বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের বিপক্ষে খেলায় সাকিবের অন্য ইতিহাস

Shakib-Fatullah‘সেঞ্চুরি’ করে ফেললেন সাকিব আল হাসান। দেশের মাটিতে টেস্ট উইকেট সংখ্যায় আজই ১০০-এর ঘর পেরিয়েছেন। দেশের মাটিতে তাঁর উইকেট এখন ১০৩টি। বৃষ্টি আপাতত বাগড়া দিয়েছে। বৃষ্টি বাগড়াতেই শেষ ঘোষণা করা হয়েছে তৃতীয় দিনের খেলা। তিন দিন মিলিয়ে হয়েছে মাত্র ১০৩.৩ ওভার। ৬ উইকেটে ৪৬২ করেছে ভারত। হুট করে কাল খেলার শুরুতেই ইনিংস ঘোষণা করে ফেলতে পারে ভারত। না করলে সাকিবের লাভ। ভারতের ছয় উইকেটের চারটিই তাঁর। আরেকটি উইকেট হলে ইনিংসে পাঁচ উইকেট হয়ে যাবে। আরও কয়েক ওভার হাত ঘোরানোর সুযোগ পেলে সাকিব যে পঞ্চম উইকেটটি পাবেন—এর পক্ষে বাজি ধরাই যায়।

আর সেটি পেলে তা হবে সাকিবের ১৫তমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়া। টেস্ট ইতিহাসে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পাওয়ার তালিকাটা অনেক দীর্ঘই। কিন্তু সাকিবের কৃতিত্ব হবে অন্যখানে। সাকিব খেলছেন তাঁর মাত্র ৪০তম টেস্ট। সাকিবের চেয়ে কম টেস্ট খেলে ১৫বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব আছে মাত্র তিনজনের। তিনজনই কিংবদন্তি।

সেই তিনের গল্প বলার আগে অন্য ‘দুই’য়ের গল্প শুনুন। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া কীর্তিমানদের তালিকায় চোখ বোলালে একটি জিনিস আপনি খুঁজে পাবেন। সেই তালিকায় ৫০-এর কম টেস্ট খেলে ১৫ কিংবা এর বেশিবার ইনিংস পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে মাত্র দুজনের। দুজনই ক্রিকেট ইতিহাসে সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারেই অনন্য আলোয় উজ্জ্বল।

একজন সিডনি বার্নস, উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকের শততম সংস্করণে নেভিল কার্ডাস শতাব্দীর যে ছয় সেরা খেলোয়াড়ের তালিকা করেছিলেন, তাতে ব্র্যাডম্যান, ডব্লিউজি গ্রেস, জ্যাক হবস, ভিক্টর ট্রাম্পারদের সঙ্গে ছিলেন বার্নসও। মাত্র ২৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৬.৪৩ গড়ে ১৮৯ উইকেট নেওয়া এই ইংলিশ কিংবদন্তিকে গত শতকের সেরা বোলারও বলা হয়।

অন্যজন ক্ল্যারি গ্রিমেট। নিউজিল্যান্ডে জন্ম নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রিকেটার। বড়দিনে জন্মেছিলেন বলে বলা হয়, ‘নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া সবচেয়ে বড় ক্রিসমাসের উপহারটির নাম ক্ল্যারি গ্রিমেট।’ ফ্লিপারের আবিষ্কারক গ্রিমেট স্পিন শিল্পের তূণে এনে দিয়েছিলেন অনেক তির। টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া প্রথম বোলার। বার্নসের মতো ব্র্যাডম্যানের পাশাপাশি একবার তাঁরও নাম উঠেছিল। ১৯৩১ সালে ব্র্যাডম্যান আর তিনি হয়েছিলেন উইজডেনের বর্ষসেরা খেলোয়াড়।

বুড়ো বয়সে (৩৩-এ) ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। তখন এখনকার মতো এত টেস্টও হতো না। অবশ্য খেলেছেন ৪৪ বছর বয়স পর্যন্ত। ৪৪ বছর বয়সে খেলছেন বলেই হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সেবার ৪৪ উইকেটই নিয়েছিলেন। কিন্তু এমন ফর্মের পরও তাঁকে পরের সিরিজেই বাদ দেওয়া হয়। ৩৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২৪.২১ গড়ে ২১৬ উইকেটে গিয়ে থামেন।

বার্নস ২৭ টেস্টে ২৪ বার নিয়েছিলেন ইনিংসে ৫ উইকেট। গ্রিমেট ৩৭ টেস্টে নিয়েছিলেন ২১ বার। এই দুই মহান ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের পাশে নাম লেখানোর সুযোগ তো সাকিবের থাকছেই।

কিন্তু পুরো তালিকায় এভাবে চোখ বোলালে আপনি একটু বিভ্রান্ত হবেন। যেমন এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা মুত্তিয়া মুরালিধরনের কথা ধরুন। ১৩৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৬৭ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। কিংবা দুইয়ে থাকা শেন ওয়ার্ন। ১৪৫ টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছেন ৩৭ বার। ইনিংসে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার তালিকায় মুরালি-ওয়ার্নসহ সাকিবের ওপরে আছেন ৩৫ জন। এখন তাই আমাদের জানতে হবে, এই ৩৫ জন ক্যারিয়ারে ১৫তম ম্যাচে পাঁচ উইকেট পেতে খেলেছিলেন কতগুলো ম্যাচ।

সেটা ঘাঁটতে গিয়েই পাওয়া গেল অনন্য এক তথ্য। সাকিবের চেয়ে কম টেস্ট খেলে ১৫ বার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব মাত্র তিনজনের—ওয়াকার ইউনিস, ডেনিস লিলি আর ইয়ান বোথাম। অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ার শুরু করা ওয়াকার এই কীর্তি গড়েছিলেন ২৫ নম্বর টেস্টেই।

বোথাম-লিলি দুজনই ছুঁয়েছেন ৩৮তম টেস্টে। উইকেটসংখ্যায় ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তিন স্পিনারের রেকর্ড দেখুন: ১৫ বার ইনিংসে ৫ উইকেট পেতে মুরালিকে খেলতে হয়েছে ৪২ টেস্ট, ওয়ার্নের ৭২, কুম্বলের ৫৬! সাকিব-ভক্তরা নিশ্চয়ই প্রার্থনা করবেন, এই ইনিংসেই যেন সাকিবের পাঁচ উইকেট হয়ে যায়। তা হলে তো অন্তত এই কৃতিত্বে এই ত্রয়ীর সামনে বসবে সাকিবের নাম।

শুধু স্পিনার কেন? কিংবদন্তি পেসারদের মধ্যে কেবল হ্যাডলির লেগেছিল ৪৩ টেস্ট; ইমরান খানের ৪৬, কপিল দেব আর ডোনাল্ডের ৪৭, ম্যাকগ্রার ৪৮, ওয়াসিম আকরামের ৫২ আর মার্শালের লেগেছিল ৫৩ ম্যাচ। অ্যামব্রোস-ওয়ালশ জুটি তো ঢের পিছিয়ে। প্রথমজন ৬৪তম টেস্ট গিয়ে ১৫তমবারের মতো ৫ উইকেটের দেখা পান, ওয়ালশের লেগেছিল ৯৫ ম্যাচ! শন পোলকের​ লেগেছিল ৭৩!

বল হাতে ফর্মটা ইদানীং ভালো যাচ্ছিল না। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলে সাকিব স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেছিলেন, ‘ভালো করছি না বলেই তো বোঝা যাচ্ছে আমার বোলিংটাও কত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি ব্যাটিং অলরাউন্ডার নাকি বোলিং অলরাউন্ডার—এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তবে এ নিয়ে তর্কের কোনো সুযোগ নেই সাকিবের বোলিং কতটা গুরুত্বপূর্ণ!

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ফতুল্লা থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *