গোলাগুলির পর সীমান্ত থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি’র জওয়ান নায়েক রাজ্জাক-কে বাংলাদেশর কাছে ফিরিয়ে দিতে সাড়া দিচ্ছে না মিয়ানমার। তাকে দ্রুত মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চাওয়া হলেও তাতে গা করছে না তারা। বাংলাদেশে মিয়ানমারেরর রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্র্রদূত মিয়ো মিন্ট থানকে বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে ওই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানানো হলেও কাজ হয়নি। এমনকি সীমান্তে পতাকা বৈঠক করার প্রস্তাবেও সাড়া দিচ্ছেনা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনার পর সীমান্তে সতর্কতা আরো বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পাহারাও আরো জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকাস্থ মিায়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিজিবির সদস্যকে ফেরত চেয়েছেন। পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের সঙ্গে আমাদের বিজিবিরও বৃহস্পতিবার কয়েক দফা কথা হয়েছে। কথা বলার পর তারা আশ্বাস দিয়েছে রাজ্জাককে ফেরত দেওয়ার। তবে বৃহস্পতিবার পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে আমাদের বিজিবির চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। তারা আমাদের বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাকে ফেরত দিবে না এমন কোন আশঙ্কা করছেন? তিনি বলেন, সেই রকম কোন আশঙ্কা নেই। এমনটি আমরা চিন্তা করছি না।
ধরে নিয়ে যাওয়া বিজিবির সদস্য রাজ্জাক কোথায়, কেমন আছেন, সেটা কি আপনারা জানতে পেরেছেন- এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানতে পেরেছি তিনি মংদুতে আছেন। সুস্থ আছেন। তাকে তারা কোন নির্যাতন করেনি। করবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
এদিকে পতাকা বৈঠক না হওয়ার কারণ জানার জন্য বিজিবির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিজিবির একজন পরিচালক বলেন, রাজ্জাককে ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা কথা বলেছি। এছাড়াও আমরা তাদেরকে লিখিত চিঠি দিয়েছি যে আমাদের বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে তাদের বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে, তাদে দ্রুত ফেরত দিতে হবে। এই জন্য দ্রুত পতাকা বৈঠক করারও কথা বলা হয়েছে। ওই চিঠিতে বুধবারের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তাদেরকে চিঠি দিয়েছি বলে তারাও এবার পতাকা বৈঠক মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনা করতে চাইছে না। আমরা লিখিত চিঠি দেওয়ার কারণে তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিবেন। সেটা দেওয়ার পরই বৈঠক হবে। ওই চিঠিতে তারা জানিয়ে দিবেন কখন বৈঠক হবে। সেই বৈঠকে সব আলোচনা হবে।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, মিয়ানমারে বাংলাদেশ থেকে লিখিত চিঠি দেওয়ার কারণে বৈঠক হতে সময় লাগছে। কারণ মিয়ানমারে অফিসিয়াল কোনও চিঠি দিলে তার প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় লাগে। এই সব ক্ষেত্রে তারা অনেক ধীরগতিতে চলে। এছাড়াও এটার জন্য তাদের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে অনুমতি নিতে হয়।
বুধবার ১৭ জুন টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদীতে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীদের গুলিতে বিজিবির সিপাহি বিপ্লব আহত হন। তখনই ধরে নিয়ে যায় নায়েক রাজ্জাককে।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply