টেলিফোনে কথা বলা নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন বাংলাদেশে পার্লামেন্টের বাইরে থাকা বিরোধীদল বিএনপির নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের দু নেতার টেলিফোন কথাপোকথন ফাঁস হওয়া, এর আগে গত বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া টেলিফোন সংলাপ ফাঁস এবং অতি সম্প্রতি সিটি নিবার্চনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নিবার্চনে বিএনপি সর্মথিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার কথাপোকথনের অডিও ফাঁস হওয়ার পর থেকে মূলত বিএনপি নেতারা টেলিফোন আতঙ্কে ভুগছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এখন টেলিফোনে কোনো বলতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। দলটির অধিকাংশ নেতা এখন টেলিফোনে কোনো মতমতা দিতে ভয় পাচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র কয়েজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব কথা জানা গেছে।
বিএনপি নেতাদের মিডিয়াকে এড়িয়ে চলার কারণে সবচেয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের। কোনো বিশেষ বিষয়ে সাংবাদিকরা মতামতের জন্য বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা বলেন ফোনে বলা যাবে না। বরং বাসায় বা অফিসে আসেন।
আবার অনেক সময় অপরিচিত নম্বর দেখে বিএনপির অনেক নেতা তাদের মুঠোফোন আর রিসিভ করেন না। বাসার টেলিফোন নম্বরে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় রং নম্বর বা সংশ্লিষ্ট নেতা এখন বাসায় নেই। আবার তাদের পিএস বা এপিএস ফোন ধরে বলেন, স্যার এখন ব্যস্ত, নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ( কিন্তু দেখা যায় ওই সময় কোনো নামাজের সময় থাকে না বা ছিল না ), আবার আইনজীবি নেতাদের সহকারীরা বলেন, স্যার এখন কোর্টে তাই পরে ফোন করেন। নেতাদের ফোন না ধরার কারণে অনেক সময় বিএনপি সংশ্লিষ্ট সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না সংবাদ মাধ্যম কর্মীদের।
এমন অভিযোগ বিএনপি বিটে দায়িত্ব পালন করা অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম কর্মীর। তাদের অভিযোগ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমনিতে মোবাইল ফোন ধরেন না। যদিও বা ধরেন তারপর তিনি বলেন, আমি ফোনে কোনো কথা বলবো না, বলে রেখে দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহর সঙ্গে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ফোনে এব্যাপারে কথা বলবো না বরং আপনার প্রয়োজন হলে আমার বাসায় আসেন চায়ের দাওয়াত রইল। তারপর বসে কথা বলা যাবে।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফোন রিসিভ করলেও কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এছাড়া তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান তার মুঠোফোন বাজলেও তিনি সচরাচর ফোন রিসিভ করেন না। যদিও কোনো সময়ে ফোন ধরেন তাহলে তিনিও তার বাসায় চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে থাকেন। তবে অধিকাংশ সময়ই তিনি ফোন রিসিভ করেন না।
একই রকম অবস্থা বিএনপির প্রায় অধিকাংশ নেতার ক্ষেত্রে। এব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বলেন, ফোনে কথা বলা এখন আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। অনেক সময় কিছু স্বার্থনাস্বী হীনমন্য লোক এগুলো ফাঁস করে দেয়। আবার অনেক সাংবাদিক আছেন যারা ফোনে কথা বলার পর যা বলেছি যে বিষয়ে কথা হয়েছে তা না লিখে অন্য একটি কথা লিখে দেন। তবে এটা সব সাংবাদিক করেন তা আমি বলছি না। কেউ কেউ এমনটা করে থাকেন। এসময় তিনি একটি অনলাইন প্রত্রিকার নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব কারণে আমরা যারা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে রয়েছি তাদের ফোনে কথা বলাটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply