ডিম্পল বরা, নয়াদিল্লি থেকে॥
ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা না করার কারণ ব্যাখ্যা করার এর আগে বহুবার সুযোগ পেলেও খালেদা জিয়া তা খোলাসা করেননি। প্রায় দুই বছর পর তিনি এই প্রশ্নের জবাবে ‘সত্যি কথা’ বললেন। এছাড়াও মোদির সঙ্গে সাক্ষাত না করতে হাসিনা সরকারের প্রচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। এসব তিনি বলেছেন ভারতের পত্রিকা সানডে গার্ডিয়ানের কাছে। সাপ্তাহিক ওই পত্রিকার সাংবাদিক সৌরভ স্যান্যালকে থালেদা জিয়া সাক্ষাৎকার দেন ৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে তার দফতরে। সেদিন বিকেলই তিনি ঢাকা সফরে যাওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে দেখা করেন। সানডে গার্ডিয়ানের সম্পাদন বিজেপির মুখপাত্র এম জে আকবর।
মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়ার দেখা হওয়া নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোদির সফরের আগেরদিন পর্যন্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়। হাসিনা সরকার বলছিল দেখা হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু বিএনপির তরফ থেকে বলা হচ্ছিল সাক্ষাৎ হবেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসলে বিএনপির তরফ থেকে বিজেপি তথা মোদি সরকারের কাছে তদবির করা হচ্ছিল যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। কারণ, এর কিছুদিন আগেই ঢাকা সফর করে যাওয়া চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রটোকলের কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেননি। যা বিএনপি শিবিরে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছিল। সবমিলিয়ে বিএনপি চাইছিল যে কোনো মূল্যেই হোক তারা যেন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বসতে পারেন।
সূত্রের খবর, ঢাকা থেকে বিজেপির সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগের জন্য আসলে বেশ কয়েক বছর হলো এম জে আকবরের সঙ্গে একটি সম্পর্ক রেখে চলেছে বিএনপি। এর আগে বিজেপি সরকার গঠনের কয়েকদিন পর এম জে আকবর ঢাকা এসেছিলেন। সেসময় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এম জে আকবর বিএনপির কয়কেজন নেতার সঙ্গে বৈঠকও করেন। কংগ্রেস বিরোধী অবস্থানে থাকায় বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে এম জে আকবরের সঙ্গে সম্পর্ককে বিএনপি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে দেখে।
সূত্রের দাবি, এম জে আকবর নিজেও বিএনপির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি দেখান। এবার মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাই বিএনপি স্বাভাবিকভাবেই এম জে আকবরের পরামর্শ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই- এই কথাটি এম জে আকবর দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বকে বোঝানোরও চেষ্টা করেন। সেই অনুযায়ী যোগাযোগের মাধ্যমেই ৭ জুন খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। আর এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এম জে আকবরের সম্পাদনায় ২০১০ সাল থেকে প্রকাশ হওয়া সাপ্তাহিক সানডে গার্ডিয়ান-কে ‘এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ’ দেন খালেদা জিয়া।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশে প্রেস ব্রিফিং ছাড়া খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবে দেশের কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন না। বিদেশি গণমাধ্যমেও তার সাক্ষাৎকার বিরল। সর্বশেষ ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি-কে টেলিফোনে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এরপর সানডে গার্ডিয়ানকেই তিনি সাক্ষাৎকার দিলেন। যা নিয়ে আসলে বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনার জন্ম হয়েছে। কারণ, খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকারের জন্য প্রায় প্রতিনিয়তই ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম যোগাযোগ করে; কিন্তু সফল হয় না। এই প্রেক্ষাপটে এম জে আকবরের সাপ্তাহিক পত্রিকাটিতে সাক্ষাৎকার কিছুটা আলোচনার জন্ম দেবে বৈকি।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি,
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
সানডে গার্ডিয়ানে খালেদার সাক্ষাৎকার পড়ুন: জীবনের হুমকি ছিল, তাই প্রণবের বৈঠকে যাইনি



Leave a Reply