অসমীয়াদের জন্য স্বাধীন আসামের স্বপ্ন দেখা সংগঠন আলফার খণ্ডিত একটি অংশ আলফা-ইন্ডিপেন্ডেন্ট- এর প্রধান পরেশ বড়ুয়া’র দেহরক্ষী হিসেবে নাকি দুই জন বাংলাদেশি কাজ করছেন বলে খবর বেড়িয়েছে। অসমীয়া সঙ্গীদের ওপর বিশ্বাস না রখাতে পেরে তিনি তার দুই জন একান্ত দেহরক্ষী নিয়োগ করেছেন, যারা দুই জনই বাংলাদেশি। এরা আবার বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল মুজাহিদিন (হুজি)-এর প্রাক্তন কর্মী। শুক্রবার ১৯ জুন ভারতের দৈনিক পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে গুয়াহাটি থেকে রাহুল কর্মকারের লেখা প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, পরেশ বড়ুয়ার দেহরক্ষী হিসেবে যে দুজন বাংলাদেশি কাজ করছেন তাঁদের একজনের নাম আলমগীর হোসেন; অন্যজন হলেন তাঁর আত্মীয় মো. গোলাম নবী। তাঁদের বাড়ি নোয়াখালীর করাতখিল গ্রামে। পাসপোর্ট অনুযায়ী দুজনেরই বয়স ২৯ বছর। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আলমগীর হোসেন ও মো. গোলাম নবীকে নিয়ে পরেশ বড়ুয়া মিয়ানমার সীমান্তে রুইলি ঘাঁটিতে লুকিয়ে আছেন।
ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরেশ বড়ুয়া তাঁর নিজের দলের ছেলেদের সন্দেহ করছেন। তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য দুই বাংলাদেশির ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।
গোয়েন্দা তথ্য মতে, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন পরেশ বড়ুয়া। আলমগীর ও গোলাম নবী ২৪ ঘণ্টা পরেশের নিরাপত্তায় কাজ করছেন। খাবারে কেউ বিষ মিশিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে পরেশ অন্য কারও রান্না করা খাবার খান না। তাঁর খাবার রান্না করে দিচ্ছেন ওই দুইজন।
আসামের এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার গুলশান এলাকায় মিশর দূতাবাসের কাছে থাকার সময় পরেশ বড়ুয়া আলমগীর ও গোলাম নবীকে দলে ভেড়ান।
পাকিস্তান ও চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ‘যোগাযোগ রেখে চলা’ পরেশ বড়ুয়াকে ‘জীবিত অথবা মৃত’ চায় নয়াদিল্লি। ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আলফা এ বছরের প্রথমের দিকে ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডকে (এনএসসিএন) এবং ভারতের অন্যান্য উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জঙ্গি গোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ফ্রন্ট গড়ে তোলে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, এই ফ্রন্টই সম্প্রতি মণিপুরে হামলা চালিয়ে ১৮ ভারতীয় সেনাকে হত্যাসহ বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। এই ফ্রন্টের বিষয়টি জানার পরই পরেশ বড়ুয়াকে ধরতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য দিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমান পরেশ বড়ুয়া নেতৃত্বাধীন আলফা-ইন্ডিপেনডেন্টের এক শ পঞ্চাশেরও কম জঙ্গি যোদ্ধা রয়েছে। ২০১১ সালে পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর মিয়ানমারের সেগেইং বিভাগে এনএসসিএনকে’র সঙ্গে মিশে তাদের ঘাঁটিতে অবস্থান করছে তারা। ‘আলফার বিরুদ্ধে’ কাজ করা এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনা বসার জন্য গত বছর পরেশ বড়ুয়ার অন্যতম সহযোগী পার্থ প্রতীম গগৈ ও তার অনুসারীদের হত্যা করা হয়। এরপর থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীর সদস্য কমতে থাকে।
উত্তরপূর্ব ব্যুরো, শিলচর (আসাম)
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


