বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ঈদের বাজারে বিদেশি পোশাক ভরপুর

Sararara-2-Newsworldbdইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পোশাক বলতে মেড ইন বাংলাদেশ। দেশের মোট রাজস্ব আয়ের বড় অংশই আসে পোশাক খাত থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিবছর ঈদ বাজারে বিদেশী পোশাকের আধিপত্য বাড়ছে। ফুটপাত থেকে উন্নত শপিংমল পর্যন্ত কোথাও বাদ নেই। এসব দেশের মধ্যে ভারত, চীন, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং দুবাই অন্যতম। বিদেশী শাড়ি ও থ্রি-পিসের বাজার ভারতের দখলে। ভারতীয় সিনেমা ও সিরিয়ালের পোশাক। বাহারি রং ও নজরকাড়া ডিজাইনের পাশাপাশি ভারতীয় সিরিয়াল, চলচ্চিত্র তারকাদের কারণে দেশটির কাপড়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ফলে দেদার বিক্রি হচ্ছে শাড়ি, থ্রি-পিস, শর্ট পিস, লেহেঙ্গা, কামিজ, পাঞ্জাবি ও বাচ্চাদের কাপড়।

ঈদের বাজার ছেয়ে গেছে নানা নামের রঙবেরঙয়ের ভারতীয় তৈরি পোশাকে। শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ সবার চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে হাল ফ্যাশনের ভারতীয় পোশাক এ বছর আমদানি হয়েছে ব্যাপকভাবে। এতে দেশীয় পোশাক মার খাচ্ছে। রাজধানীর ঢাকার অভিজাত বিপণি বিতান থেকে শুরু করে বেনারসি শাড়িপল্লী পর্যন্ত সবই ভারতীয় পণ্যের দখলে। দাম অনেক বেশি হলেও ফ্যাশনের চমৎকারিত্বের জন্য এ সবই ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। বিভিন্ন শপিংমলের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলা জানা গেছে, দেশীয় পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম। এ ছাড়া এবার ঈদের বেনারসি পল্লীর প্রায় অর্ধেক দোকানই দখল করে নিয়েছে ভারতীয় শাড়ি। বিক্রি হওয়ার পর টাকা পরিশোধ হবে- এ শর্তে দোকানদারদের প্রচুর ভারতীয় শাড়ি সরবরাহ করা হয়েছে। অভিজাত শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলোতে থরে থরে সাজানো হয়েছে ভারতীয় পোশাক।

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ভারতীয় হিন্দি-বাংলা সিনেমাসহ টিভি চ্যানেলগুলোর মেগাধারাবাহিক নাটক ও সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকাদের পরনের পোশাকের চাহিদাই একচেটিয়া। তাদের নামের বাহারি ডিজাইনের পোশাক অনেক দাম দিয়ে কিনতেও কেউ কার্পণ্য করছেন না। বাস্তবে এ সব নায়ক-নায়িকাদের পরনের পোশাকের দখলে চলে গেছে এখানকার বাজার। আর দেশের অভ্যন্তরণে বৈধ ও অবৈধভাবে ভারতের তৈরি শাড়ি ও পোশাক প্রবেশ করছে। এর বাইরে একশ্রেণীর মৌসুমী ব্যবসায়ী ভারত থেকে আমদানি করছেন সব ধরনের ভারতীয় তৈরি পোশাক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারীদের জন্য অন্যতম মার্কেট রাজধানীর গাউছিয়া, নিউমার্কেট, হকার্স মার্কেট এবং বন্ধুরা সিটি, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, টুইনটাওয়ার, মালিবাগ সুপার মার্কেট, ইস্টার্ণ প্লাজাসহ সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে ভারতের পোশাক। ক্রেতাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিটি দোকানেই নানা ধরনের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস এবং বাচ্চাদের পোশাক সাজানো হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পাকিস্তানি পোশাক থাকলেও ক্রেতাদের চাহিদা ভারতীয় পোশাকের দিকে। শুধু রাজধানীই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের ঈদ বাজারেও একচেটিয়া দখল ভারতীয় পোশাকের।

৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় থ্রি-পিস। ৫-১৬ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় শাড়ি। আর গুল আহমেদ, ছানাছাফিনার মতো কিছু থ্রি-পিস আসে পাকিস্তান থেকে। অন্যদিকে গেঞ্জি, টি-শার্ট ও জুতার বাজার দখল করে আছে চীন। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও দুবাই থেকে কিছু কাপড় এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর গাজী ভবনে ১৫০টি ও পলওয়েল মার্কেটে প্রায় ৫০০টি দোকান রয়েছে।

রাজধানীর মাসকাট প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাস, কর্ণফুলী সিটি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, থ্রি-পিস হিসেবে নতুন এসেছে কিরণ মালা, আশিকি-৩-সহ আরও কয়েকটি পণ্য। এ ছাড়া বরাবরের মতো রয়েছে পাখি, ঝিলিক, কারিনা দেশী, শোলক দেশী, শঙ্খ, পিইউ, অরি, টাপুর-টুপুর, রুহি, অদিতি, শ্রদ্ধা, গ্রাউন কুর্তি, মাজাককালি, হাসি-খুশি, পার্টি ফ্র্রক, পাড়ি, চাক্কি, আনারকলিসহ ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত সিরিয়ালের চরিত্রগুলোর নামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে।

গাউছিয়াতে থ্রি-পিসের তালিকায় রয়েছে- সানিয়া মির্জা, রেশম কা জরি, এক ফুল দুই মালি, বডিগার্ড, তিসমার খান, মন মানে না, ও মাই গড, মেনে পেয়ার কিয়া, আয়শা টাকিয়া, গঙ্গা এমন সব বাহারি নামের সেলাই ছাড়া থ্রি-পিস। ইস্টার্ন প্লাজার বিক্রেতা শফিক জানান, বিদেশী এসব পোশাকের মূল্য দেড় হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *