মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় আচার হজ পালনের জন্য টাকা জমা দেওয়াদের মধ্যে ১ হাজার ৭২০ জনকে হজে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয়নি পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। বাংলাদেশের ৯১ হাজার ৭শ’ ৫৮ আবেদনকারীর ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করে এসবি থেকে এদের ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়। নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে নাম-ঠিকানায় গড়মিল থানায় যেতে পারবেন না দেড় হাজার জন। এছাড়া পৌনে তিনশ হজযাত্রীকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করেছে এসবি। যোগ্যদের তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে www.hajj.gov.bd শনিবার ২৭ জুন রাতে প্রকাশ করে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আবেদনকারী ৯১ হাজার ৭৫৮ জনের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) পুলিশের কাছে পাঠিয়েছিল। সরেজমিন যাচাই-বাছাই শেষে এসবি পুলিশ উপযুক্ত, অনুপযুক্ত, ঠিকানা ভুল এই তিন ক্যাটাগরিতে তালিকা করে সম্প্রতি হজ অফিসে জমা দেয়।
ভুল ঠিকানা ও নামের মিল না থাকা প্রসঙ্গে হজ এজেন্সিগুলো জানায়, বয়স্ক ব্যক্তিরা অনেকে মৌখিক তথ্যের মাধ্যমে হজের জন্য প্রাথমিকভাবে ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করায় ভুল হয়ে থাকতে পারে। এদের সুযোগ দেওয়া উচিত।
তবে যে পৌনে তিনশ যাত্রীর হজের ব্যাপারে এসবি পুলিশের আপত্তির কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য সরকারের তরফে জানানো হয়নি।
বিভিন্ন হজ এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, এসবি পুলিশ আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শুরু করে। কিন্তু আবেদনকারী হাজিদের অনেকে পুলিশ ভীতির কারণে পরিচয় পেয়েও টেলিফোন ধরেননি।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কিছু কিছু হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে একই পরিবারের বাবা-মাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলেও তাদের শিশু সন্তানদের উপযুক্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশের কোটা অনুযায়ী ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনকে এবার হজ পালনে সৌদি আরব পাঠানো হবে। তবে নিবন্ধন করেও ৩০ হাজারের মতো হজযাত্রী কোটা না থাকায় সৌদি আরব যেতে পারছেন না। এদের মধ্যে টাকা জমা দেয়া ১০ হাজার মুসল্লিকে আগামী বছর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হজে পাঠানো হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply