মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

বদমেজাজি বস ! বশ করুন নিজ কায়দায়…

201506131731390664_Rude-Boss_SECVPFনতুন চাকরি ৷ অফুরন্ত উৎসাহ নিয়ে কাজে যোগ দিলেন ৷ কাজের ক্ষেত্রে নিজের সেরাটাই দিচ্ছেন ৷ কিন্তু তারপরও বসের মন পাচ্ছেন না ৷ পান থেকে চুন খসলেই খেপে লাল তিনি ৷ সব কিছুতেই তর্জনগর্জন চলছে !

বসের খিটখিটে মেজাজ ও খারাপ আচরণের জন্য অফিসে সবাই বিরক্ত । কিন্তু তিনি নির্বিকার ৷ সবসময় মুখে বিরক্তি নিয়ে ঘুরে বেড়ান ৷ এদিকে চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে সাহস পায় না ৷

এই সমস্যা কারও একার নয় ৷ কাজের জায়গায় বস ভালো না হলে শান্তিতে কাজ করাই মুশকিল । তবে কয়েকটা উপায় মেনে চললে খিটখিটে বদমেজাজি বসকেও বশ করা যায় !

অফিসে আপনার বস যদি কারণে, অকারণে খুঁত ধরে আপনাকে হেনস্থা করেন, তাহলে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করুন আপনি নিজের সেরাটাই দিচ্ছেন ৷ আরও ভালো কাজ করার চেষ্টা করছেন ৷ তারপরও যদি তিনি আচরণে বদল না আনেন, কোনও বিশ্বস্ত সহকর্মীর কাছে খুলে বলুন ৷ প্রয়োজনে একাধিক সহকর্মীর সঙ্গেও আলোচনা করতে পারেন ৷ এতে বুঝে নেওয়া যাবে তাঁরাও আপনার মতোই বসের উপর বিরক্ত কি না ৷

বসের তর্জনগর্জনে বিরক্ত হলে তাঁকে সেটা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিন ৷ কখনওই কাজের বাইরে কোনও কথা বলবেন না বা খোশগল্প করবেন না ৷ সকলের সঙ্গে হেসে কথা বললেও, তাঁর সঙ্গে কেবল সৌজন্যমূলক ব্যবহার করুন ৷ সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বললেও, তাঁকে দেখে এড়িয়ে গেলে তিনি আপনার মনোভাব সহজেই বুঝতে পারবেন ৷ এককথায় বদমেজাজি বসের থেকে দূরত্ব রাখাই ভালো ৷

বসের সঙ্গে শুধু কাজের বিষয় নিয়েই কথা বলুন ৷ কাজের ক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব কোনও মৌলিক ভাবনা থাকলে, তাও তাঁকে জানাতে পারেন ৷

খিটখিটে বসকে ম্যানেজ করার জন্য মাঝেমধ্যে তাঁর সামনে বা তাঁকে শুনিয়ে তাঁর প্রশংসা করলে চিড়ে ভিজলেও ভিজতে পারে ৷ এতে দুর্ব্যবহার কমলেও কমতে পারে ৷

বস যদি কথায় কথায় চিৎকার চেঁচামেচি করেন, সেটা ভালো না লাগলেও তাঁর পদমর্যাদার কথা মাথায় রেখে চলা উচিত ৷ বস বকাঝকা করলেও, সেটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে, নতুন উৎসাহে কাজ করে বুঝিয়ে দিতে পারেন আপনি তাঁর কথায় তেমন কিছু মনে করেননি ৷ এতে আপনার প্রতি তাঁর মনোভাব পালটে যাবে ৷ বস অতিরিক্ত কাজ দিলেও, তাতে “না” বলবেন না ৷ তাঁর সামনে হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন ৷

এ সবের পরও যদি দেখেন বসের আচরণে কোনও বদল আসেনি, তখন কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারেন । বসকে বুঝিয়ে দিন শুধুমাত্র তাঁর দুর্ব্যবহারের কারণেই আপনি রিজ়াইন করতে পারেন । প্রয়োজনে অফিসের HR-এর কাছে লিখিত অভিযোগও জানাতে পারেন ।

তাই চিল থাকুন ! বস কিন্তু বাঁধা নন ।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *