প্রোফেসরদের পপুলারিটি নিয়ে কলেজে ছাত্রদের মধ্যে একটা সার্ভে করা হয়েছে । তাতে প্রতিবারের মতোই ফার্স্ট পোজ়িশন মল্লিকা ম্যাডামের। অফ কোর্স তিনি ছেলেদের ভোট বেশি পেয়েছেন । যদিও ভোট দিতে কার্পণ্য করেনি মেয়েরাও । ম্যাডামও অবশ্য এতে অভ্যস্ত । আজও তিনি টিচার্স ডে-র থেকে বেশি গোলাপ রোজ় ডে-র দিন পান । সৌজন্যে অবশ্যই তাঁর ছাত্ররা । ছাত্রদের ভাষায় ওঁকে দেখলেই ম্যায় হু না-র সুস্মিতা সেনের কথা মনে পড়ে। ওঁকে পাশে রেখে মনে মনে অনেকেই নাকি নিজেকে শাহরুখ খানও ভেবে থাকে। ছাত্রদের মধ্যে কানাঘুষো আলোচনাও হয়, “ম্যামের বয়স কত বলতো”? অনেক যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের পর সেটা ২৯-এর উপরে কোনওদিন ওঠেনি । গত দশ বছর ধরে সবকটা ব্যাচের রেজ়াল্টই নাকি একই বেরিয়েছে ।
৪১-এর কোঠায় পা দেওয়া মল্লিকা ম্যাম কিন্তু বিষয়টা বেশ এনজয় করেন। একদিন টিউশন নিতে এসে ছাত্রী থাকতে না পেরে ম্যামের সিক্রেট জানতে চায় ৷ কাঁধের থেকে সিল্কি চুলগুলো সরিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে মল্লিকা ম্যামের স্ট্রেট জবাব, “বয়স তো একটা সংখ্যা মাত্র ৷ ওটাকে নিজের কন্ট্রোলে রাখতে গেলে আগে নিজেকে ভালোবাসতে হয় । নিজেকে ভালোবাসতে জানলেই দেখবে সবাই তোমাকে ভালোবাসছে । …আর নিজেকে কুড়ির কোটায় আটকে রাখবে কী ভাবে ? কিছুই না। জাস্ট সিম্পল কটা নিয়ম মেনে চললেই হবে ।”
সেগুলো কী কী ?
প্রথমেই বয়স হয়ে যাচ্ছে এই কমপ্লেক্সটাকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। লাইফ স্টাইলে সংযম খুব জরুরি। যে কোনও ধরনের নেশার থেকে যতটা পারবে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখবে । একমাত্র পার্টি, পিকনিকে একটু আধটু চলতে পারে। তবে সেটা যেন লিমিটের মধ্যেই থাকে।
অহেতুক স্ট্রেস বা টেনশন জীবন থেকে তাড়াতে হবে । সব সময় পজিটিভ চিন্তা করবে । তাই বলে নেগেটিভটাকেও নেগলেক্ট করবে না । সেটা শক্ত মনে ফেস করার জন্য তৈরি থাকবে । স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন বা যোগা করা জরুরি। মাসে অন্তত এবার স্পা বা বডি ম্যাসাজ করালে ভালো ।
হেলদি ডায়েটে থাকা বাঞ্ছনীয় । বয়স যত বাড়বে কারবোহাইড্রেট যুক্ত খাবার তত কমাতে হবে। খাবারে ফল, সবুজ শাক-সবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে। ছোট মাছ, ভুট্টা, ওটস্, খেজুর, কাজু, পরিমাণ মতো বাদাম, গ্রিন টি, ডার্ক চকলেটও খেতে হবে । বাইরের তেলেভাজা, ফার্স্ট ফুড, জাঙ্ক ফুড একেবারে কমিয়ে নিতে পারলে খুব ভালো হয়। কফি আর চায়ের পরিমাণ কমিয়ে দিলে ভালো । দিনে অন্তত পক্ষে ৩ লিটার জল খেতে হবে।
ওজন বাড়তে দিলে চলবে না। প্রপার ডায়েটের সঙ্গে এক্সারসাইজ়ও মাস্ট। নিয়ম করে মর্নিং বা ইভিনিং ওয়াক যেন রুটিনে থাকে । রেগুলার হেলথ চেক আপটাও জরুরি । ব্লাড প্রেশার, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল সবকিছুই কনট্রোলে রাখতে হবে ।
দিনে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম মাস্ট । ছেলেবেলার আর্লি টু বেড, আর্লি টু রাইস ফরমুলায় ফিরে যেতে হবে ।
বয়স বাড়ছে বলেই ত্বকের যত্ন নেব না, এটা কিন্তু ভুল। এখনই ত্বকের যত্ন বেশি করে নিতে হবে। ৩০-এর পর থেকেই স্কিনের টিসুগুলো আলগা হতে থাকে। নিয়মিত ফেশিয়াল, ম্যাসাজ, স্কিন টোন অনুযায়ী প্যাক লাগানো জরুরি । বলিরেখা কনট্রোল করতে নির্দিষ্ট ক্রিম পাওয়া যায় বাজারে । প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিলে ভালো ।
চুল পাকতে শুরু করলে হেয়ার ডাইয়ের বদলে ফ্যাশনেবল হেয়ার কালার ব্যবহার করা যেতেই পারে। যদিও চুলের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন । যত্ন রাখতে হবে দাঁতেরও। রেগুলার ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করাতে হবে।
সমকালীন ফ্যাশনের সঙ্গে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। তবে মর্ডান হব বলে বেমানান পোশাক পড়লাম, তা কিন্তু চলবে না । নিজেকে আদতেও সুন্দর দেখাচ্ছে কি না, সেটা আগে দেখে নিতে হবে । ওয়েস্টার্ন আউটফিটে সাবলীল না হলে, এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। ভারতীয় পোশাকেও স্মার্ট হওয়া যায় । সঙ্গে মানানসই অ্যাক্সেসরিজ় দরকার। ওয়াকিবহাল থাকতে হবে লেটেস্ট গ্যাজেটের সঙ্গে । স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, iPhone, সবকিছুর খোঁজখবর রাখতে হবে ।
আর হ্যাঁ সবচেয়ে ইমপর্ট্যান্ট কথা, মনের বয়সটা ষোলোতেই বেঁধে রাখতে হবে । বয়সটাকে মাথায় চড়তে দিলেই কিন্তু বুড়িয়ে যাবে । ওপরের নিয়মগুলো ঠিক মতো মেনে চলো । প্রত্যেকবারের জন্মদিনে কেকের ওপর থেকে ১৬ নম্বরটা কেউ বাদ দিতে পারবে না ।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply