দশ মিনিটেরও কম সময় ইস্কাটন-মগবাজার এলাকায় ছিলেন, আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পিনু খানের ছেলে, বখতিয়ার আলম রনি। যদিও বলা হচ্ছে যানজটের কারণে বিরক্ত হয়ে রনি রিভলবার থেকে গুলি ছুড়েছেন, মদ্যপ ছিলেন, দুজন নিহত হয়েছে কিন্তু ঘটনাস্থলে রাস্তায় কোনো যানজট ছিল না। তারপরও গাড়ির সামনে কয়েকটি রিকশা আর অটোরিকশা লক্ষ্য করে রনি গুলি চালান নির্বিচারে। গুলি বর্ষণের কোনো ছবি না পাওয়া গেলেও, চ্যানেল ২৪ এর হাতে পাওয়া একটি ফুটেজে এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সে রাতে রনির কালো প্রাডো গাড়ির চলাচল ও পালিয়ে যাবার ছবি এই ছবিতে পাওয়া যাচ্ছে।
১৩ এপ্রিল গভীর রাত অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল রাত দেড়টার কিছু পর। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, জনকণ্ঠ ভবনের সামনে, পরদিন ভোরে পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছানোর কাজ করছেন বেশ কজন। ১টা ৩৪ মিনিট, মগবাজার মোড়ের দিকে যাচ্ছে বখতিয়ার আলম রনির ব্যবহৃত কালো গাড়টি।
একটু সামনে গিয়ে দু সেকেন্ডের জন্য থামে গাড়িটি। এরপর চলে যায় মগবাজার মোড়ের দিকে। পরদিন পয়লা বৈশাখের সরকারি ছুটি। ফলে রাস্তায় দুয়েকটি ট্রাক আর সিএনজি অটোরিকশার পাশাপাশি, হাতেগোনা কয়েকটি রিকশা।
মগবাজারে বন্ধুকে নামিয়ে দিয়ে ফেরার পথে, বখতিয়ারের গাড়ির সামনে পড়ে রিকশা আর অটোরিকশা। সিসিটিভির ফুটেজে ঘটনাস্থল দেখা যাচ্ছে না। তবে, রাত ১টা ৪৩ মিনিটে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে লোকজনের চলাচল ও রনির গাড়ি দেখে বোঝা যায়। মগবাজার মোড়ের পাশে এলএমজি টাওয়ারের সামনে গুলি চালিয়ে একটি গলিতে ঢুকে পড়ে রনির গাড়ি। ছবি, সে কথাই বলছে।
সেখানে মিনিট দেড়েক থাকার পর, একটি ট্রাকের পেছন পেছন বাংলামোটরের দিকে পালিয়ে যায় কালো প্রাডো গাড়িটি। জনকণ্ঠ পত্রিকার যে সিএনজি চালক বখতিয়ার আলম রনির গুলিতে আহত হন, তার আরোহী, জনকণ্ঠের কর্মচারি আলামিন, দৌড়ে অফিসে ঢোকেন ১টা ৪৫ মিনিটে। তখনই বাংলামোটরের দিকে যায় রনির গাড়িটি।
আলামিনের কাছ থেকে শোনার পর অনেকেই বেরোন গুলির ঘটনার খোঁজ নিতে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে এসে একজন সবাইকে জানান পুরো ঘটনা। তখন জনকণ্ঠের ৪/৫ জন রওয়ানা হন ঘটনাস্থলের দিকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৩ এপ্রিল রাত পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে রনি ও তার সহযোগীরা একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম নিহত হন। নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৫ এপ্রিল রাতে অজ্ঞাত আসামিদের নামে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ ও তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার গণমাধ্যকর্মীদের জানান, রিমান্ডে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল দিয়ে গুলির কথা স্বীকার করেছেন এমপিপুত্র রনি। তিনি বলেছেন, ওইদিন মধ্যরাতে রাস্তায় যানজট থাকায় বিরক্ত হয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করেন তিনি। মদ্যপ থাকায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রাস্তায় এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়েন। নিজে জানতেনও না তার ছোঁড়া গুলিতেই দু’জন মারা গেছেন।
ঘটনার সময় রনির সঙ্গে গাড়িতে আরও তিন বন্ধু ছিলেন। ওই তিন বন্ধুকেও শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, ওই তিন বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে পুরো ঘটনাটি আরও পরিষ্কার হবে। তারই একজন কামাল মাহমুদ।
২৪ মে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। তদন্তভার পাওয়ার পর ৩১ মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে বখতিয়ার আলম রনিকে আটক করে ডিবি পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply