মঞ্চ নাটকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি তথ্য বহুল প্রামাণ্যচিত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশের মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধের নাটক’ শিরোনামে এই প্রামাণ্যচিত্রের নির্দেশনা দিচ্ছেন শাহ ওয়ালিদ আকরাম। চিত্র গ্রহণে আবু সুফিয়ান। ‘ওঙ্কার’-এর পরিবেশনায় সোমবার ৬ জুলাই ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুটিং শুরু হয়েছে। প্রথমদিনে এই বিষয়ে কথা বলেন মফিদুল হক। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রিয়াঙ্কা আচার্য নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমকে এ তথ্য জানা।
১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে অর্ধশতাধিক নাটক রচিত হয়েছে। এসব নাটকে স্থান পেয়েছে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ, পাকদের হাতে নারী ধর্ষণ, ধর্ষিত ও নির্যাতিতদের আর্তনাদ, বাঙালির অকুতোভয় অবিরাম পথচলা আর বীরত্বগাথা বিজয় এমনকি রাজাকার, আলবদর, আলশামস তথা পাক নরপশুদের অমানবিক নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক নানা চিত্র।
দেশী নাট্যকারদের পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ও পরে আমাদের নাট্যকাররা বিদেশী বহু নাট্যকারের বিপ্লবী নাটক অনুবাদ ও রূপান্তরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। যুদ্ধকালীন এসব নাটক মুক্তির স্বপ্নে বিভোর বাঙালিদের উজ্জীবিত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রুদ্ধ সময়ের নাটকে ভেসে ওঠে স্বাধীনতা চেতনার প্রতিচ্ছবি। মুক্তিযুদ্ধ অবলম্বনে সবচেয়ে মঞ্চ সফল ও আলোচিত নাটক লিখেছেন সৈয়দ শামসুল হক। তার কাব্য নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ বাংলার সর্বমহলে আলোচনার ঝড় তোলে। এছাড়াও তিনি লিখেছেন ‘যুদ্ধ এবং যুদ্ধ’ ও ‘এখানে এখন’।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা দিক ও বিষয়াবলি নিয়ে যেসব নাট্যকার নাটক লিখেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন সাঈদ আহমেদ, আল মনসুর, রণেশ দাসগুপ্ত, পংকজ বিভাস, এসএম সোলায়মান, জিয়া হায়দার, আলাউদ্দিন আল আজাদ, নিলীমা ইব্রাহীম, নুরুল আম্বিয়া, কল্যাণ মিত্র প্রমুখ।
এসব নাট্যকার তাদের নাটকে মুক্তিযুদ্ধের যে খণ্ডচিত্র, অনুষঙ্গ বা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ বর্ণিল শিল্পরসে অংকন করেছেন তা আজ কালের সাক্ষী।
পরবর্তীতে প্রয়াত সেলিম আল দীন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও মান্নান হীরা, মামুনুর রশীদ, ড. ইনামুল হক মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে লিখেছেন অসংখ্য নাটক।
ফাল্গুনী হামিদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, কুমার প্রীতিশ বলের বেশকিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে যোগ করেছে দেশপ্রেমের একটি স্বাতন্ত্র্য মাত্রা। মঞ্চের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে নির্মিত হয়েছে বহু পথনাটক। অবশ্য, ব্যাপক অর্থে প্রথমদিকে পথনাটক ও বেশ কিছু মঞ্চনাটক জাতিকে দেশাত্মবোধের চেতনা যেভাবে আন্দোলিত করেছে, পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাট্যপ্রয়াস সেভাবে আশানুরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অবশ্য, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিবাদী নাটকের ক্ষেত্রে সম্প্রতি মান্নান হীরা রচিত ‘লালজমিন’, মামুনুর রশিদ’র ‘টার্গেট প্লাটুন’ ও ‘ভঙ্গবঙ্গ’, বাবুল বিশ্বাসের ‘পোড়ামাটি’ নাট্যাঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply