বাংলাদেশের রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে মিট নিউ বাংলাদেশ স্লোগানে তিন দিনব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি মেলা আইসিটি এক্সপো-২০১৫। সোমবার মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বুধবার ১৭ জুন অর্থমন্ত্রী মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। তবে শুধু আমদানিনির্ভর পণ্যের মেলা, বিদেশী প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র ব্র্যান্ডিং, সার্বিক অব্যবস্থাপনা, পরপর দুটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মেলার আয়োজনসহ নানা কারণে প্রযুক্তি মেলাটি অর্থহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেলায় অগত দর্শনার্থী এবং এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। একসঙ্গে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির এটি ২১তম মেলার আয়োজন। সে হিসাবে এ মেলায় দর্শনার্থীদের একটি গতানুগতিক মেলা উপহার দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন অনেকেই।
মিট নিউ বাংলাদেশ-এ নেই বাংলাদেশ! : মেলার স্লোগান করা হয়েছে মিট নিউ বাংলাদেশ। কিন্তু মেলায় মূলত অংশগ্রহণ করেছে বিদেশী হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠান। এমনকি মিট নিউ বাংলাদেশ মেলায় সব স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদেশী। ফলে অনেকেই এটাকে স্লোগানের সঙ্গে কাজের মিল নেই বলে উল্লেখ করেছেন।
আইসিটি ডিভিশন ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় নেই! : সকারের প্রায় সব মন্ত্রণালয়ে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এসব কিছু দেখাতে মেলায় সরকারের ১০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় তাদের সেবা প্রদর্শন করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম দিনে আইসিটি ডিভিশন ছাড়া সরকারের আর কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কার্যক্রম দেখা যায়নি।
গতানুগতিক মেলা : মেলায় নতুন কিছু নেই। সবই গতানুগতিক। বাজারের গতানুগতিক পণ্যে ঠাঁসা রয়েছে স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলো। প্রযুক্তি শিল্পকে তুলে ধরা যদি এ মেলার প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে তা দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা। তারা বলছেন, নানা ব্র্যান্ডের কম্পিউটার, ল্যাপটপে ছাড়, অফারের মেলা তো সারা বছরই হয়ে থাকে। মেলায় যা দেখেছি, এসব দোকানেও পাওয়া যায়। তবে উন্নত দেশের বাজারগুলোতে যেসব প্রযুক্তি দেখা যায়, আমাদের প্রযুক্তি মেলাতে সেসব কখনোই পাই না। ফলে এ মেলাতে ব্যতিক্রম কিছু দেখছি না।
সেমিনারে আলোচকদের অনেকেই অনুপস্থিত : প্রথম দিনে মেলায় অনুষ্ঠিত দুটি সেমিনারও হয়েছে দায়সারা গোছের। বিআইসিসির মিডিয়া বাজার মিলনায়তনে ডিজিটাল হেলথ কেয়ার শিরোনামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে নির্ধারিত আলোচকদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি মেলা প্রাঙ্গণে যে প্রযুক্তি বিষয়ে দুটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো ঘোষণাই ছিল না আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
ইনোভেশন জোনে নেই নতুন উদ্ভাবন! : মেলায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়ের একটি ইনোভেশন জোন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই ইনোভেশন জোনে যা প্রদর্শন করা হচ্ছে তার অধিকাংশই সাম্প্রতিক কোনো উদ্ভাবন নয়। পুরনো উদ্ভাবন এখানে ঠাঁই করে নিয়েছে।
ওয়াই-ফাই বিড়ম্বনা : মেলা প্রাঙ্গণ ফ্রি ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সেবার আওতায় থাকলেও এর দুর্বল গতির কারণে এ সুবিধা নিতে পারছেন না ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। নামেই এটাকে ফ্রি ইন্টারনেট বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।
প্রতিযোগিতায় আগ্রহ কম : আইসিটি এক্সপোতে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে উদ্ভাবনী প্রকল্প চ্যাম্পিয়নশিপ, ডিজিটাল ফটো প্রতিযোগিতা, সেলফি ও গেমস প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ার মতো নেই। এগুলোর মধ্যে গেমস প্রতিযোগিতা ছাড়া অন্যগুলোতে তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি।
পরপর দুটি রাষ্ট্রীয় মেলার পার্থক্য কি? : মেলায় আগত নীতিনির্ধারক পর্যায়ের প্রায় অনেকের কাছেই বলতে শোনা গেছে, পরপর দুটি (ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এবং আইসিটি এক্সপো) রাষ্ট্রীয় মেলার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? বরং অনেকেই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের চেয়ে এবারের মেলাকে খুবই নগণ্য বলছেন। তবে মেলা কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীদের উৎসাহী করার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তারা নিজেরদের প্রতিবন্ধকতার কথা স্বীকার করেছে।
এটা আসলে কম্পিউটার সোর্সের মেলা : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এ প্রতিবেদককে বলেছেন, এবারের কথিত মেলা আসলে কম্পিউটার সোর্সের মেলা বললেই ভালো হতো। কারণ বাংলাদেশে যেসব বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেলার আয়োজক কম্পিউটার সমিতির সভাপতির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্স ব্যবসা করছে, মূলত তাদের আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বাকি যারা আছেন তারা আইডিবি বা মাল্টিপ্ল্যানের খুচরা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিক্রেতা।
সরকারের টাকা খরচের মেলা আইসিটি এক্সপো : সবকিছু ছাপিয়ে অনেকেই বলেছেন, শেষ অর্থবছরে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে যে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে সেই টাকা খরচ করার জন্যই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। যেভাবে প্রচার-প্রচারণা করে গর্জন তোলা হয়েছিল সেভাবে এর অর্জন চোখে পড়ার মতো কিছু ছিল না।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply