‘সরকারের সমর্থনে ইন্টারনেটে সাইবার সন্ত্রাস চালানোর দায়ে অভিযুক্ত’ ইন্টারনেটভিত্তিক সংগঠন ‘সিপি গ্যাং’কে দেওয়া সরকারি অনুদান বাতিল করার কথা জানিয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ।
এই বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, ‘সিপিগ্যাং’-এর ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম’ শিরোনামে অনুদান সংক্রান্ত আবেদন বাছাই কমিটি এবং এওয়ার্ড কমিটির নিকট কর্তৃক চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হলেও কিন্তু পরবর্তীতে ‘সিপিগ্যাং’ সম্পর্কে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশিত হওয়ায় উক্ত অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। ফলে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে কোনো অনুদান প্রদান করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আইসিটি সংক্রান্ত উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ হতে অনুদান প্রদান করা হয়। অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি) এর নেতৃত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকসহ ১০ সদস্যের একটি বাছাই কমিটির মাধ্যমে প্রাপ্ত আবেদনসমূহের কারিগরি দিক যাচাইক্রমে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সচিব, আইসিটিবিভাগের নেতৃত্বে এওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে চুড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।
এদিকে গত ৩০ জুন সিপি গ্যাংয়ের ৪ লাখ টাকা অনুদান পাওয়ার খবর প্রচার হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার মুখে পড়ে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে উদ্ভাবনী কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুদান পেয়ে ফেইসবুকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার সমর্থকদের ইন্টারনেটভিত্তিক সংগঠন সিপি গ্যাং। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকে ফেইসবুকে দেওয়া তাদের সমালোচনামূলক পোস্টে বলেন, ইন্টারনেটে কুরুচিপূর্ণ সংগঠিত আক্রমণকারীদের জনগণের করের টাকার ভাগ দিয়ে সরকার সাইবার সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল।
সিপি গ্যাং নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণাকারী বলে দাবি করলেও সমালোচকরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অ্যাস্টিভিস্টরাই মূলত তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধচারী কয়েকজন নারীও তাদের সাইবার নিগ্রহের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে ৫ জানুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরুর পরে ওই আন্দোলন নিয়েও অনলাইনে কটূক্তি ছড়ানোর অভিযোগ আছে গ্রুপটির বিরুদ্ধে।
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে সেলফি তুলে নিজের ফেইসবুক পেইজে পোস্ট করে সিপি গ্যাং-এর কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে খোদ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককেও।
সিপি গ্যাংয়ের প্রধান রাসেল রহমানের ফেইসবুক পেইজ থেকে ছবিটি পোস্ট করে তাতে বলা হয়, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংসদ থেকে সেলফি দিয়েছেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। উই আর সো প্রাউড অব হিম। গিনেস বুকে নাম উঠানোর প্রস্তাব করলাম।”
শুধু এটিই নয়, স্ত্রীসহ প্রতিমন্ত্রী পলকের একটি ছবি ফেইসবুকে শেয়ার করে সিপি গ্যাংয়ের সদস্য শাকিব রাদিতুল্লাহ বাহার লিখেছিলেন, “অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপিকে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে দেখতে চাই (সেখানে কাজ পেলে বাংলাদেশের ইতিহাস শিক্ষার সুযোগ হবে)।”
রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বিয়ে করা নিয়েও কটূক্তি ছড়াতে দেখা গেছে সিপি গ্যাংকে।
সিপি গ্যাংয়ের অনুদান প্রাপ্তির সমালোচনা করে রিশাদ আহমেদ রুশদী নামে একজন ফেইসবুকে লিখেছেন, “গালাগালি উদ্ভাবনের জন্য পাইছে…”
মুন্সী জাকির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, “ছি: পি গে একটি লিমিটেড কোমপানি, আপনি চাইলেই কিছু শেয়ার কিনে মালিকানার অংশীদার হতে পারেন, ভুলে যাবেন না যে এটি একটি সাইকোদের অভয়ারণ্য মাত্র!”
মো. কায়সার লিখছেন, “একটু আগে খবরটা পড়ে টাস্কি খাইলাম। জয় গালিগালাজ।”
কামাল এইচ মজুমদার মুন নামে একজন লিখেছেন, “বেশ ভালো৷ সরকার চমৎকার কাজ করছে৷ আচ্ছা সিপি-ই তাইলে আওয়ামী লীগ রিপ্রেজেন্ট করে৷ পরবর্তী বাজেটে হেফাজতের জন্যও চার চারা ষোলো কোটি বরাদ্দ থাকবে; আসুন ভাইলোগ দলে দলে তেঁতুল শফির সাথে গলা মিলায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসি দাবি করি, দাবি না মানা হলে কতল৷”
অনুদান পাওয়ার বিষয়ে সিপি গ্যাংয়ের রাসেল রহমান অবশ্য বলেন, অনুদান তো অনেকেই পেয়েছে, কিন্তু আমাদের অনুদান পাওয়া নিয়ে এতো কথা হচ্ছে কেন? আমরা মন্ত্রণালয়ে একটি ইনোভেটিভ ফান্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমাদের আইডিয়াটা ছিল ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমের লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করা।
রাসেল বলেন, “আমাদের কোনো উদ্যোগ যদি জনগণের কাজে লাগে তাহলে তো কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের এ আইডিয়াটি অনেকে পছন্দ করেছে। এ কারণেই হয়তো আমরা অনুদান পেয়েছি।
ফেইসবুকে অনুদান পাওয়া নিয়ে সমালোচনা কেন হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করছি, এ বিষয়ে কখনো কোনো কম্প্রোমাইজ করিনি। মূলত এ কারণেই নানা কথা বলে আমাদের নামে কুৎসা রটানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply