হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংবাদিক দর্পণ কবীরকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাতদিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ। বাংলাদেশের কাছে ভারতের একদিনের ক্রিকেটে পরাজয়ের পর দর্পণ কবীর তার একটি লেখায় নিউইয়র্কের হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়ে কিছু প্রশ্নের অবতারণা করেন। ওই লেখায় যাদের নাম এসেছে মূলত তাদের মধ্য থেকেই একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্টে। গত ২ জুলাই রাত নয়টার পর আয়োজিত ওই প্রতিবাদ সভা থেকে বলা হয়, দর্পণ কবীর যদি নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে ক্ষমা না চান তবে তার বিরুদ্ধে আরও বড় সমাবেশ ও ‘হেট স্পিচ’-এর জন্য মামলা করা হবে। এছাড়া তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সাংবাদিক দর্পণ কবীর আমেরিকান-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং এটিএন বাংলা ইউএসএ’র বার্তা সম্পাদক। গত ১৯ জুন তার ফেসবুকে করা এক নাতিদীর্ঘ মন্তব্যে বলেন, ’বাংলাদেশের কাছে ভারতের পরাজয়ে নিউইয়র্কের প্রবাসী হিন্দুদের মন খারাপ হয়েছে।’ এছাড়া নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটিতে বাংলাদেশি ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের নিয়ে তার নিজের কিছু বিশ্লেষণ তিনি তুলে ধরেন। দর্পণ কবীরের লেখাটি পরবর্তীতে বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার অনলাইন সংবাদপত্র ‘নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমে’ প্রকাশিত হয়। মূলত এর পর থেকেই শুরু হয় এই বিষয়ে চর্চা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর নিউইয়র্কের হিন্দু কমিউনিটির পক্ষে কবি নিখিল রায় মূলত ২ জুলাইয়ের প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন।
নিউইয়র্কে ‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্টের জন্যে’ দর্পণ কবীরকে অভিযুক্ত করা হয়।
কবি নিখিল রায়ের সভাপতিত্বে এ সময় বিভিন্ন বক্তা বলেন, হিন্দুদের আর কত দেশপ্রেমের পরীক্ষা দিতে হবে? আর কত আমরা সহ্য করবো?
ভারত পরাজিত হওয়ায় হিন্দুদের মন খারাপ; হিন্দুরা ভারতে টাকা পাঠায়- বাংলাদেশে পাঠায় না; নিউইয়ের্কর ঐক্য পরিষদ একটি জঙ্গি সংগঠন ও এর নেতারা হিন্দু জঙ্গি; হিন্দু সম্প্রদায়ের দেশপ্রেম বটে- দর্পণ কবীরের এসব মন্তব্যের প্রতিবাদে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঐক্য পরিষদ নেতা নবেন্দু বিকাশ দত্ত ও লেখক সুব্রত বিশ্বাস।
সুব্রত বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশ-ভারত নুতন ঐতিহাসিক সম্পর্ক সইতে না পেরে দর্পণ কবীররা পাকিস্তানী স্টাইলে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করতে চান।
ঐক্য পরিষদের নেতা সুশীল সাহা বলেন, ঐক্য পরিষদ জঙ্গি সংগঠন তা দর্পণ কবিরকে প্রমাণ করতে হবে, না পারলে ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তাকে খেসারত দিতে হবে; এখন প্রতিবাদ হচ্ছে, সামনে তাকে প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত।
ডা: নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, দর্পণ কবীরের বক্তব্য হেইট-ক্রাইম কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি না এই বক্তব্য দেশের সব মুসলমানের কথা, কিন্তু তারা তো কোনও কথা বলছেন না। তারা কথা বললে না হয় বুঝতাম তারা অন্য কমুনিটির সাথে শান্তি চান।
ডা: নীহার বলেন, ক্রনিক ম্যালনিউট্রিশনে হাজার হাজার শিশু মারা যায়, কোন হৈ চৈ হয়না, কিন্তু ডায়রিয়ায় ১০টি শিশু মারা গেলে তুমুল হইচই হয়, হিন্দুরা ক্রনিক ম্যালনিউট্রিশনের মত দেশ ছাড়ছে, কোন হৈ চৈ হয়না। ইংরেজিতে তিনি বলেন, ‘হোয়াট ফুল ইউ আর দ্যাট ইউ আর ট্রায়িং টু ক্লিনজ দ্য মাইনরিটি’?
সভায় দর্শক সারি থেকে বাবুল রোজারিও জানতে চান, দর্পণ কবীরের বিরুদ্ধে মামলা হবে কিনা? তিনি বলেন, দর্পণ কবীর ধর্মীয়, সম্প্রদায়গত, ব্যক্তিগতভাবে এবং বাংলাদেশী হিসাবে আমাদের আক্রমণ করেছেন, তাকে সাত দিনের সময় দেয়া হোক, নইলে মামলা করা হোক। তিনি চান প্রবীর রায় এই মামলার দাযিত্ব গ্রহণ করুক এবং বলেন, তাহলে এটা সহজ হয়ে যাবে। সভায় প্রবীর রায় এই দাযিত্ব নিতে সন্মত হন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সভাপতি কবি নিখিল রায় বলেন, আর পিছনে ফিরে তাকানো নয়, ক্ষমা না চাইলে আইনের ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।
সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন প্রদীপ মালাকার, এমএ কাসেম, ডা: টমাস দুলু রায়, প্রদীপ মালাকার, স্বীকৃতি বড়ুয়া, অরিজিত ঘোষ; প্রবীর কুমার গুণ, সঞ্জয় সাহা, শিতাংশু গুহ, মানিক কুমার চন্দ, ঝিলম চৌধুরী, ড্যানিয়েল এস বোস, অমিত ঘোষ, রেজাউল বারী, প্রবীর রায়, সুশীল সাহা, নিহার সরকার, বাবুল রোজারিও, সুব্রত বিশ্বাস, নবেন্দু দত্ত, নিখিল রায় প্রমুখ।
নিউইয়র্ক সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
যা লিখেছিলেন দর্পণ কবীর: ভারতের পরাজয়ে বাংলাদেশি হিন্দুদের মন খারাপ!




Leave a Reply