রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য অর্থমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দিয়েও তা আড়াল করেছেন। বাজেট বক্তৃতায় এ নিয়ে কোনো কথা তিনি বলেননি। অথচ জনগণের করের এই টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন বাড়ানো হবে। সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা আত্মসাতের কারণে মূলধনের এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি ঘটনায়ও কারও শাস্তি হয়নি।
এই অর্থের বড় অংশই যাবে কৃষি, সোনালী ও বেসিক ব্যাংকে। অথচ বাজেটের আগের দিনই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংকের ঋণ আত্মসাতের মূল হোতাকে ডাকাত বলেছিলেন। আর মূল হোতাটি হলেন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ব্যাংক থেকে সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়েছে। আর সোনালী ব্যাংকে হল-মার্ক কেলেঙ্কারির জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কারও বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোনালী ব্যাংকে হল-মার্ক, জনতায় বিসমিল্লাহ গ্রুপ আর বেসিক ব্যাংকে চেয়ারম্যান আবদুল হাই—তিন ব্যাংকের এই তিন কেলেঙ্কারিতে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে।
এদিকে, বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ না থাকলেও বাজেটের সংক্ষিপ্তসার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মূলধন ঘাটতি পূরণে তিন অর্থবছর ধরেই বাজেটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বাজেট সংক্ষিপ্তসারের অনুন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অংশে এ বরাদ্দকে ‘মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ’ নামে দেখানো হয়েছে।
বাজেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ অর্থবছরে মূলধন ঘাটতি পূরণে রাখা হয় ৩৪১ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও ওই অর্থবছর ব্যয় হয় ৫৪১ কোটি টাকা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য ৪২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও ব্যয় হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আবারও পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও শেষ পর্যন্ত খরচ হয় ৫ হাজার ৬৮ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরেও মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply