বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিকটূ উল্লাস’

taskin-firedএকদিনের ক্রিকেটে ১৮ জুন ভারতকে ৭৯ রানে পরাজিত করার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সহ বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে উল্লাস ও মন্তব্য করছে তা কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সহ সংশ্লিষ্টরা। ২১ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে এই জবাবটা ভারত দিতে চায়। তবে খেলায় হার-জিত থাকবে- তা দুই দলকেই মনে রাখতে হবে। ভারতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গত দুইদিনে এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের কাছে হেরে গেলে উদ্দাম উদ্‌যাপনের মধ্যে পড়তে হবে—ব্যাপারটা অজানা থাকার কথা নয় ভারতীয় দলের। সেই ২০০৪ থেকে বাংলাদেশের কাছে প্রতিটি হারের পর বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্‌যাপনের মুখোমুখি হয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে হারের পর উদ্‌যাপনের উদ্দামতায় রীতিমতো ভড়কে গেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। মাশরাফি বিন মুর্তজা আর তাসিকন আহমেদের পরস্পরের বুকে বুক ঠুকে উদ্‌যাপনের ভঙ্গিটা হয়তো চেনা। কিন্তু ভারতীয় দল বেশ মর্মাহত ম্যাশ-তাসকিনের নতুন উদ্‌যাপনটায়। খেলা শেষে এই দুজন কোমরের সঙ্গে কোমর ঠুকে যে উদ্‌যাপনটা করলেন, তা নাকি রীতিমতো দৃষ্টিকটু ঠেকছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতেই সেই উদ্‌যাপনের বদলা নিতে চায় তারা।

কিছু হার আছে সবকিছু হারানোরই। সে সব হারে প্রতিপক্ষের উদ্‌যাপনও গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। মিরপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডেটা ভারতের বাঁচা-মরার। আর এই মরণ-বাঁচন ম্যাচের আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের উদ্‌যাপনের কথা মনে করিয়ে দিয়েই ভারতীয় ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করা হচ্ছে। মাশরাফি-তাসকিনের ওই কোমর ঠোকাঠুকির ব্যাপারটাই সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখছে ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে। অনেকেই এটাতে তেঁতে উঠছেন, অনেকেই উদ্‌যাপনটাকে দৃষ্টিকটু হিসেবে অভিহিত করছেন।

টিম ম্যানেজমেন্ট নাকি ব্রিফিংয়ের সময় এই উদ্‌যাপন-ভঙ্গির প্রসঙ্গ তুলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বলেছেন, ‘এর পরেও তোমরা যদি নিজেদের জাগাতে না পার, তাহলে আর কীসে জাগবে! ’

ভারতীয় দল ওই ‘দৃষ্টিকটু’ বিজয়-উৎসবের জবাব দিতে মুখিয়ে আছে। খেলোয়াড়দের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা—জবাব দিতেই হবে। বাংলাদেশও চুপ করে নেই। আগের দিনের বিজয় উদ্‌যাপনের জবাব দেওয়াটাও যে এক কঠিন মিশন, আজ মিরপুরে সেটাই ভারতীয়দের বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুতি প্রায় শেষ মাশরাফিদের।

দলীয় শক্তি অথবা র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের কাছে ভারত রীতিমতো ‘বড় দাদা’। মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের ব্যাটিংকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলেই মানা হয়। সিরিজ শুরুর আগে ভারতই ছিল ফেবারিট। কিন্তু প্রথম ম্যাচ জিতে সরল অঙ্কটাকে বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ। সে কারণেই দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা ভারতের, তারই প্রতিধ্বনি রোহিতের কণ্ঠে, ‘ওদের তো হারানোর কিছু নেই। হারানোর সবকিছুই ভারতের। সুতরাং আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। আমরা জানতাম, নিজের মাঠে ওরা এভাবেই খেলবে। পরের ম্যাচে তাই আমাদের আরও ভালোভাবে তৈরি থাকতে হবে।’

সিরিজ জয়ের হিসাবটা কঠিন হয়ে গেছে বলেই একটা বাড়তি চাপও তৈরি হয়েছে ভারতের ওপর। রোহিত অবশ্য সেই চাপ স্বীকার করতে নারাজ। উল্টো হুমকি দিলেন আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার, যার মধ্যে কী লুকিয়ে থাকল মেলবোর্নের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে মহা আলোচিত সেই সেঞ্চুরিটির নীরব দম্ভ, ‘কোনো চাপ নেই। আমাদের শুধু নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখতে হবে এবং আরও আক্রমণাত্মক হতে হবে। এই দলটাই তো বিশ্বকাপে খেলেছে। ফলটা আমাদের অনুকূলে আনতে না পারার তো কোনো কারণ দেখি না!’

ভুল শুধরানো, আরও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট—ভারতের সব পরিকল্পনাই সাজানো। তবে এসব ভণ্ডুল করে বাংলাদেশ যে আজও তাদের হারিয়ে সিরিজটা পকেটে পুরতে পারে সেটি মানতে এখন বাধ্য রোহিত, ‘প্রথম ম্যাচে ওরা দারুণ খেলেছে। কিছুদিন ধরেই ওরা ভালো ক্রিকেট খেলছে আর কোনো দলের বিপক্ষেই নিশ্চিতভাবে জয় ধরে রাখা যায় না। বাংলাদেশ এই মুহূর্তে যে ফর্মে আছে, ওদের হারাতে হলে আমাদের সেরাটাই খেলতে হবে।’

নিউজ ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *