বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গিনেসে নাম তুলতে রবিবার যোগাসনে মোদী

yoga-indiaভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগদিবসের আয়োজন ঘিরে দেশজুড়ে উদ্দীপনার পাশাপাশি রয়েছে বিরোধের সুরও। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সকলের নজর আপাতত নয়াদিল্লির রাজপথের দিকে, যেখানে বিশ্ব যোগ দিবস পালনের জন্য করা হয়েছে এলাহি আয়োজন। সেখানে যোগাসনে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী, যা নিয়েই মূলত সমালোচনা চলছে।

রবিবার সকালে ৩৫ মিনিট ধরে ৩৫ হাজার মানুষকে রাজপথে যোগাভ্যাস করতে দেখা যাবে, যার উদ্দেশ্য গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নাম তোলা। মোদী সরকারের আমলারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে যোগ দিবসের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। প্রায় সমস্ত বড় বিরোধী দলের নেতাদেরই যোগ দিবসে যোগ দিতে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

যদিও বিরোধীরা এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছে। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী বা সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধী বিশ্ব যোগ দিবসে অংশ নেবেন না। কংগ্রেস শাসিত উত্তরাখণ্ড, কেরল সরকারের আবার দাবি, সেখানে বিশ্ব যোগ দিবস সম্পর্কে কোনও আগ্রহই নেই। তবে গোয়া, মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও স্কুলগুলিতে যোগ দিবস পালন আবশ্যিক করা হয়নি। অর্থাৎ তারা চাইলে যোগ দিবস পালন না-ও করতে পারে।

বিশ্বের ৪৭টি মুসলিম দেশ বিশ্ব যোগ দিবস পালন করছে। যদিও, তীব্র বিরোধিতা করেছে ভারতের বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠন। ক্যাথলিক পাদ্রীদের সবথেকে বড় সংগঠন ক্যাথলিক বিশপস্ কনফারেন্স অফ ইন্ডিয়াও এই বিরোধিতায় সামিল। তারা জানিয়েছে, আমরা যোগের বিরোধী নই। কিন্তু, রবিবার আমাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন। এই দিন আমরা গির্জায় প্রার্থনা করি। তাই রবিবার যোগ দিবস রাখা উচিত হয়নি।

আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের সংগঠন আর্ট অফ লিভিং পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে যোগ দিবস পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু, কট্টরপন্থীদের হুমকির পর সেখানে সেই অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়।

এতো গেল মুদ্রার এক পিঠ। কিন্তু, এই যোগদিবসকে কেন্দ্র করে মোদী সরকারকে তাড়া বেড়াচ্ছে আরেক বিতর্কও। বিতর্কের কেন্দ্রে যোগাভ্যাসের জন্য আনা আসন! কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির অভিযোগ, বরাত দিয়ে আনা হয়েছে চিনের আসন। প্রশ্নের মুখে মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান।

রবিবাসরীয় সকালে বিশ্ব যোগ দিবসে সামিল হবে দিল্লির রাজপথ। উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের। যাকে অনেকেই যোগের ‘ঘর ওয়াপসি’ বলে কটাক্ষ করছেন। সেই ‘ঘর ওয়াপসি’তেই বিতর্ক যোগের জন্য আনা আসন নিয়ে!

বোমা ফাটিয়েছে, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি। কটাক্ষের সুরে কংগ্রেস ও আপের প্রশ্ন, বিদেশি আসনই যদি সরকার দেশে আমদানি করে, তাহলে কেন বারবার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র গালভরা স্লোগান দেন প্রধানমন্ত্রী? দু’দলেরই দাবি, আসনগুলি চিনে তৈরি! সরকারি সূত্রের খবর, যোগ দিবসে ব্যবহারের আসন কেনার জন্য নিয়ম মেনেই দরপত্র ডাকা হয়েছিল। যে সংস্থা সবচেয়ে কম দাম দেয়, নিয়মানুযায়ী তারাই বরাত পায়। অর্থাত, আসন কেনার নীতি ঠিকই আছে।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *