সওগাত আলী সাগর॥
জাতীয় সংসদের কার্য প্রণালী বিধির ৩০০ ধারার বিধান অনুসারে, ” কোনো মন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি লইয়া জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করিতে পারেন,কিন্তৃ বিবৃতি প্রদানের সময় কোনো প্রশ্ন করা যাইবে না।”
কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি দুর্নীতির রিপোর্ট নিয়ে জাতীয় সংসদে ৩ বার ৩০০ ধারায় বিবৃতি দিয়েছেন। বলাই বাহুল্য, তিনি বিবৃতি দিয়েছেন- দুর্নীতির অভিযোগকে অস্বীকার করার জন্য। মতিয়া চৌধুরীর বিবৃতিতে ‘জনস্বার্থের’ কি উপাদান আছে তা কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছি না।
ঝিনাইদহের কোটচাদপুর উপজেলায় কলের লাঙ্গল কেনা নিয়ে কোনো দুর্নীতি যদি হয়ও সেখানে কৃষি মন্ত্রীর সম্পৃক্ততার কোনো সুযোগ থাকে না। স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসন, রাজনীতিকরা এই ধরনের দুর্নীতি যে করেন না তা কিন্তু নয়। অনেক সময় দুর্নীতিবাজ প্রশাসনও রাজনীতিকদের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের অপকর্ম করে।
এই ধরনের অপকর্ম নিয়ে মিডিয়া সংবাদ প্রকাশ করলে মন্ত্রনালয়ের কাজ হচ্ছে তা তদন্তের ব্যবস্থা করা। কিন্তু মতিয়া চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিক প্রান্তিক পর্যায়ের একটি ঘটনা নিয়ে তিন তিনবার সংসদে ৩০০ ধারায় বিবৃতি দেন কোন বিবেচনায়- তা বোধগম্য হচ্ছে না। পর্যাপ্ত তথ্য হাতে না নিয়েই মন্ত্রী যখন কোনো দুর্নীতির পক্ষে অবস্থান নেন- তখন মাঠ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজরা আরো পেয়ে বসে। কোটচাদপুরের ঘটনায় উর্টো মতিয়া চৌধুরীই যেন পেয়ে বসেছেন।
মতিয়া চৌধুরীর সংসদের ফ্লোর আছে, কিন্তু প্রথম আলোর সংসদের ফ্লোর নেই। তবু প্রথম আলো মন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে এক ধরনের লড়াইয়েই নেমেছে। মিডিয়ার এই সাহস থাকাটা জরুরী। প্রথম আলোর এই সৎসাহসকে ধন্যবাদ দেই। কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম আলোর সত্য প্রতিষ্ঠার অসম লড়াইয়ে প্রথম আলোর প্রতি আমাদের সমর্থন রইলো।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী যে সত্য কথা বলছেন না, তিনি যে প্রান্তিক পর্যায়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজদের পক্ষে সংসদের পবিত্র ফ্লোরকে ব্যবহার করছেন- প্রথম আলো ইতিমধ্যেই তা প্রমাণ করে দিয়েছে।
মতিয়া চৌধুরীকে আমরা সৎ রাজনীতিক হিসেবেই জানি। আওয়ামী লীগের বন্ধুরা যখন ‘কমিউনিষ্টিরা আওয়ামী লীগকে ডুবাচ্ছে’- বলে জিগির তুলে, তখনো আমরা মতিয়া- নাহিদদের সততার পক্ষেই দাড়াই।
সেই মতিয়া চৌধুরী নিজে সম্পৃক্ত নন- প্রান্তিক পর্যায়ের একটি দুর্নীতির পক্ষে মরিয়া হয়ে দাড়িয়েছেন কেন? বাংলাদেশে সত্যিকারের গণমাধ্যম থাকলে অন্য কোনো মিডিয়া হয়তো স্বাধীন অনুসন্ধান করে তা বের করতো। কিন্তু বাংলাদেশের লেজুড়ভিত্তির সাংবাদিকতা সেটি করতে দেবে না।
(৬ জুলাই ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকে)
সওগাত আলী সাগর: কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক ও লেখক। প্রকাশক, সাপ্তাহিক নতুন দেশ।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply