বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে অস্ট্রেলিয়ায় দণ্ডিত টিভি সাংবাদিক সোহেল

TVপৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় আটক বাংলাদেশি দুই ক্রীড়া সাংবাদিকের একজনকে অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা ও সাজা গুণতে হচ্ছে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক সোহেল রহমানকে। তকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা, অনাদায়ে ৪৫০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রমের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোহেল একটি সস্তার ‘চিতকাত’ হোটেলে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ায় যৌন অপরাধীদের তালিকায়ও উঠে গেছে সোহেলের নাম। এর ফলে সোহেল আর কখনও অস্ট্রেলিয়া যেতে পারবে না।

অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন স্টেশনের ক্রীড়া সাংবাদিক রহমান পিয়ারকে মঙ্গলবার সিডনির একটি আদালত খালাস দেয়। অবশ্য অভিযোগকারীরা অস্ট্রেলিয়ায় না থাকায় পিয়ারের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ আদালতে দাখিল করতে পারেনি সিডনি পুলিশ। তবে সোহেলের বিরুদ্ধের অভিযোগকারীনি অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে গেলেও পুলিশের কাছে তথ্য প্রমাণ দিয়ে যান।

খালাস পাওয়া সোহেলের বিচার হয় সিডনিতে, আর সোহেলের বিচার চলে মেলবোর্নে। পৃথক ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া এসে গ্রেপ্তার হন এশিয়ান টিভির মো. সোহেল রহমান।

মঙ্গলবার সিডনির আদালত জানায়, সরকারপক্ষ পিয়ারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। তাকে অযথা আটক রেখে হয়রানি করা হচ্ছে। বিমানে একজন কোরীয় কিশোরী তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়ের সঙ্গে হয়রানির অভিযোগে সিডনি বিমানবন্দরে আটক হয়েছিলেন পিয়ার।

সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ‘ব্যাকপেকারে’ এক কানাডীয় ছাত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং পাসপোর্ট জব্দ করে নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে ছেড়ে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার ‘ব্যাকপেকার’ নামে এই কমদামি হোটেলগুলো মূলত পর্যটকদের পছন্দ। বহুতল শয্যার এসব হোটেলের কক্ষে একসঙ্গে পুরুষ-নারীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

এশিয়ান টিভির সাংবাদিক সোহেল রহমানের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টিভি কর্তৃপক্ষ জানায়, সোহেল তাদের জানিয়েছিলেন পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ায় তিনি আটকা পড়েছেন।

মেলবোর্নের আদালত জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে সোহেলের বিচার শেষ হয়েছে। তবে অভিযোগকারী দেশে ফেরত যাওয়ায় রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অপরাধের সাজা হিসেবে আদালত সোহেলকে ২০ হাজার ডলার জরিমানা, অনাদায়ে ৪৫০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাশ্রমের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই স্বেচ্ছাশ্রম সোহেল করতে পারবেন সপ্তাহে মাত্র দুই ঘণ্টা। এতে তার দণ্ড শেষ হতে ৪-৫ মাস লেগে যেতে পারে। এই দণ্ড শেষে পাসপোর্ট ফেরত পেলে দেশে ফিরতে পারবেন সোহেল।

ভিসা বাতিল হওয়ায় মুক্তি হয়নি পিয়ারের: আদালত থেকে পিয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও ভিসা বাতিল থাকায় মঙ্গলবার মুক্তি পাননি পিয়ার। এ বিষয়ে পিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আইনজীবী তাকে জানিয়েছেন আদালত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। আদালতের আদেশসহ মঙ্গলবার ইমিগ্রেশন বিভাগকে লিখেছেন তার আইনজীবী। এতে তার ভিসা বহালের অনুরোধ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পিয়ারের ভিসা বহাল করলে তিনি মুক্তি পাবেন। অথবা তাকে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার থেকেই সরাসরি বাংলাদেশগামী কোনো বিমানে তুলে দেওয়া হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার কারাগারগুলোকে ‘ডিটেনশন সেন্টার’ বলা হয়ে থাকে। এসব ডিটেনশন সেন্টারে আটক বন্দিরা মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পান। আটকরা ইন্টারনেট সেবাও পান এসব সেন্টারে।

বিশ্বকাপ কভার উপলক্ষে সিডনি আসার পথে বিমানে দক্ষিণ কোরীয় এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে সিডনিতে আটক করা হয় মো. গোলাম রহমান ওরফে রহমান পিয়ারকে।

অভিযোগকারী মেয়েটি তাইকান্দো ক্রীড়াদলের সদস্য ছিলেন। এক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে দলের সঙ্গে কোচের নেতৃত্বে তিনি সিডনি আসছিলেন।

ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভিসা বাতিল হওয়ায় জামিন পেলেও মুক্তি দেওয়া হয়নি পিয়ারকে। অভিযোগকারিনী কোরীয় তরুণী ও সাক্ষীদের সবাই কোরিয়া চলে যাওয়ায় পিয়ারের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে হাজির করতে পারেনি।

মিডিয়া ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *