বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মহিলা পুলিশকে গণধর্ষণের হোতা পুলিশ কর্মকর্তা পলাতক

Women-Police-Rapedমহিলা পুলিশকে তিন জন বন্ধু সহ অজ্ঞান করে সারারাত ধরে ধর্ষণে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা কলিমুর রহমান লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তিনদিন আগে বাড়িতে ডেকে এনে প্রাক্তন স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। সে যে থানায় চাকরি করে, সেখানকার ওসি তাই শুক্রবার ও শনিবার মামলা নিতেও গড়িমসি করে। পরে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করলে শনিবার রাতে মামলা গ্রহণ করে। এরইমধ্যে আসলে কলিমুরকে পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা নিতে গড়িমসিতেই লাপাত্তা হওয়ার সুযোগ পেয়েছে ধর্ষণের হোতা কলিমুর।

‘গণধর্ষণের’ শিকার তুরাগ থানার নারী পুলিশ কনস্টেবলের ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, ‘রবিবার দুপুরে তার ফরেনসিক টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে এ নারী পুলিশ সদস্য কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। আবোল-তাবোল বকছেন।’ তাই সোমবার তাকে মানসিক চিকিৎসক দেখানো হবে বলেও জানালেন বিলকিস বেগম।

গণধর্ষণের শিকার হওয়া পূলিশ কর্মী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তুরাগ থানার একজন কনস্টেবল। আর ধর্ষকের নেতৃত্ব দেওয়া মেটোপলিটন পুলিশের খিলগাঁও থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হলেন কলিমুর। এদের মধ্যে কয়েকমাস আগে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তিনবছরের সন্তানটি থাকে বাবার কাছে। এই সন্তানকে দেখতে প্রাক্তন স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার পর চেতনানাশক ওষুধ দিয়ে ওই মহিলা পুলিশ কর্মীকে অজ্ঞান করে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। ওই ধর্ষক নিজে টেলিফোন করে মহিলা পুলিশ কর্মীকে বাসায় নিয়ে যায় সন্তানকে দেখানোর জন্য।

তুরাগ থানার নারী পুলিশ কনস্টেবলকে গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার সাবেক স্বামী খিলগাঁও থানার এএসআই কলিমুর রহমানকে প্রধান আসামি করে  মামলা দায়ের করার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। নির্যাতিতার বোন বাদি হয়ে শনিবার ১৩ জুন রাতে খিলগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি দায়েরের পর থেকে সে পালাতক রয়েছেন।

খিলগাঁও থানার ওসি জিয়া মোস্তাফিজ ভুঁইয়া জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে এএসআই কলিমুর পলাতক আছেন। তাকে ধরার জন্য জোর তৎপরতা চলছে। কলিমুর রহমান ছাড়াও অজ্ঞাত আরো তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গত ১০ জুন গণধর্ষণের শিকার হন ওই নারী কনস্টেবল। ঘটনার পর তার বড় বোন খিলগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোন জানান, ধর্ষণের শিকার ওই নারী সদস্য তুরাগ থানায় কর্মরত। গাইনি সমস্যার কারণে গত ১০ জুন রাজারবাগ পুলিশ লাইনে তিনি চিকিৎসা নিতে যান। তখন তার সাবেক স্বামী পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক কলিমুর রহমান কৌশলে তাকে হাসপাতাল থেকে তিলপাপাড়ার ৮৬/৩ নম্বর বাসায় নিয়ে যান। এরপর রাতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার তিন বন্ধু মিলে তাঁকে রাতভর গণধর্ষণ করেন।

ওই নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোনের দাবি, গণধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ওই বাড়ির মালিকের সহায়তার ১১ জুন তিনি বেরিয়ে আসেন। এরপর পরিবারের সবার কাছে বিষয়টি জানান। এর মধ্যে কী করা যায়, তা ভাবতে একদিন চলে যায়। পরে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পরীক্ষা করা হয়। তবে পুলিশ মামলা নিতে কালক্ষেপনের কারণে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ধর্ষণের আলামত নারী দেহে থেকে যায়।

গণধর্ষণের শিকার নারী পুলিশ সদস্যের বড় বোন জানান, চার বছর আগে পুলিশের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ধর্ষিতার বিয়ে হয়। দুই বছর আগে তাদের এক সন্তানও হয়। কিন্তু পারিবারিক কলহের জেরে বছরখানেক আগে স্বামী তাকে তালাক দেন। এরপর তিনি তার ওই সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। এই মামলার জেরেই ওই মহিলা পুলিশ কর্মীকে গণধর্ষণ করা হতে পারে বলে ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

    মহিলা পুলিশ গণধর্ষণের আরও সংবাদ: 

    ১. মহিলা পুলিশ কর্মীকে চারজনে মিলে গণধর্ষণ

    ২.  অজ্ঞান করে গণধর্ষণ মহিলা পুলিশকে: ধর্ষণের পরীক্ষা

    ৩. গণধর্ষণের শিকার মহিলা পুলিশের সঙ্গেও পুলিশের সেই পুরনো খেলা

 

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *