বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বউ বা বান্ধবী হিসেবে কোন জেলার মেয়েরা ভাল!

Bangladeshi_Girl_Newsworldbd_Model

বাংলাদেশের ছেলেদের বিয়েতে পাত্রী দেখতে এলাকা তথা জেলা বাছাই করার রেওয়াজ মেনে চলেন অনেকেই। তবে কেন এই প্রথা- তা নিয়ে সুনির্দষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়না। এই প্রথা অনুযায়ী যে সবই সঠিক হয়, তাও কিন্তু নয়। কয়েক মাস ধরে দেখেশুনে বিয়ে দিলেও যে সেই বিয়ে সুখের সংসারে পরিণত হয় তাও কিন্তু নয়। তাই কোন জেলার মেয়ে কেমন- তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সবারই। যদিও এর কোনো বাস্তবভিত্তি নেই। তবুও এসব নিয়ে বিভিন্ন স্থানে নানামুখী মন্তব্য করা হয়। এই মন্তব্য নিয়েই ইন্টারনেট ঘেঁটে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বিয়ের বাজারে বরিশালের মেয়েদের একটু বিশেষভাবেই দেখা হয়। বরিশালের মেয়েরা ন্যাচারাল সুন্দরী হলেও নাকি একটু ঝগড়াটে, যদিও তারা ভালো রাঁধুনী হয়। সংসারী ও স্বামীভক্ত হিসেবেও তাদের সুনাম আছে। কিন্তু এরপরও অনেকে বলে যতই সুন্দর হোক, বরিশাল থেকে সাবধান- জীবন বরবাদ করে দেবে।

ময়মনসিংহের মেয়েরা নাকি একটু বোকাসোকা, কেউবা বদমাইশ। যদিও কেউ কেউ স্মার্ট এবং সেই সঙ্গে ডেয়ারিং হয়। এই স্মার্ট ও ডেয়ারিং দিয়ে কি করে তারা যারা জানেন তাদের অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সুখকর নয়।

বৃহত্তর যশোর ও খুলনার মেয়েরা অনেক সুন্দরী। তবে যশোর এলাকার মেয়েরা কূটনামীতে নাকি খুব ওস্তাদ হয়, এরা প্রচুর মিথ্যা কথাও বলে। আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে তারা সহ্যই করতে পারেনা। পরকীয়াতেও নাকি ওস্তাদ জয় যশোরের মেয়েরা।

খুলনার মেয়েরা স্বামী অন্তঃপ্রাণ। খুলনার মেয়েরা ফ্যামিলির ব্যাপারে একটু সিরিয়াস টাইপের হয় ৷ তবে খুলনার মেয়েদের পরকীয়ার দিকে একটু ঝোঁক থাকে।

চট্টগ্রামের মেয়েরা বাইরের জেলার ছেলেদের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিছুটা কনজারভেটিভ। তবে এদের মধ্যে খোদাভীরুত্বের পাশাপাশি অনেকেরই এদিক-ওদিক চলাফেরার অভ্যাস তৈরি হয়।

সিলেটী মেয়েরা সাধারণত: পর্দানশীল বেশী। সিলেটি মেয়েরা সাধারণত বাইরের জেলা তে বিয়ে করতে যায় না। আত্মীয়দের মধ্যেই থাকতে পছন্দ করে। যদিও সিলেটী মেয়েরা ছ্যাঁচড়া প্রকৃতির হয়।

পুরান ঢাকার মেয়েরা খুবই দিলখোশ। এদের মধ্যে যারা উদার তারা উদারই থাকে, কিন্তু বেশিরভাগ মেয়েই হয় কৃপণ প্রকৃতির। ঢাকার অন্য এলাকায় বড় হওয়া মেয়েরা জগাখিচুরি টাইপের। তাদের এলাকাগত কোনো ধরণ নেই। যার যা শিক্ষা, সেই ধরনের আচরণ করে। এদের বুঝে নিতে হলে ওর পরিবারকে স্টাডি করতে হয়।

গোটা উত্তর বঙ্গের মেয়েরা প্রকৃতিগতভাবে কোমলমতী হয় এবং সেইসঙ্গে বেকুব ও আনক্রিয়েটিভ।

সিরাজগঞ্জের মেয়েরা তুলনামুলক ভালো, যদি শান্তিতে ঘর করতে চান। তবে এই জেলার মেয়েরা একটু কমবুদ্ধির হয়ে থাকে।

বগুড়ার মেয়েরা ঝাল তুল্য। বগুড়া ছাড়া অন্য জেলার পুরুষরা এদের খুব সহজে হ্যান্ডেল করতে পারে না।

কুষ্টিয়ার মেয়েরা সরল, সহজ আবার অহংকারী, কিন্তু সেই তুলনায় গুণবতী নয়। যদিও মননশীল ও রুচিসম্পন্ন। যাকে ভালবাসে সত্যিকারের ভালবাসে, কোনো রাখঢাক নাই, তা যদি পরকীয়াও হয় তবুও ভালবাসা প্রকাশ করবেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়েরা পরিবারের বাইরের অন্যদের সঙ্গে পলটিবাজ হয় কিন্তু পতিভক্ত ও সংসারী।

রাজশাহীর মেয়েরা একটু লুজ। এরা সববোঝার ভান করে কিন্তু আসলে কিছুই বোঝে না। যদিও এদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা কিছুটা সহজ।

পাবনার মেয়েরা কূটনা হয়ে থাকে। এরা যেকোনো পরিস্থিতি সামলে চলতে পারে।

জামালপুরের মেয়েরা বেশি স্মার্ট এবং সেই সঙ্গে ডেয়ারিং। জামালপুরের বেশিরভাগ মেয়ে উজ্জল শ্যামবর্ণের হয়ে থাকলেও এই জেলায় সুন্দরীদের ঘনত্ব বেশি!

বাবা-মা অথবা আত্মীয়-স্বজনদেরকে ভুলতে চাইলে নোয়াখালীর মেয়েদের তুলনা নেই । বেশির ভাগ মেয়ে কারো কথার নিচে থাকতে চায় না। এরা চরম কূটনা হয়। তবে এদের মধ্যে যারা আবার শশুড়বাড়ির জন্য কিছু করতে চায় তারা নিজের সব দিয়েই তা করবে, কিন্তু যদি না করে তবে ‘মইরা গেলেও’ করবে না।

ফরিদপুরের মেয়েরা একটু চোরা স্বভাবের। কেন যেন ওরা সবকিছুতেই দুইটি রাস্তা খুঁজে পায়। ওদের মত কুটিল প্যাঁচের মানুষ খুব কমই হয়।

কুমিল্লার মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির মানুষদের পছন্দ করেনা। যদিও কুমিল্লার মেয়েরা সুন্দরী, অনেক দায়িত্বশীল। তবে এরা সংসারে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে বেশি পছন্দ করে।

টাঙাইলের মেয়েরা খুব ভাল হয়, বান্ধুবী হিসেবেতো বটেই, পাত্রী হিসেবেও। কিন্তু কিছু কিছু অঞ্চলের মাইয়াগুলো দুনিয়ার বজ্জাত। তবে বান্ধবী হিসাবে ভাল- একটু দিলখোলা টাইপের। কিন্তু স্বামীর ঘরে কিন্তু দিল-বন্ধ টাইপের হয়ে যায়।

মাদারীপুরের মেয়েরা খুবই কেউটে ধরনের, এদের খরচের হাত একটু বড়, জামাই বা বয়ফ্রেন্ডর পকেট ফাঁকা করতে ওস্তাদ।

চাঁদপুরের মেয়েরা মানুষ হিসেবে খুবই ভালো, অথিতিপরায়াণ। তাদের সরল ভালবাসায় আপনি মুগ্ধ হবেন। আর শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুর হলে ইলিশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তবে ইলিশ খাওয়ালেও আসল কথা হলো চাঁদপুরের মেয়েদের মাথায় প্যাঁচ জিলাপির থেকেও বেশি। চাদপুরের মেয়েরা ছেলেদের ঘোরাতে ওস্তাদ; বিয়ের পর অবশ্য কমে আসে।

দিনাজপুরের মেয়েরা খুব স্মার্ট ও সুন্দরী হয়, তবে একটু চিটার প্রকৃতির হয়।

রংপুরের মেয়েরা এমনিতেই ভালো মনে হয়। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেরই লোভ বেশি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেয়েরা সরল মনের অধিকারী হলেও একটু কেমন জেন ইয়ে!

গাজীপুরের মেয়েরা খুবই ভাল, মিশুক এবং রসিক তবে জেদী ও লাজুক। যদিও আস্ত গাজীপুরে একেবারেই ডানাকাটা সুন্দরী মেয়ে খুব কম হয় কিন্তু ওভার-অল সুন্দর, গড়পড়তায় স্মার্ট ও সংস্কৃতি মনা। তবে সংসার জীবনে এরা একটু বেশিই বাস্তববাদী হয়।

নরসিংদীর মেয়েরা উড়াল পঙ্খীর মতো, তাদের মন আর চলার ঢং বোঝা মুশকিল। কখন যে কি মনে এলো তা হয়তো এরা নিজেরাও জানে না।

কিশোরগঞ্জের মেয়েরা একটু বোকাসোকা আর ডেয়ারিং প্রকৃতির। মিশুক, বন্ধুপাগল বা বন্ধুপ্রেমী হয়। স্বামী ভক্ত হয় তবে এমনও হতে পারে যে সারাজীবন বউয়ের দ্বারা নিগৃহীত হওয়া অসম্ভব কিছু না।

নারায়ণগঞ্জের মেয়েরা অতিশয় ভালো, ভদ্র, সামাজিক, কীভাবে পরিবার আর মুরুব্বিদের সামলাতে হয় তারা খুব ভালো জানে। সংসারে ঝামেলাহীন আর সবসময় হাসি-খুশি, মিলেমিশে থাকে এমন বউ আনতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের মেয়েরাই সেরা। যদিও নারায়ণগঞ্জের মেয়েদের মধ্যে অন্যের সঙ্গেও চলাফেরার করার আগ্রহ দেখা যায়।

(বিভিন্ন সময়ে ইন্টারনেট ও ব্লগে পাঠকদের করা মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে। এটিকে একেবারে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক ধরে নেওয়ার কারণ নেই। তবে যেহেতু মানুষ এইভাবেই মন্তব্য করে, সেই মন্তব্যগুলোই এখানে সংক্ষিপ্তকারে লেখা হয়েছে।)

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *