মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশকে নেওয়ার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্প্রতি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। চুক্তির অন্যতম মূল বিষয় হলো— তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

মুসলিম বিশ্বের ক্ষমতাধর এই তিন দেশের জোটে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে বেশ কয়েকবার নিজেদের ইচ্ছা পোষণ করেছে বাংলাদেশ। এ প্রতিক্রিয়ায় এরই মধ্যে জবাব দিয়েছে পাকিস্তানও।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পাকিস্তানের হয়ে এ জবাব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এদিন তিনি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বা এমজেডিএতে নতুন সদস্য নেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত আছে। তবে, নতুন কোনো দেশকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার আগে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। খবর আরব নিউজের

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট এমজেডিএতে স্বাক্ষর করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গত সপ্তাহে আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এমজেডিএতে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার বিষয়ে এখনও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

তার এমন মন্তব্যের জের ধরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেয়ার কথা বিবেচনা করছে কি না এবং এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান কোনো কূটনৈতিক বা কৌশলগত ভূমিকা রাখছে কি না।

এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, একটি বিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে এমজেডিএ এমন দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে, যারা সম্মিলিত দায়িত্ব ও অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের প্রতি তাদের অঙ্গীকারে অবিচল। কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এলে রিয়াদ ও আঙ্কারায় আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে, চুক্তিটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিপ্রায় জানালে তখন বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তারা বাংলাদেশকে যোগদানের আহ্বান জানালে তখন দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার জন্য এ ধরনের একটি ব্যবস্থা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে, জোটে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।

তিন দেশের নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রধান সামরিক শক্তি একই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক শক্তির দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ, আঞ্চলিক প্রভাব এবং প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো। আর তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং তারা একটি বৃহৎ সামরিক ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী।

 

 

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *