জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা পেতে চার্জ বা ফি কার্যকর করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, নবায়ন, তথ্য যাচাই, হারানো কার্ড উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ সংক্রান্ত পৃথক দু’টি প্রজ্ঞাপন জারির অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
প্রজ্ঞাপন দুইটির মাধ্যমে সরকারি সংস্থা ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে নাগরিক তথ্য যাচাই বা তথ্য-উপাত্ত পেতে নির্বাচন কমিশনকে ফি পরিশোধ করতে হবে। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে ফি আরোপ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। ওই সময় পর্যন্ত টাকা ছাড়াই হারানো জাতীয় পরিচয়পত্র উত্তোলন, তথ্য সংশোধনসহ অন্যান্য সেবা পাওয়া যাবে। বর্তমানে ব্যক্তিপর্যায়ে বিনামূল্যে এসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন নাগরিকরা।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন জানান, ব্যক্তিপর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে ফি সেপ্টেম্বর থেকে দিতে হবে। আর প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এখনই ফি প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে কার্যকর করা হচ্ছে।
ব্যক্তিগত ফি : জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন, হারানো কার্ড উঠানো, সংশোধনের ক্ষেত্রে এতোদিন ফ্রি থাকলেও এখন ফি দিতে হবে। জুলাইয়ে শেষ হতে যাচ্ছে ফ্রি’র দিন। পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে এসব সেবা পেতে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হবে নাগরিকদের। নয়া বিধান অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে প্রথম বার আবেদনে ২০০ টাকা, দ্বিতীয় বার আবেদনে ৩০০ টাকা ও পরবর্তী যেকোনো বার আবেদনে ৪০০ টাকা, তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে প্রথম বার আবেদনে ১০০ টাকা, দ্বিতীয় বার আবেদনে ২০০ টাকা ও তৃতীয়বার আবেদনে ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তি কর্তৃক জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে ১০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা ও জরুরিভিত্তিতে নবায়নে ১৫০ টাকা, হারানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে প্রথমবার সাধারণ আবেদনে ২০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার সাধারণ আবেদনে ৩০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ৫০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো সাধারণ আবেদনে ৫০০ টাকা ও জরুরি আবেদনে ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
যেভাবে টাকা জমা দিতে হবে : জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ফি বা চার্জ সরাসরি ব্যাংকে বা মোবাইলের মাধ্যমে জমা দেয়া যাবে। ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হলে ফি নির্দিষ্ট খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে অথবা সচিব, নির্বাচন কমিশনের অনূকুলে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দেয়া যাবে। আর মোবাইলের মাধ্যমে জমা দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত নম্বরে মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।
প্রাতিষ্ঠানিক ফি: সূত্র জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। প্রজ্ঞাপনের জন্য প্রস্তুতকৃত নথি থেকে জানা গেছে, এক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন চার্জ হিসাবে ৫ লাখ টাকা, প্রথম ৭০টি সাব ইউজারের প্রতিটির জন্য ৪ হাজার টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি সাব ইউজারের জন্য ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি তথ্য প্রতিবার যাচাইয়ের জন্য ২ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মোবাইল অপারেটর, ব্যাংকসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঠিক কি না তা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে।
অপরদিকে সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের ক্ষেত্রেও এককালীন সার্ভিস চার্জ ৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। বার্ষিক সেবা চার্জ/বার্ষিক সেবা নবায়ন চার্জ এক লাখ টাকা এবং প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত প্রতিবার সরবরাহের জন্য ১ টাকা হারে সরবরাহ চার্জ দিতে হবে।
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় পরিচয়পত্র হারানো, তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় পরিচয় অনুবিভাগ থেকে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ফি দেয়ার বিধান রেখে ইতিমধ্যে বিধিমালা জারি করা হয়। কিন্তু ওই বিধিমালায় ফি বা চার্জ আদায়ের সময়ক্ষণ নির্ধারিত ছিল না। এ সুযোগে বিনামূল্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পেয়ে আসছেন নাগরিকরা। কেউ কেউ এ সুযোগের অপব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া এ খাত থেকে সরকারের বড় ধরনের রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবায় ফি আদায় চালু করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৪-এর বিধি ৮ এবং জাতীয় পরিচয় ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত (সংশোধন যাচাই এবং সরবরাহ) প্রবিধানমালা-২০১৪-এর ১২ ধারা কার্যকর করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply