পিস টিভির ‘রমাদান এ ডেইট ইউথ ড. জাকির নায়েক’ আলোচনায় জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়, হুযুর সা. এর এমন কোনো সুন্নত রয়েছে কিনা যা মানুষ রোজা অবস্থায় মাকরূহ মনে করে?
উত্তরে ড. জাকির নায়েক বলেন, হুযুর সা.-র এ ধরণের একটি সুন্নত হল ‘মেসওয়াক’ করা। ভুল ধারণার কারণে অনেক মানুষ রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করা থেকে বিরত থাকে। তারা মনে করে রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করা মাকরূহ বা রোজা ভেঙ্গে যায়। এর কারণ হিসাবে তারা হুযুর সা. এর একটি হাদিসকে প্রমাণ হিসাবে মনে করে। হাদিসটি বুখারি শরিফে রয়েছে। হুজুর সা. বলেছেন, ‘আল্লাহর নামে আমি শপথ করে বলছি, যার হাতেই রয়েছে মুহাম্মদ সা. এর রূহ। রোজাদার মানুষের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরির গন্ধের চেয়েও বেশি মিষ্টি।’
এ হাদিসটির কারণে অনেক মুসলিম মনে করে তারা রোজা রেখে মেসওয়াক করলে মুখের দুগর্ন্ধটা থাকবে না। দুর্গন্ধটা দূর হয়ে যাবে। আর তাতে আল্লাহপাক সন্তুষ্ট হবেন না। অথচ অনেক মুসলিমরা এটা বুঝতে পারেন না যে, আমাদের মেসওয়াক করা দ্বারা মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় না, মেসওয়াক মূলত ঘাম পরিস্কার করে ও দাঁত পরিস্কার রাখে। এতে দাঁত সুস্থ সবল থাকে কিন্তু দুর্গন্ধ দূর হয় না।
এ ছাড়া মেসওয়াক করা একটি সুন্নত। সহিহ বুখারিতে হুযুর সা. বলেছেন, ‘যদি এটা আমার উম্মতদের জন্য কঠিন না হতো তাহলে আমি প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক ব্যবহার করাটা বাধ্যতামূলক করে দিতাম।’ এখানে তিনি মেসওয়াকের বাধ্যতামূলকের কথা বলেছেন। যদি মেসওয়াক করাটা রোজাকে মাকরূহ করে দিত তাহলে তিনি বলতে পারতেন, মেসওয়াক তাদের জন্য আবশ্যক করে দিতাম শুধু রমজান মাস ছাড়া। এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতটি যদি রোজার সময় মাকরূহ হতো তাহলে নবী সা. আমাদের এটা জানাতেন। এই সুন্নাহ মুসলিমদের পালন করা উচিত, রমজান মাসেও পালন করা উচিত। মেসওয়াক করলে রোজা ভেঙ্গে যায় না, মাকরূহও না, বরং মুস্তাহাব।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম



Leave a Reply