বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফতুল্লার মাঠ ও গরমকেই এখন ভয় মুশফিকদের

Musfiqফতুল্লায় চলছে অনুশীলন। কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে, অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ঘেমে-নেয়ে একাকার! মঙ্গলবার বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে তাই গরম-প্রসঙ্গ এল স্বাভাবিকভাবেই। এ গরমকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছেন মুশফিক, ‘গরম তো হবেই। এটাই তো চ্যালেঞ্জ। যেকোনো জিনিস কষ্ট করে অর্জন করলে তার মধ্যে অন্যরকম তৃপ্তি থাকে! সবাই কষ্ট করেছে, একই সঙ্গে বেশ অনুপ্রাণিত। আশা করব, এই পাঁচ দিন আরও কষ্ট করে অর্জন আরও বাড়াতে।’ বুধবার ১০ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ভারতের সঙ্গে টেস্ট।

গরম ছাড়াও ম্যাচের আগে বড় মাথা ব্যথার কারণ নাকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ফতুল্লার উইকেট। ১০ ওয়ানডে খেলা হলেও এ ভেন্যুতে টেস্ট ফিরল নয় বছর পর। সর্বশেষ ২০০৬ সালে রিকি পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিল বাংলাদেশ। সে টেস্টটা হারলেও দারুণ লড়াই হয়েছিল। তবে এখানে টেস্ট অনিয়মিত হওয়ায় উইকেট সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নেই বাংলাদেশ অধিনায়কেরও। ভরসা কিছু ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ, ‘এই অতিরিক্ত গরম…কেমন উইকেট তৈরি করা হয়েছে…আসলে ক্রিকেটারদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সেদিক দিয়ে বলব, কাজটা অনেক কঠিন। তবে সাধ্যমতো নিজেদের সেরাটাই ঢেলে দেবে। উইকেট থেকে সহায়তা পাওয়ার আশা করি। কিন্তু অনেক সময় সেটা পাওয়া যায় না। কোচ বলেছেন, এ উইকেটের চরিত্র ভিন্ন। এখানে আমরা কয়েকটা প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছি, বিসিএলে কয়েকটা ওয়ানডেও খেলেছি। সে হিসেবে উইকেট সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি।’

সেই জানা থেকে মুশফিকের অনুমান, ‘প্রথম দুদিন ব্যাটিংয়ের জন্য খুব সহায়ক হবে। আর প্রথম দিন থেকেই স্পিন ধরবে। কাজেই লড়াইটা হবে স্পিনার বনাম ব্যাটসম্যান। এখানে ধারাবাহিকতা যারা ধরে রাখবে, তারাই জিতবে।’ এই টেস্ট নিয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা আসলে কী? কেউ তো আর স্বেচ্ছায় হারতে চায় না। তবে টেস্টে ড্রয়ের রাস্তাও খোলা থাকে। মুশফিক জানালেন, ‘সেশন বাই সেশন খেলতে হবে। নিশ্চয় জানেন, ভারত শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে ভালো খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা কোণ পর্যায়ে আছি সেটাও বোঝানো যাবে। বিশেষ করে টেস্টে। অনেক কিছুরই প্রমাণের আছে। ইনশা আল্লাহ কাল থেকে যেন সেটা শুরু হয়।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দর্শক-সমর্থকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মুশফিকের প্রত্যাশা, তীব্র গরম উপেক্ষা করে প্রচুর দর্শক মাঠে আসবে দলকে সমর্থন দিতে, ‘তাদের সমর্থনেই আমরা এ পর্যায়ে এসেছি। আশা করছি, ফতুল্লায় অনেক দর্শক হবে। এই গরমে যদি তারা আমাদের সমর্থন করতে আসে, আশা করি সেরা খেলাটাই খেলতে পারব।’

সেই সেরাটা মানে কী? উত্তর: মাথা উঁচু করে লড়াই করা। ভারত র‍্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর দল হয়েছে তো কী হয়েছে, তাদেরও তো দিতে হবে দিন বদলের বার্তা। মুশফিকই বলছিলেন, ‘এখানে আমাদের জন্য খেলতে কষ্ট হলে ওদের জন্যও কষ্ট হবে। তারা তো আর এলিয়েন নয়!’

গত কটা মাস বাংলাদেশের অর্জন নেহাত কম নয়। সেই অক্টোবরে জিম্বাবুয়ে থেকে শুরু করে গত পাকিস্তান সিরিজ—স্বপ্নের মতোই সময় কাটছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। অবশ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ টেস্টটাই যা একটু ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে রেকর্ডটা ভালো নয়। সাত টেস্টেও একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ।
মুশফিক চাইলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টাটকা উদাহরণটাই টানতে পারতেন। সেই ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর থেকে তো তাদের হারাতে পারছিল না বাংলাদেশ। কী আসে যায় রেকর্ডে?

টেস্ট অধিনায়ক বললেন, ‘গত সিরিজে প্রথম টেস্টটা ভালো খেলেছি। দ্বিতীয় টেস্টটা পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। তবে আমরা অবশ্যই জেতার জন্য খেলব। যদি পরিস্থিতি ওভাবে না থাকে, তাহলে অন্তত ড্রয়ের চেষ্টা করব। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাদের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে। যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি, তবে আশা করি ২০টি উইকেট নিতে পারব। তবে বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। সর্বশেষ টেস্টে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। কাজেই ব্যাটসম্যানদের জন্য এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *