’লিপ সেকেন্ড’ যুক্ত হওয়ার কারণে ৩০ জুন দিনটি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় নিয়ে শেষ হচ্ছে। ৩০ জুন রাত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের পরেই পয়লা জুলাইয়ের সূচনা হবে না, এর জন্য বিশ্বের সর্বত্র আরও এক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে। পৃথিবীর ক্রমশ কমতে থাকা আহ্নিক গতির সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য অতিরিক্ত ১ সেকেন্ড যোগ করা হবে।
কালের হিসাবে খুব বেশি সময় অবশ্য নয়, এক সেকেন্ড। সে যাই হোক, এটি সাধারণ দিনের তুলনায় তো বেশি সময়ই নিচ্ছে! যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে দিন-রাতের মেয়াদ এক সেকেন্ড বেশি হবে।
নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের পক্ষ থেকে ড্যানিয়েল ম্যাকমিলান জানিয়েছেন, পৃথিবীর গতি একটু ধীর হচ্ছে৷ তাই কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম, বা ইউটিসি এবং অ্যাটমিক টাইম একই রাখতে ইউটিসিতে ১ সেকেন্ড যোগ করা হবে। জুন মাসে সাধারণত ৮৬,৪০০ সেকেন্ড থাকে। এবার তা হবে তার থেকে এক সেকেন্ড বেশি।
গবেষকেরা বলছেন, পৃথিবীর আহ্নিক গতি প্রতিদিনই ১ সেকেন্ডের দুই হাজার ভাগের এক ভাগ করে কমে আসছে। সেই কারণেই হিসেব ঠিক রাখতে ওই ১ সেকেন্ড যোগ করা হবে। যদিও পারমাণবিক সময় বা অ্যাটমিক টাইম, যা ইলেকট্রন কণার শক্তি পরিবর্তন বা ট্রানসিশন পদ্ধতিতে অ্যাটমিক ঘড়ির সাহায্যে মাপা হয় তা একই থাকবে।
সাধারণত, ঘড়িতে ২৩: ৫৯: ৫৯-এর পরই 00: 00: 00 অর্থাৎ পরের দিন হয়। কিন্তু ৩০ জুন ২৩: ৫৯: ৫৯ এর পর হবে ২৩: ৫৯: ৬০ এবং তার পরে হবে 00: 00: 00 অর্থাৎ পরের দিন, ১ জুলাই।
এর আগে, ১৯৭২ সালে প্রথম লিপ সেকেন্ড যোগ করা শুরু হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩০ জুন লিপ সেকেন্ড হিসেবে এক সেকেন্ড যোগ করা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, আমাদের ঘড়ি আমাদের পৃথিবীর চেয়ে নিখুঁত সময় মেনে চলে। অ্যাটমিক ঘড়ি মেনে চলে কোঅর্ডিনেটেড ইউনিভার্সাল টাইম বা ইউটিসি যা সিজিয়াম অ্যাটমের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে সেকেন্ডের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে থাকে।
অ্যাটমিক সময়ে এক সেকেন্ড সময় হারাতে লাখ বছর লেগে যাবে। কিন্তু আমাদের পৃথিবী এই নিয়মের ধার ধারে না। বরং পৃথিবীর গতি কিছুটা কমছে। এতে পৃথিবীর ঘুর্ণন গতির সঙ্গে ঘড়ির সময় মিলিয়ে না রাখলে পৃথিবীর আসল আচরণের সঙ্গে ঘড়ির সময় মিলবে না।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply