বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রাথমিকের ৫০ হাজার বৃত্তির মধ্যে ৩০ হাজার কারচুপি

Primary-Scholarshipপ্রাথমিক স্কুল সমাপনীর মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য। প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই ভবিষ্যতে আরো ভালো করেন। কিন্তু এবার সারাদেশে ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া বৃত্তির মধ্যে ৩০ হাজার নিয়েই কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমাপনী-এবতেদায়ীর প্রায় ৩০ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করেছে।  মূলত জেলাভিত্তিক খাতা মূল্যালয়ন ও কম্পিউটারে এন্ট্রি করাতেই এই অনিয়মের সুযোগ পেয়েছেন অসাধু কর্মকর্তারা।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম ও খামখেয়ালি, ডাটা এন্ট্রিতে দুর্নীতি, কর্মকর্তাদের স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের ফলে এসব মেধাবী বৃত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ জেলা শিক্ষা অফিসের পাশাপাশি ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে (ডিপিই) জমা পড়ে। এদের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন ডিপিই কর্মকর্তারা। এরইভিত্তিতে তদন্ত শেষে সন্দেহভাজন জেলা শিক্ষা অফিসার, শিক্ষক-কর্মচারী ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ডিপিই সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিপিই মহাপরিচালক মো. আলমগীর। তার দফতরে আলাপকালে জানান, অনেক অভিযোগ পেয়েছি, তবে এই সংখ্যা ৩০ হয়তো হাজার হবে না। আর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। আরও বেশকিছু তদন্ত চলছে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় উৎসাহী করতে সমাপনী-এবতেদায়ী ফলাফলের ভিত্তিতে ২০০৯ সাল থেকে মেধাবৃত্তি ও কোটাবৃত্তি চালু করা হয়। এসব কেটাগরিতে প্রতি বছর সারাদেশের ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। খাতা মূল্যয়নকারী শিক্ষক, প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনিয়ম আর দুর্নীতি প্রমাণে শিক্ষা মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ভোলা লালমোহন উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে চাকরিচ্যুত ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন, চুয়াডাঙ্গার উপজেলা শিক্ষা অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আলী আকবরসহ একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত ও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র জানান, ঢাকায় মিরপুর মডেল একাডেমি স্কুলের সকল শিক্ষার্থী বাংলা বিষয়ে আশানুরুপ ফল না হওয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুভাশিষ কুমার বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে সেসব খাতা পূণরায় মূল্যয়ন করে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া যায়। অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় অধিদপ্তর ডেমরা করাতিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মোছা. সামছুর নাহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৭টি বিভাগের খাতা মূল্যয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে মন্ত্রণালয়। কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

কক্সবাজার রামু উপজেলার ফুলপুর ডালিয়া আর্দশ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার সুমি, মাদারিপুর শিপচরের রহিমা আজিজ কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের দেলোয়ার হোসেনসহ একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক অভিযোগ করেন, ক্লাসে সর্বোচ্চ মেধাবী এবং জিপিএ-৫ পেলেও তাদের বৃত্তি দেয়া হয়নি। অথচ অনেক কম জিপিএ পেলেও অন্যদের বৃত্তি দেয়া হয়েছে। তারা জানান, অধিকাংশ বৃত্তি কোটা ভিত্তিক দেয়ার কথা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মনোনিত শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা অনিয়মের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা ভিত্তিক খাতা মূল্যয়ন হওয়ায় অসাধু ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে বিভিন্ন অনিয়ম করছেন। কর্মকর্তারা স্বজনপ্রীতি করে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তি সুবিধা করে দিচ্ছে বলেও জানান।

এসব অভিযোগ স্বীকার করে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লে­খ্য, এবার ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৩ জন এ পরীক্ষায় শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। তার মধ্যে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ জন জিপিএ-৫ পায়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *