বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দুইটি হাতি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের ঝামেলা

Hailakandi-Elephantমনজুর আহমদ বড়ভূঁইয়া, শিলচর (আসাম) থেকে॥
‘ফুলকলি’ ও ‘পোল আনোয়ার’ নামের দুইটি স্ত্রী হাতি নিয়ে ঝামেলায় পড়েছেন ভারত ও বাংলাদেশ। আসলে মাদী ওই দুইটি হাতির মালিকানার নিয়ে চলছে টানাটানি। এর মীমাংসা করতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরাও। বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের মোকলেস রহমান ও ভারতের আসামের হাইলাকান্দির মাজমুল ইসলাম বড়ভূঁইয়া দুইজনই নিজেদের হাতি দুটির মালিক বলে দাবি করছেন।

বাংলাদেশর মৌলভীবাজারের ভারতীয় সীমান্তবর্তী মহিষমারা গ্রামের মোকলেস রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’র কাছে জানান, গত ১৬ জানুয়ারি হাতি দুইটিকে চুরি করে ভারতের আসাম রাজ্যের হাইলাকান্দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ৪০ বছরে বয়সী পোল আনোয়ার ও বছর আটেকের ফুলকলি নামের দুইটি হাতি তার মৌলভীবাজারের মহিষমারা গ্রাম থেকে চুরি হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর ২৮ জানুয়ারি কুলাউড়া থানায় একটি এজাহার (এফআইআর) দায়ের করেন তিনি। এর পরের দিন সীমান্তের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারে কাঁটাতারের বেড়া ভাঙা অবস্থায় পান, যাতে হাতির পায়ের চিহ্ন ছিল। এ থেকে মনে হয়েছে এগুলোকে ভারতের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মোকলেস বলেন, এফআইআর দায়েরের আগে ২২ জানুয়ারি হাতি নিয়ে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার (এসপি) রাজেন সিং বলেন, হাতিটি নিখোঁজ হওয়ার কয়েক মাস পর গত সোমবার ৯ জুন রাতে পুলিশের একটি দল এগুলোকে উদ্ধার করে। হাইলাকান্দির বাসিন্দা মাজমুল ইসলাম বারভূঁইয়াও হাতি দুটির মালিকানা দাবি করেছেন। তবে এরইমধ্যে তিনজন বাংলাদেশি বৈধ নথিপত্র নিয়ে ভারতে এসেছেন এবং হাতিগুলোর মালিকানা দাবি করেন।

মঙ্গলবার ১৬ জুন হাতিগুলোকে হাইলাকান্দি আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং এ বিষয়ে আদালত একটি আদেশ দেন। এতে প্রকৃত মালিক খুঁজে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজেন সিং জানান, হাইলকান্দির মুখ্য বিচারিক হাকিম আদেশে বলেন, যেহেতু দুজন ব্যক্তি হাতিগুলোর মালিকানা দাবি করেছেন, সেহেতু প্রকৃত মালিক চিহ্নিত করতে এ বিষয়ে জোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো।

আদালত আরো বলেন, ‘যেহেতু আবেদনকারী মোকলেস রহমান বাংলাদেশের নাগরিক এবং তিনি আদালতে মালিকানা দাবি করেছেন, তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাইলাকান্দির এসপিকে বিষয়টি নিয়ে জোর তদন্তের আদেশ দেওয়া হলো। যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জব্দ হাতির মালিককে খুঁজে বের করতে হবে। দুজন ব্যক্তিই (মকলিস ও মাজমুল) নিজেদের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় যুক্তি উপস্থাপন করেছেন।’

আদালতের আদেশে আরো বলা হয়, তদন্তের নিষ্পত্তি এবং বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত হাইলাকান্দির বন বিভাগের হেফাজতে হাতিগুলোকে রাখা হবে। এগুলোর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানও করবে আসাম বন বিভাগ।

উত্তরপূর্ব ভারত প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *