বিবাহিত নারী-পুরুষের প্রথম সন্তান জন্মের পর সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় হলেও এই সময় ‘পরকীয়া’র বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। প্রচলিত এই ধারণা নিয়ে সম্প্রতি ব্রিটেনে এক গবেষণায় দেখা গেছে প্রথম সন্তানের জন্মকালীন সময়টাতে পুরুষের পরকীয়ায় ঝোঁক বাড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তান বড় হতে থাকার পর নারীদের পরকীয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। পুরুষের ক্ষেত্র সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর সঙ্গে মিলনে বাধা এবং পরবর্তীতে সন্তান বড় হতে থাকলে স্বামীর সময় কম পাওয়ায় নারীরা পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। এই সময়টাতে নারীদের অন্য পুরুষরা অজানা কারণে শারীরিক সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন, যা নারীদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা মুশকিল হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারীই একটু আধটু পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলেও গবেষণায় এসেছে।
ব্রিটেনের পাঁচ হাজার জন পুরুষের উপর এক গবেষণা করার পর জানা গেছে, সন্তানের জন্মের পর স্বামী স্ত্রী’র সম্পর্কে আরও দৃঢ় হওয়ার বদলে কিছু ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীয়ের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে এবং এর কারণেই পরকীয়া প্রেমের সংখ্যা বাড়ছে৷গবেষণা বলছে, সন্তান জন্মানোর পর দম্পতিরা প্রাথমিক ভাবে বদলে যান৷ আগে যতটা সময় তারা একে অপরের সঙ্গে কাটাতেন তার সবটাই সন্তানের দেখভাল করতেই চলে যায়৷ এছাড়াও আর্থিক চাপ ও ক্লান্তির কারণেও সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে৷ বেশির ভাগ পুরুষই জানিয়েছেন, সন্তানের জন্মের পর তাদের স্ত্রীরা সন্তানের দেখভালেই ব্যস্ত থাকেন ফলে তাঁরা বাড়ির বাইরে খানিকটা ‘আনন্দ’ খোঁজার চেষ্টা করেন৷
গবেষণায় অংশগ্রহণ করা পুরুষেরা জানিয়েছেন, সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ার ফলেই তারা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন৷ যদিও দ্বিতীয় বিবাহে সন্তানের জন্ম হলে এই পুরুষরাই বেশি বিশ্বাসী হন৷ তারা জানিয়েছেন প্রথম বিবাহের সময়ে যে ভুল তারা করেছেন তার থেকে শিক্ষা নিয়েই দ্বিতীয় বারে সন্তানের জন্মের পর তারা নিজের মানসিক ও আর্থিক সঙ্গতি সামলে নিয়েছেন৷
এদিকে ভিক্টোরিয়া মিলান ডটকম নামের ওই ওয়েবসাইটের জরিপ তারা প্রায় চার হাজার নারীর সামনে কিছু প্রশ্ন তুলে ধরে পরকীয়ার কারণ জানতে চেয়েছিল। জরিপে পুরুষসঙ্গীর কয়েকটি আচরণের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে কীভাবে ওই নারীরা পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। এতে নারীরা বলেন, কেবলমাত্র পুরুষসঙ্গীর প্রতারণার কারণে ৬৫ শতাংশ নারী জড়িয়ে পড়েছেন পরকীয়ায়। আবার দেখা যাচ্ছে, বাকিদের মধ্যে ৮১ শতাংশ স্বামীর চেয়ে অন্যের (যার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান) কাছে উষ্ণ ভালোবাসা পাওয়া—পরকীয়ার একটি অন্যতম কারণ।
জরিপে আরও দেখা গেছে, পুরুষসঙ্গীর খারাপ আচরণ, বিশ্বাসঘাতকতা (শুধু এই কারণে অধিকাংশ নারী পরকীয়ায় জড়ান), কিছু বদ-অভ্যাস, রাতে অসংলগ্ন আচরণ, ইচ্ছার মূল্য না দেওয়া, বারবার মুঠোফোনে নজরদারি, শারীরিক সংসর্গে অনীহার কারণেই মূলত নারীরা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার দিকে গেছেন।
যাই হোক, স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম সম্পর্কে আগেভাগে জানার তেমন সুযোগ থাকে না। বিষয়টি এক কান দুই কান হতে হতে এক সময় জানাজানি হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তখন আর কিছুই করার থাকে না।
তবে পরকীয়ায় পড়লে স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক না কেন, কিছু লক্ষণ শুরু থেকেই প্রকাশ পেতে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে লুকিয়ে ফোনে কথা বলা, মোবাইল ফোনের মেসেজ ডিলিট করা, হঠাৎ করেই বাসার ল্যান্ড ফোনে ভুতুড়ে ফোন বেড়ে যাওয়া (ফোন ধরলে অপর প্রান্ত থেকে কথা না বলা), অফিস থেকে ফিরে স্বামী বা স্ত্রীর অন্যমনস্কতা প্রভৃতি।
লুকিয়ে লুকিয়ে ফোন করা: মানছি কিছু ফোনকলের জন্য প্রাইভেসি দরকার, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্য ঘরে গিয়ে ফোন করা বা ফোন আসলেই সবার সামনে থেকে উঠে চলে যাওয়ার মতো ব্যাপারগুলো আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি দিনের পর দিন চালিয়ে যান, তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা বেশ সিরিয়াস৷
মেসেজ ডিলিট করা: ফোন থেকে কেউই চট করে মেসেজ ডিলিট করতে চান না, যতক্ষণ না ইনবক্স ভরে যায়৷ কিন্তু যদি দেখেন মাধেমঝ্যেই আপনার স্বামী বা স্ত্রী মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করছে, বা বলা ভালো মেসেজ বক্স ক্লিয়ার করছেন, তাহলে তার উপর অন্তত কিছুদিন হলেও সমানে নজর রাখুন৷
অনুষ্ঠানে যেতে আগ্রহ না দেখানো: আপনার স্বামী বা স্ত্রী কি কয়েকদিন ধরেই কোনও না কোনও অজুহাতে পার্টি এড়িয়ে যাচ্ছেন? কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা কমিয়ে দিয়েছেন? তাহলে কিন্তু আপনি হাই রিস্ক জোনের মধ্য রয়েছেন৷কিংবা দিনের পর দিন রাত করে বাড়ি ফিরে সকালে উঠেই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছেন? তাহলে অনেকটাই নিশ্চিত হন যে তিনি অন্য কাউকে তাঁর মূল্যবান সময়ের অনেকটাই দিচ্ছেন৷
অফিসের পর বাইরে বেশি সময় কাটানো: হঠাৎই কি আপনার স্ত্রী বা স্বামী কোনও সহকর্মী বন্ধুর সঙ্গে কি বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বা অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন? উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয় এবং তিনি যদি কোনও মহিলা হন, তাহলে আপনি রেড অ্যালার্ট পেয়ে গিয়েছেন৷ সরাসরি বরের সঙ্গে কথা এবার না বললেই নয়৷
অফিস থেকে ফিরলে বেশি ফ্রেশ দেখাচ্ছে: সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর আপনার বরের বা স্ত্রীল সেই ক্লান্তিমাখা চেহারাটা উধাও৷ রাতেও বেশ ঝরঝরে আর তরতাজা লাগে তাকে? তাহলে কিন্তু অন্য গল্প রয়েছে, নিশ্চিত৷আর সেইসঙ্গে যদি তাঁর শাড়ি/জামা বা শার্ট বা রুমাল থেকে অন্য পারফিউমের গন্ধ বের হয়, তাহলে তো সন্দেহের আর কোনও অবকাশই থাকে না৷
দুরত্ব বেড়ে যাওয়া: অকারণ, বিনা কোনও কারণে যদি আপনাদের দুজনের মধ্যে হঠাৎ দূরত্ব বেড়ে যায়, কিংবা শারীরিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে, বা কথায় কথায় আপনার স্বামী বা স্ত্রী অশান্তি করছেন, তাহলে আর বোঝার কিছু বাকি নেই৷ প্রায় ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত তাঁর জীবনে অন্য কেউ এসেছে৷
অফিসের গল্প কমিয়ে দিয়েছে: একসময় সারাদিন উনি বাইরে কী কী করতেন বাড়ি ফিরে আপনাকে গল্প করতেন, কিন্তু ইদানী কমিয়ে দিয়েছেন? তাহলে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে৷ আপনিই না হয় উদ্যোগী হয়ে জিজ্ঞেস করুন উনি সারাদিন কী কী করলেন? যদি দেখেন কোনও না কোনও ছুতোয় এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাহলে সময় থাকতে থাকতেই সতর্ক হন৷
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply