দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনের মধ্যেও ইসলাম ধর্ম মতে দাম্পত্য কর্মগুলো করার মধ্যেই ধর্ম পালন করার প্রয়োজন রয়েছে। আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত মিলনে ইসলাম ধর্মের বিধান ও অনুশাসনগুলো পালন থেকে অনেকেই দূরে সরে যাচ্ছেন। বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে সিনা তার অমর গ্রন্থ “কানুন” এ বলেছেন, ‘স্ত্রী যখন নিচে থাকবে এবং স্বামী তার উপর উপুড় হয়ে থাকবে তখনই স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর ঢাকা পড়বে।’ এটাকেই তিনি সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ‘স্বামী নিচে আর স্ত্রী উপরে’ থাকার পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা বলেছেন।
হযরত আলী (রা.) এ প্রসঙ্গে অসিয়তে বলেছেন, স্ত্রী মিলনের ইচ্ছে হলে এই নিয়তে সহবাস করতে হবে যে, আমি ব্যভিচার থেকে দূরে থাকবো। আমার মন এদিক ওদিক ছুটে বেড়াবে না আর জন্ম নেবে নেককার ও সৎ সন্তান। এই নিয়তে সহবাস করলে উদ্যেশ্যও পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে। মুস্তাহাব হলো “বিসমিল্লাহ” বলে সহবাস শুরু করা। ভুলে গেলে যখন বীর্যপাতের পূর্বে মনে মনে পড়ে নেবে। সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করাও আল্লাহর রাসুলের সুন্নত। সকল ধরনের দুর্গন্ধজাতীয় জিনিস পরিহার করা উচিত। উল্লেখ্য যে, ধূমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা। কেবলামূখী না হওয়। একেবারে উলঙ্গ না হওয়া। বীর্যপাতের পর ততক্ষণাত বিচ্ছিন্ন হবে না, বরং স্ত্রীর বীর্যপাত হওয় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
ইসলামী সমাজে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে স্ত্রীর সঙ্গে মিলনের সময় দোয়া পড়া মুস্তাহাব। তারপর স্ত্রীকে আলিঙ্গন করবেন। স্ত্রী সহবাসের দোয়া:
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
(বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ্-শাইত্বানা ওয়া জান্নিবিশ্-শাইত্বানা মা রযাকতানা)। ‘আল্লাহ্র নামে। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যে সন্তান দান করবেন তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।” (সূত্র: বুখারী ৬/১৪১, নং ১৪১; মুসলিম ২/১০২৮, নং ১৪৩৪)
স্ত্রী সহবাস করার সময় নিজের স্ত্রীর রূপ দর্শন শরীর স্পর্শন ও সহবাসের সুফলের প্রতি মনো নিবেশ করা ছাড়া অন্য কোনো সুন্দরি স্ত্রী লোকের বা অন্য সুন্দরীর রূপের কল্পনা করিবে না। তাহার সাহিত মিলন সুখের চিন্তা করবেন না। স্ত্রীর ও তাই করা উচিৎ।
স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের সময় উভয়ের অসুখের সময় সহবাস করবেন না।
চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
স্ত্রীর যৌনাঙ্গের দিকে তাকিয়ে সহবাস করবেন না। এতে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়।
বিদেশ যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা বলবেন না।
নাপাক শরীরে স্ত্রী সহবাস কবেন না।
উলঙ্গ হয়ে কাপড় ছাড়া অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করবেন না।
জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস করবেন না।
পূর্ব-পশ্চিম দিকে শুয়ে স্ত্রী সহবাস করবেন না।



Leave a Reply