একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের কাছে ভারতের পরাজয়ের পর হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়ে নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক দর্পণ কবীরের করা কিছু মন্তব্যে নিউইয়র্কে প্রবাসী হিন্দুদের একটি অংশে প্রবল প্রতিক্রিয়া হয়। তারা ২ জুলাই সমাবেশ করে সাতদিনের মধ্যে দর্পণ কবীর ক্ষমা না চাইলে মামলা করার হুমকি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের সাউন্ডভিউ ব্রডকাস্টিং অফিসে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দুঃখপ্রকাশ করেন।
সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি কোনও সম্প্রদায় কেন, একজন ব্যক্তিকেও আহত করতে চাই না। কষ্ট দিতে চাই না।’
বৈঠকের পর দর্পণ কবীর তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘আমার একটি ষ্ট্যাটাস নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নিউইয়র্কের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম একদিনের ম্যাচের পর ওই স্টাটাস-এর এক জায়গায় লিখেছিলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের (নিউইয়র্কের) অধিকাংশ নেতা ধর্মীয় চেতনায় কট্টরপন্থী-উগ্র। তুলনা করে বলেছিলাম-জঙ্গী। একজনের নামও বলেছিলাম। কথাটি বলার পর মনে হয়েছিল-ঠিক বলেনি। এটা বলা শোভন হয়নি। এ কথা বলার জন্য আমি অনুতপ্ত-লজ্জিতও। পুরো স্ট্যাটাসটি হিন্দু সম্প্রদায়কে আহত করেছিল, তা আমিও বিব্রত হয়েছি-অনুতপ্তও হয়েছি। এ কথাগুলো আমি ফেসবুকে আগে একবার লিখেছিলাম-‘বাপ্পী দাকে বলছি’ শিরোনামে। আজ কথাগুলো বললাম নিউইয়র্কের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতাদের। আজ রাতে তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে আমাদের সাউন্ডভিউ ব্রডকার্ষ্টি এর অফিসে। এই বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ হোসেন (আমার বস)। আলোচনা দীর্ঘ হয়নি। ক্ষুব্ধ পরিবেশও ছিল না। তবে ঐক্য পরিষদের নেতাদের বক্তব্য ও তাদের উদার মানসিকতা আমাকে ছুঁয়ে গেছে। একরাশ লজ্জা এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমিও নিজের গ্লানির কথা স্বীকার করেছি অকপটে। আসলে আমি পুরো সম্প্রদায়কে আহত করতে চাইনি কখনও। কোন সম্প্রদায় কেন, একজন ব্যক্তিকেও আহত করতে চাই না। কষ্ট দিতে চাই না।’
সংবাদদাতা, নিউইয়র্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
এ সম্পর্কিত আগের নিউজ:



Leave a Reply