতিটি ভারতীয়র স্বপ্ন ছিল। এছাড়া নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ৭১ এর যুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যরা বাংলাদেশিদের কাঁধে কাঁধ রেখে যুদ্ধ করেছে। সত্যাগ্রহেও তিনি শরীক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ নীতির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।
নরেন্দ্র মোদির দেয়া বক্তব্যের ওপর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে পাকিস্তানে সন্ত্রাস ছড়ানোর বিষয়টি শক্তিশালী হলো। মোদির বক্তব্যকে সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষকতার একটি উন্মুক্ত আহ্বান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্টরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন। রাজনীতি বিশ্লেষক নাজিম শেঠি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ভারতের হস্তক্ষেপ শুরু থেকেই ধারণায় ছিল, নরেন্দ্র মোদির এই বক্তব্য সেটাকে প্রমাণ করল।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট হামিদ মীর বলেন, মোদির বক্তব্যে প্রমাণ হলো, সীমান্ত হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসের বিস্তার ভারত থেকেই শুরু।
বিশ্লেষক জাহেদ হোসাইন বলেছেন, বাংলাদেশে ৭১ ও সন্ত্রাস নিয়ে মোদির বক্তব্য অনুপযুক্ত এবং উস্কানিমূলক।
উল্লেখ্য রোববার বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দীর্ঘ ভাষণে বেশ কয়েকবার পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করেন। ভারতে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেয়া ছাড়াও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তান হানাদারদের নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ এবং পাকিস্তানের ৯০ হাজার সৈন্যকে আত্মসমর্পণের পর ফেরত পাঠানোর বিষয় উল্লেখ করেন মোদি।
ওয়েব ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply