রাতে ঠিক যেমন আট থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমনোর অভ্যেস, তেমনই ঘুমিয়েছেন । কিন্তু সকালে কিছুতেই চটকা ভাঙছে না । ক্লান্তি গ্রাস করেছে । আবার ডাকছে বিছানা, বালিশ, কোলবালিশ… কিছুতেই জুত পাচ্ছেন না । অফিসে গিয়েও লেপটে রয়েছে ঘুম জড়ানো চোখ । কাজে মন বসছে না । “তুক” শুনতে “তাক” শুনছেন । A-এর বদলে Z লিখে বসের চক্ষুশূল হচ্ছেন । …আর মাঝে মধ্যেই টলে পড়ছেন কিবোর্ডের উপর । খান আটেক কফি বা চা ঠেলা না দিলে আপনি কুম্ভকর্ণ হয়ে পড়ছেন যেখানে সেখানে । হাইলি প্রবলেম্যাটিক ! রাতে ঘুমের পরও কেন এমন ক্লান্তি ?
ডাক্তারি পরিভাষায় স্লিপ অ্যাপনিয়া নামের অসুখ এর জন্য দায়ী । এই অসুখে প্রবল নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাসবন্ধ হয়ে মাঝে মধ্যে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে । ভাঙা ভাঙা ঘুমের শিকার হতে হয় । ফলে কম ঘুম গোটা দিনের জন্য আপনাকে ক্লান্তিতে ভরিয়ে তোলে ৷
ওবেসিটি থাকলে বা শরীরের মেদ জমলেও সারাদিন ঘুম পায় । ক্লান্তি চলে আসে ।
টেনশন বা ডিপ্রেশন অনিদ্রা এনে দিতে পারে । …আর যদি সেই সময় ঘুমের ওষুধ হয় নিত্য দিনের সঙ্গী, তা হলে জানবেন ওধুষের প্রভাব আপনাকে ঘুমের দেশে যাওয়ার জন্য বারবার হাতছানি দেবে ।
দিনভর ক্লান্ত থাকার আরও একটা কারণ হল মদ্যপান । অ্যালকোহল চেতনাকে বশ করে নেয় । ফলে প্রচণ্ড ঘুম পায় । রাতে পুরোপুরি সেই ঘুম হয়ে ওঠে না । তাই সকালে ঘুম ভাঙার পরও গা ম্যাজম্যাজ করে । মাথায় ঝিমঝিমভাব থাকে । এককথায় যাকে বলে হ্যাঙ্গওভার !
অতিরিক্ত কাজের চাপ, স্ট্রেস থেকেও ক্লান্তিভাবে আসতে পারে । তাই ঠিকমতো ঘুমিয়েও আপনার ঘুম ঘুমভাব যায় না ।
এত ঘুম থাকলে বাকি কাজকর্ম হবে কীভাবে ? কীভাবে ঘুমপরীকে বলবেন, “এখন আসিস না !”
উপায় হ্যাজ় !
ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে । সুস্থ ডায়েটে ফিরে যান । জাঙ্ক খাবার খাবেন না ।
রোজ নিয়ম করে এক্সারসাইজ় করুন । অন্ততপক্ষে দশ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন ।
মদ্যপানকে নিজের আয়ত্তে আনুন । পারলে ছেড়ে দিন । তাতে শরীরের ক্ষতিও হবে না ।
আর সবশেষে দুশ্চিন্তাকে বলুন টাটা । দেখবেন রাতে একটা ফাটাফাটি ঘুমের পর সকালটা আপনাকে দু’ হাতে আলিঙ্গন করে সুপ্রভাত উইশ করছে !
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply