বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মোবাইল ফোনে বিস্ফোরণ, কিশোরের মৃত্যু মুম্বাইয়ে

Phone-Blast-Died-Newsworldbdভারতের মুম্বাইয়ে স্মার্ট ফোন বিস্ফোরণে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর নিয়ে সোরগোল চলছে উপমহাদেশের ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

ফোন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন লাগার কথা আমরা অনেকেই শুনেছি। কিন্তু এবার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যুর খবর গোটা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৫ জুন নাবি মুম্বাইয়ের এক সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ হওয়া ছেলে ফোনে চার্জ অবস্থায় কথা বলার সময় বিস্ফোরণ হয়। এতে তার মাথায় প্রচণ্ড শক লাগে এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তার মৃত্যু হয়। ফেসবুকের একটি পোস্টে তার ছবি সহ ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টটি গত দুইদিনে পনের হাজারের বেশে শেয়ার হয়েছে এবং লাখ ছাড়িয় লাইক পড়েছে। যদিও বিস্তারিত কোনো বিবরণ ওই পোস্টটিতে নেই তবুও এর মন্তব্যকারীরা কেউই ঘটনার সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।

যাই হোক, ফোন ব্যবহারকারীরা নিশ্চয়ই এই ধরনের খবর মাঝে মধ্যেই পেয়ে থাকেন। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে সাত বছর বয়সী এক বালক। বিজিআর ইন্ডিয়া জানায়, চীনা একটি মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া অবস্থায় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ওই বালকের মৃত্যু ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া ওই বালক মোবাইল ফোনটির কাছে শুয়ে ছিল। এই সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে বালকের শরীর ঝলসে যায়। তার চিৎকার পরিবারের অন্য সদস্যরা সেখানে এসে আগুন নেভায় এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে চীনে এলজির জি৩ স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ফলে পুড়ে যাওয়া বিছানার চাদর ও ফোনটির পোড়া অংশের ছবি এরই মধ্যে অনলাইনে সাড়া জাগিয়েছে। ঘটনাটি নিউজ ও কনটেন্ট শেয়ারিং কমিউনিটি রেডিটে প্রথম প্রকাশিত হয়।

রেডিটের ওই পোস্টে পোস্টদাতা দাবি করেছেন, এই ফোনটি আমার বোনের। সে বিছানার ওপর ফোনটি রেখে তা চার্জ দিচ্ছিল। হঠাৎ করেই ফোনটি বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে বিছানার তোশক বা ম্যাট্রেস ফুটো হয়ে যায়। অবশ্য এ বিস্ফোরণে কেউ আহত হননি সেটাই রক্ষা। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, আসল চার্জার বা ব্যাটারি ব্যবহার না করায় এটা হয়েছে কিংবা কেউ হয়তো ভাববেন বালিশের বা কোনো কিছুর নিচে ফোন চাপা পড়ায় এ রকম ঘটেছে। চার্জ দেওয়ার সময় বালিশের নিচে ফোন চাপা পড়লে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেডিটের ওপি নামের ওই পোস্টদাতা দাবি করেছেন, তাঁর বোনের ব্যবহৃত ওই স্মার্টফোনের ব্যাটারি, চার্জার সবই আসল ছিল। এমনকি ফোনটি চার্জ দেওয়ার সময়ও তা স্বাভাবিকভাবে বিছানার ওপরই রাখা ছিল। এটা তাই কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে। দুর্ঘটনার সময় ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায়। তার ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে আমরা ম্যাট্রেস জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিই।

এর আগে গতবছরের আগস্ট মাসে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিমান আকাশে ওড়ার আগমুহূর্তে এক যাত্রীর আইফোন ৫-এ আগুন লাগে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কিশোরীর পকেটে থাকা আইফোন ৫সিতে আগুন লেগে পা পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও শোনা যায়।

শুধু অ্যাপল নয়, গত বছরের জুলাই মাসে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস৪ স্মার্টফোনে আগুন লেগে বিছানা-বালিশ পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

সতর্ক থাকুন:
বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকদের পরামর্শ হচ্ছে— এ ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত নকল ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহার করলে ঘটতে পারে। তাই ব্যাটারি ও চার্জার ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। ফোন চার্জ দেওয়ার সময় গেম খেলা বা ফোন অতিরিক্ত গরম হয় এমন কাজ করা উচিত নয়। ফোন অধিক তাপযুক্ত কোনো স্থানে রাখা উচিত নয়। এছাড়া সারারাত ধরে ফোনে চার্জ দেওয়াও উচিত নয়। ফোনে যেন জল বা পানি লেগে শর্টসার্কিট না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। স্যামসাং কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ফোনে চার্জ দেওয়ার সময় কিংবা অন্য কোনো অবস্থায় ফোন ঢেকে রাখা বা বিছানার নিচে রাখা উচিত নয়। বাতাস চলাচল করে এমন উন্মুক্ত স্থানে ফোন রাখা উচিত। স্যামসাংয়ের ব্যবহার বিধিমালায়ও এই সতর্ক বার্তা দেওয়া রয়েছে।

আসলে ফোন বিস্ফোরিত হোক না না হোক, সতর্কতা সবাইকে মেনে চলাই উচিত।

টেকনোলজি ডেস্ক, কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

এই বিষয়ে জানতে আরও পড়ুন: ফোন চার্জের কিছু সতর্কতা

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *