বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হাতের হাড় ভাঙা রোগীর কিডনি চিকিত্সা!

rmcরাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাতের হাড় ভাঙা রোগীর কিডনি চিকিত্সা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  জানা গেছে, বাগমারার নিচুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস গত ২৪ জুন স্থানীয় লোকজনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের প্রহারে তার বাম হাত ভেঙে যায়। এরপর রামেক হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হলে প্রাথমিকভাবে তার হাতের প্লাস্টার করা হয়। কিন্তু গত ১ জুলাই তার কিডনির সমস্যা আছে মনে করে ভুলবশত চিকিত্সকরা তাকে হাসপাতালের কিডনি ওয়ার্ডে (২১ নং) পাঠান। এরপর থেকে তিনি ওই ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

আব্দুল কুদ্দুস জানান, তাকে প্রথমে হাড় ভাঙার জন্য হাতের এক্সরে করাতে বলা হয়। এরপর হাতে প্লাস্টার করার কয়েকদিন পর আবার তাকে বলা হয় যে তার হাতের অপারেশন করা লাগবে। তারপর কিডনির সমস্যাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে পরীক্ষা করতে বলে ২১ নং ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে গত শনিবার করা কিডনি পরীক্ষার রিপোর্টে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি বলে চিকিত্সকরা নিশ্চিত হয়ে তাকে জানিয়েছেন।

জানা যায়, নগরীর লক্ষ্মীপুরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কিডনি পরীক্ষা করান কুদ্দুস। এতে তার ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে কিডনি পরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। ফলে এখন কেবল তাকে হাতের অপারেশন করাতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন রামেক হাসপাতালের চিকিত্সকরা।

আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে, তাই হাত প্লাস্টার করে দিয়েছেন চিকিত্সকরা। এখন আবার বলছেন এই হাতেই অপারেশন করতে হবে। একবারে কি করা যেত না? অযথা আমাকে এইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। কিডনি পরীক্ষা করার কি দরকার ছিল?” কুদ্দুসের স্বজনরা জানান, কোন্ রোগের চিকিত্সা করতে হবে, তা জানার আগেই উল্টো-পাল্টা পরীক্ষা করার জন্য ডাক্তাররা হাতে স্লিপ ধরিয়ে দিচ্ছেন। এতে তারা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। আবার বাড়তি টাকাও গুনতে হচ্ছে তাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদক,রাজশাহী

নিউজওযার্ল্ডবিডি ডটকম

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *