বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিক মুকুলের পরকীয়া প্রেমিকা সিঁথি জামিনে মুক্ত

Mukul-Sithi_dপরকীয়া প্রেমের জেরে সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মুকুলের সঙ্গে নারী নির্যাতন মামলার আসামী মেহেরুন বিনতে ফেরদৌস সিঁথি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

সোমবার ৬ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শামসুল আরেফিনের আদালতে মুকুল ও সিঁথির আইজীবী তাদের জামিন আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে সিঁথির আবেদন মঞ্জুর করলেও মুকুলের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

জামিনের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মুকুল ও সিঁথির আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান। জামিনের বিরোধিতা করেন অ্যাডভোকেট কাজী নজীবউল্লাহ হিরু, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও অ্যাডভোকেট মবিনুল ইসলাম।

গত ২ জুলাই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে’র আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সিঁথি। বিচারক সিঁথিকে তার স্বামী ঢাকা ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপ্যাল অফিসার রাজিউল আমিনের জিম্মায় জামিন দিতে চান। কিন্তু রাজিউল স্ত্রীকে নিজের ঘরে ফিরিয়ে নিতে অসম্মতি জানালে সিঁথির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

সাংবাদিক স্ত্রী দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নাজনীন আক্তার তন্বী তার ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৫ জুন স্বামী মুকুল ও সিঁথির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার জেরে মুকুলকে গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে আটক করে পুলিশ। পরদিন ২৭ জুন আদালতের নির্দেশে তাকে ১ দিনের রিমান্ডে নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই মাসুদ পারভেজ। ২৮ জুন রিমান্ড শেষে মুকুলকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন আদালত।

পাঁচবছর বয়সী শিশু কণ্যার হঠাৎ মৃত্যুর পর নাজনীন আখতার বাসার পাঁচতলা থেকে লাফিয়ে আলোচনায় আসেন। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে এই দম্পতি আর একটি সন্তান গ্রহণ করেন। তবে এই সময়ের মধ্যে রকিবুল ইসলাম মুকুল অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। যার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। এটি নিয়েই মূলত ওই দম্পতির মধ্যে মতদ্বৈততা হতে থাকে।

একটি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরের ৫ তলা থেকে লাফিয়ে আহত হওয়ার পর নাজনীনের চিকিৎসাকালীন স্বামী রকিবুল ইসলাম মুকুল একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তার স্ত্রী ও ওয়ারির ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল শাখার তৎকালীন শিক্ষিকার মেহেরুন বিনতে ফেরদৌস সিঁথি’র সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তার সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে লিভ টুগেদার করছেন মুকুল। তারা বনশ্রী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তারা একসঙ্গে থাকতেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শী অনেকে বলেছেন।

মামলা সম্পর্কে এর আগে নাজনীন আখতার বলেছেন, ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর একমাত্র মেয়ে চন্দ্রমুখী মারা যাওয়ার পর শোকে তিনি পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে আবার তাঁরা দু’জন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু এর মধ্যে রকিবুল মেহেরুন বিনতে ফেরদৌসের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে কথা বললে স্বামী রকিবুল বিভিন্ন সময়ে নাজনীনকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নির্যাতিত অবস্থায় তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল। এর কিছুদিন পর তাঁর দ্বিতীয় কন্যার জন্ম হয়। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর থেকে কখনোই খোঁজ নিতেন না মুকুল। এর মধ্যে নাজনীন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামী মেহেরুনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। মেহেরুনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও স্ত্রীকে কয়েকবার নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করেন নাজনীন।

নাজনীন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে রকিবুল তার কাছ থেকে টাকাও নিয়েছেন। সর্বশেষ রাজউকে পূর্বাচলে বরাদ্দ পাওয়া একটি প্লটের কিস্তির জন্য তিনি ১৪ লাখ টাকা দেন রকিবুলকে। কিন্তু রকিবুল ওই প্লটটি নিজের নামে লিখে নেন এবং সম্প্রতি সেটা বিক্রিও করে দেন। এসবের প্রতিবাদ করায় নাজনীনকে বিভিন্ন সময়ে রকিবুল নির্যাতন করেন।

নাজনীন আখতার বলেন, পরিবারের পরামর্শে ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি এত দিন মামলা করেননি। কিন্তু এখন বাধ্য হয়েই মামলা করলেন। তিনি তাঁর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, এর ন্যায়বিচার দাবি করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন