বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলকাতায় হোটেলে মা মেয়ে রহস্যজনক খুন

park-street-murder_Newsworldbdকলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকার একটি হোটেলে রহস্যজনকভাবে খুন মা ও মেয়ে। ঘর থেকে উদ্ধার মায়ের দেহ। আলমারিতে বন্দি নিথর মেয়ে! পুলিশ সূত্রে খবর, উধাও সঙ্গীর খোঁজে বিহার পাড়ি দিতে চলেছে তদন্তকারীদের একটি দল।

৬৩ নম্বর রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকার একটি হোটেলে সোমবার সকালে দম্পতি পরিচয় দিয়ে ওঠেন এক মহিলা এবং এক ব্যক্তি। সঙ্গে ছিল বছর সাতেকের একটি মেয়ে। হোটেলের রেজিস্টারে তাঁরা লেখেন, তাঁরা বিহারের নালন্দার বাসিন্দা। মহিলার স্বামী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর নাম শম্ভুনাথ গুপ্ত।

হোটেল সূত্রে খবর, দুপুর পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। দুপুরের খাবারও খায় তিনজন। বিকেল ৩টে নাগাদ শম্ভুনাথকে হোটেলের ভিতর ঘোরাফেরাও করতে দেখেন হোটেলকর্মীরা। কিন্তু, ওই শেষবার। পুলিশ সূত্রে খবর, বিকেলের পর শম্ভুনাথ, ওই মহিলা কিংবা মেয়েটি, কাউকেই আর দেখা যায়নি। সন্ধে বা রাতে ওই ঘর থেকে কেউ খাবারও চায়নি।

বিষয়টি নজরে আসে মঙ্গলবার সকালে। যখন সাফাইকর্মী হোটেলের ঘর পরিস্কারের জন্য আসেন। পুলিশের দাবি, বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে, ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ঘর খোলা হয়। দেখা যায়, মেঝেতে পড়ে রয়েছে বছর সাতাশের ওই মহিলার দেহ। হাত-পা ইলেকট্রিক তার দিয়ে বাঁধা। দুই হাতে কালো দাগ। ইলেকট্রিক শক লাগলে যেমনটা হয়। আর একটু খুঁজতেই দেখা গেল আলমারির ভিতর রাখা রয়েছে মেয়েটির দেহ। খোঁজ নেই শম্ভুনাথ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘরের ভিতর থেকে মিলেছে ঘুমের ওষুধের দুটি খালি পাতা। যাতে কমপক্ষে ৫০টি ট্যাবলেট ছিল। এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বেহুশ করা হয় ওই মহিলাকে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। তবে শিশুকন্যাটিকে কীভাবে খুন করা হয়েছে এবং দেহটি আলমারির ভিতরই বা কেন রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, দম্পতি পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠা ওই পুরুষ এবং মহিলা কি আদৌ দম্পতি? কী কারণে তারা হোটেলে উঠেছিলেন? কেন এভাবে নির্মমভাবে খুন করা হল মহিলা এবং শিশুকন্যাকে? তবে কি গোটা ঘটনার নেপথ্যে শম্ভুনাথ গুপ্ত পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিই?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন