ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ হলেও অর্থনৈতিকভাবে একেবারে পঙ্গু হয়ে যেতে বসেছে গ্রিস। গত কয়েকবছর ধরেই দেশটির অর্থনীতি দুর্বল হচ্ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে একাধিকবার গ্রিসের অর্থনীতির কোমর সোজা করার জন্য ‘বেইল আউট’ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এবার সর্বশেষ গ্রিসের মানুষজন নিজেরাই গ্রিসের তহবিল শূণ্য করে দিতে চলেছে। এমন চলতে থাকলে গ্রিসকে ইউরো জোন থেকে সরিয়ে দিতেও কুণ্ঠিত হবেন না ইউরোপীয় নেতারা। ভোটাভুটি করে হলেও তারা গ্রিসকে ইউরোপীয় অঞ্চলের জোটে রাখবেন না।
কারণ কী?
গ্রিসে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে দুইশ কোটি ইউরো তুলে নিয়েছেন গত তিনদিনে। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে নগদ অর্থ আছে কিনা সেটা নিয়ে দেশটিতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গ্রিসে ঋণ সঙ্কট সমাধানের সময় পেরিয়ে আসছে দেখে সঞ্চয়কারীরা ব্যাঙ্ক থেকে তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন। ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে গ্রিক সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক দাতাদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটিতে এই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কগুলোকে আরো কিছু জরুরী অর্থ ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আই এম এফের ঋণ পরিশোধের জন্যে আর মাত্র দু’সপ্তাহের মতো সময় আছে গ্রিসের হাতে। সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে ইউরোজোন এবং সম্ভবত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকেও বেরিয়ে যেতে হবে।
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস বলছেন, এই সঙ্কটের ইতিবাচক সমাধানের চেষ্টা করছে তার সরকার। তিনি আশা করছেন, শেষ পর্যন্ত তার দেশ ইউরোজোনেই অবস্থান করবে। তবে তার সরকার ও জনগণ গ্রিসের সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
আইএমএফ, ইউরোপিয়ান কমিশন এবং ইউরোপিয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বলছে, দেশটিতে সংস্কার না হলে তারা ঋণের অর্থ ছাড় করবে না। তারা বলছে, গ্রিক সরকারকে তাদের বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমস্যা সমাধানের সবশেষ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আগামী সোমবার ২২ জুন জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে ইউরোপের ১৯টি দেশের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এই পরিস্থিতিতে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী এখন রুশ অর্থনৈতিক ফোরামের একটি সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। গত তিন মাসের মধ্যেই রাশিয়ায় এটি তার দ্বিতীয় সফর। গ্রিসের হাতে যে আরো একটি বিকল্প আছে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো সেটাই ঋণদাতাদের জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইউরোপ ব্যুরো, প্যারিস
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।




Leave a Reply