বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কিরণমালা-পাখি দিয়ে হচ্ছে শিক্ষার্থীর খাতা

Pakhi_Kiranmalaটিভি চ্যানেলের কিরণমালা ও পাখিদের মতো জামা দিয়ে ঈদের সময় দু’একজনের আত্মহত্যার খবর প্রচারের পর বলাবলি হয়- এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কিন্তু আসলে শিশুদের খাতা প্রস্তুতকারী কিছু অসাধু কোম্পানি এই নাটকগুলোর চরিত্র নিয়ে খাতার কাভার তৈরি করে বাজারে ছেড়েছে। সারাদেশেই এই ধরনের খাতাগুলো বিক্রি হলেও দেখার কেউ নেই।

কোমলমাতি শিশুদের শিক্ষাউপকরণে থাকবে শিক্ষণীয় বিভিন্ন বিষয় এমন ধারণা থেকেই দীর্ঘ দিন ধরে খাতার মলাটে ছাপা হতো বাংলাদেশের মানচিত্র, শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ কবি সাহিত্যিকদের ছবি। কিন্তু সেই জায়গায় এখন দেখা যাচ্ছে পাখি-কিরণমালা নামের পোষাক পরিহিত ভারতীয় সিরিয়ালের বিভিন্ন অভিনেত্রীর ছবি। যে পোষাক কিনে না দেয়ায় ইতোমধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

ওইসব ছবি সংবলিত খাতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করায় তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে দেদারসে এসব খাতা বিক্রি হলেও এ ব্যাপারে কিছুই জানেনা শিক্ষা অফিস। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বেড়েই চলেছে এর বেঁচাব্ক্রি। আর নেতিবাচত প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

ঝিনাইদহ জেলা ও উপজেলা শহরের অধিকাংশ লাইব্রেরি ও অফিস স্টেশনারির দোকানেই বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালের অভিনেতা অভিনেত্রীদের বিভিন্ন চরিত্রের ছবি সংবলিত এসব খাতা। যেসব প্রতিষ্ঠান এসব খাতা তৈরি করছে আর যারা বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে যত দ্রত সম্ভব এসব খাতা তৈরি ও বিপণন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার শিক্ষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার হাটবাজারে গড়ে উঠা বই-খাতার দোকান গুলোতে এসব মলাটের খাতা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। পাখি-কিরণমালাসহ অন্যান্য ছবি সংবলিত খাতাতেই ঝোক বেশি শিক্ষার্থীদের।

তবে দোকানীরা জানালেন, এসব খাতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া দৃষ্টিকটূ হলেও শিক্ষার্থীরা চেয়ে নিচ্ছে। চাহিদা ভালো, বিক্রিও হচ্ছে বেশি। তাই তারা বিক্রি করেছেন।

কিন্তু এ বিষয়ে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতেই তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। তারা হতাশা প্রকাশ করে এ ব্যপারে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

কোটচাঁদপুর উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা দেখেছি আগে খাতার মলাটে বিভিন্ন শিক্ষণীয় আর ইতিহাস ঐতিহ্যের ছবি থাকতো। এখন ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে যারা আভিনয় করছে তাদের ছবি খাতার প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

শিক্ষক আব্দুল মোত্তালিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অবিভাবক বিশেষ করে মায়েরা এই সকল সিরিয়ালের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের মধ্যে চিন্তা চেতনার পরিবর্তন আসছে। আর পেশাক থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনেও পড়ছে এর প্রভাব।’

স্কুল শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা দেশের কবি সাহিত্যকদের চেনে না। তারা সিরিয়ালের নায়ক-নায়িকাসহ বিভিন্ন অভিনেতা অভিনেত্রীদের ভালো চিনে। আর এই সকল সিরিয়াল দেখে তারা অসুস্থ বিনোদনের হিংসা, পরশ্রীকাতরতা শিখছে। আর খাতা তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য এসকল ছবি ব্যবহার করছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে যে সকল সিরিয়াল প্রচার হচ্ছে তার মধ্যে তোমায় আমায় মিলে, কিরণমালা, বোঝেনা সে বোঝেনা এই সিরিয়াল গুলোই ব্যাপক ভাবে আলোচিত হয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিরিয়াল গুলোতে প্রধান চরিত্রের অভিনেতা, অভিনেত্রীর বড় বড় ছবি দিয়ে তৈরি করছে খাতার মলাট। আর পাশে কিংবা নিচেই লেখা হয়েছে রূপকথার রাজকন্যাসহ বিভিন্ন কথোপকথন বা ডায়ালগ। তারই নিচের অংশে লিখে রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীর নাম, বিদ্যালয়ের নাম, শ্রেণী, শাখা, বিষয়, রোল নং লেখার জায়গা।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিরিয়ালের যেসব অভিনেতা মনকেড়েছে সে সকল অভিনেতা-নেত্রীর ছবি খাতার মলাটে শোভা পাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা জল নুপুর সিরিয়ালের খাতাই কিনছেই বেশি। তাদের কাছে এটা খুবই ভালো লাগে। তাই তারা এ খাতা কিনছে বেশি। প্রতিটি খাতার দাম নেয়া হচ্ছে ৩০ টাকা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান, এই সকল মলাটের খাতা বাজারে এসছে বা বিক্রি হচ্ছে জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে কোন প্রকাশনী বা যে সকল প্রতিষ্ঠানে এই খাতা বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *