জলজ্যান্ত ‘মিথ্যে’৷ দেশীয় জনগণকে ‘বিভ্রান্ত’ করার অপচেষ্টা৷ আড়ালে-আবডালে নয়, একেবারে সরাসরি অভিযোগ৷ তাও আবার কার বিরুদ্ধে? স্বয়ং বারাক ওবামা৷ হোয়াইট হাউসের ‘অধীশ্বর’! পরিচয় শুধু এটুকুতেই শেষ হওয়ার নয়৷ বলা ভাল শেষ হওয়া সম্ভব নয়৷ কারণ তিনিই যে মার্কিন রাষ্ট্রপতি৷
ক্ষমতায়, প্রভাবে তো বটেই, বিশ্ব রাজনীতিক মহলে সম্ভ্রমের প্রশ্নেও যিনি জুড়িহীন৷ কিন্তু, ঠিক কী মিথ্যাচার করেছেন ওবামা? বিশ্বজনীন দাপটের প্রশ্নে নিজেই যিনি অবিসংবাদী ‘সম্রাট’– সেই তাঁকে কেনই বা নিতে হল মিথ্যাচারের ‘আশ্রয়’?
আছে, আছে৷ ‘গপ্পো’ একটা আছে৷ আর সেই ‘কাহিনী’ জানতে হলে আপনাকে পিছিয়ে যেতে হবে বছর চারেক৷ ২০১১ সালের ২ মে৷ মার্কিন সাম্রাজ্যের দম্ভ, যাঁর মারণ অভিঘাতে ধুলোয় মিশে গিয়েছিল ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সেই ওসামা বিন লাদেনকে ‘নিকেশ’ করার দিন৷ ওবামা সিংহাসনে বসার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি করে যা চেয়েছিলেন৷ ধরপাকড় নয়, ওসামার মৃত্যুই তো শুধু চেয়েছিলেন গড়পড়তা মার্কিনিরা৷ সমাজশত্রু নন, কেবল দেশের শত্রু? না, তাও তো নন৷ তা হলে ওসামা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কী ছিলেন? যথার্থই গোটা দুনিয়ার শত্রু! এই পৃথিবীকে ‘বাঁচাতে’ ওসামাকে তো মরতেই হত৷
সে না হয় হল৷ কিন্তু, মার্কিন রাষ্ট্রপতি মিথ্যে বললেন কোথায়? সম্প্রতি, আমেরিকাতেই প্রবল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ওবামা৷ একটাই কারণ, যে সে কেউ নন পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক সেমুর হার্স এক প্রতিবেদনে স্পষ্টই জানিয়েছেন, পাক সেনাবাহিনীর ভূমিকা ইচ্ছাকৃতভাবেই খাটো করতে চেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি দেশীয় জনগণকে ভুল ‘বুঝিয়েছিলেন’! ‘লন্ডন রিভিউ অফ বুকস’-এ প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদনটি৷ যেখানে হার্স চাঁচাছোলাভাবেই সমালোচনা করেছেন ওবামা সরকারের বিদেশনীতির৷ এরই পাশাপাশি, ওসামা-নিধন পর্বে নতুন করে আলো ফেলেছেন তিনি৷ স্বভাবতই প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে আসার পর রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে মার্কিন মুলুকে৷
হার্সের দাবি, কুখ্যাত জঙ্গিনেতার ধরা পড়ার নেপথ্যে পাক গোয়েন্দাদের শুধু অবদান ছিল বললে কিছুই বলা হয় না৷ রীতিমতো বড় এবং নির্ণায়ক ভূমিকাই নিয়েছিলেন ওঁরা৷ এক গোপন ডেরায় ওসামাকে ‘বন্দী’ রাখা এবং তাঁর হালহদিশ সম্পর্কে সঠিক অনুধাবন মার্কিন নৌ-বাহিনীর ‘কাজ’ অনেকটাই সহজতর করে দিয়েছিল৷২৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে এই গোপন ডেরার সন্ধান মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তরে পৌঁছে দেন এক পাক গোয়েন্দা অধিকর্তা৷
অ্যাবোটাবাদে বিন লাদেনের সেই গোপন আশ্রয়স্হল সম্পর্কে আদতে কোনও ধারণাই ছিল না মার্কিনি গোয়েন্দাদের৷ কিন্তু, তাঁদের পাক ‘কাউন্টারপার্ট’-রাই সমানে এ ব্যাপারে তথ্য জুগিয়ে গিয়েছিলেন ওবামার দেশের গুপ্তচরবাহিনীকে৷ এমনকি, সেই গোপন ডেরার চারপাশে পাক সেনারা রীতিমতো টহলও দিতে যেত রাতভোর৷ তবু, ৯৷১১-র নিন্দিত ‘খলনায়ক’-কে খতম করার পর আগ বাড়িয়ে আমেরিকার গোয়েন্দাবাহিনীকে এই ‘অপারেশনে’-র পুরো কৃতিত্বটা দিতে তৎপর হয় ওবামা প্রশাসন৷ পোড়খাওয়া সাংবাদিক সেমুর হার্সের মতে, এটাই ‘মিথ্যাচার’৷ গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা, মার্কিন জনগণের প্রতি এ এক ধরনের ‘প্রবঞ্চনাও’!
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply