মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

প্রদীপ দত্তের কবিতা: নীল গোলাপের সংবিধান

Pradip-Poemনীল গোলাপের সংবিধান
প্রদীপ দও॥

প্রতিটি খুনের জন্য পুরুস্কৃত হব আমি
মানপত্রে ঘোষিত হবে আমার কুশীলব,
সেরা খুনির তালিকাবদ্ধ হবার পর,
আমি হব শ্রেষ্ঠ সন্তান!
শৃঙ্খলিত হবার বাসনায় উৎশৃঙ্খল;
জীবনের ছক আঁকাজোকা,
জীবনযুদ্ধের ক্ষতচিহ্নে বাসা বাধে
ভয়ঙ্কর গ্যাংগ্রিন।

নৈশব্দের কোল ঘেঁষে শুয়ে আছি নিঃশব্দে;
গোঁ গোঁ শব্দে চলছে ফ্যান-
শরীর যন্ত্র কেটে চলেছে ঘুন পোকা;
মেঘেদের তাড়িয়ে দাও অবেলায়।

নীল সমুদ্রের জলের ফেনায় প্রহসনের হাসি!
ধ্বংসে হাসি হেসে খুশি কুলটা,কুলাঙ্গার-
সবুজেরা তৃষ্ণা মেটানোর পর উচ্ছিষ্ট
দিয়ে দিল আমায়!

ষড়যন্ত্রের জাল কাটার প্রয়োজন নেই,
অাধরা তার দেয় কথা রাখেনি।
উল্টে দিল দাবার ঘুটি,
মিথ্যার জালে ছটফটানি গরমের দিনে-
জীবন মানে এক সরল রেখা রেখায় চলা
রেল পথ কে তা জানত;
কচি আমড়া খেয়ে ছুঁড়ে ফেলা আঁটির মত-
প্রেম কুড়ায়ে কি লাভ,
বসন্ত বাাতাসে দুচোখ বন্ধ করে,
কামহীন বসন্তে ভেসে চলা।

তারপর ফুলেরা গন্ধ নিয়ে এলে-
ফুল বাগানে ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরি
বাগানে ফোটা নীল গোলাপ,
তাকে ছিঁড়ে করি তার পোস্টমর্টেম;
তাকে নিয়ে কেঁদে ভাসাই বিনিদ্র রজনী।
তারারা খসে পড়ার পর খুব ভোরে-
চোখের পাতা ভারি হলে,
নৈশব্দের রাত শেষে,অফুরন্ত
প্রেম সম্ভাবনা নিয়ে আসে বসন্ত
কোকিল,
চাষবাস শেষ হলে ঘরে ফেরে চাষী-
ফসল কাটার কাল মহাজনের;
আজীবন ভৃত্যের অভিশপ্ত জীবন-
পার করে নিশিকান্ত কামার;
শব্দহীন কথা বলে যাই অবিরত!

নিজের সাথেই গোপনে,
কু-ডাকে মনের শরীরে বেদনার্ত
হয়ে নোনা জলে অশরীরির অবগাহন।
শুয়রের দাঁত নিয়ে তপস্যায় কাটানো
কালে,তোমার অাপেক্ষা বাঁশিওয়লা!
নীল কন্ঠনালী নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায়
ছটফটানোর কষ্টের সীমান্তে,
ছুটুক নীল গাই, অখিল প্রেমের গান
নিয়ে যারা এসেছিল,তারা ফুটিয়েছে
নীল গোলাপ; আজ সন্ধায় রচিত হল
নীল গোলাপের সংবিধান।
প্রেম পিরিতের সংবিধান।

বেইলী রোড, ঢাকা
২০.০৬.২০১৫

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *