মৌলিকভাবে যাকাত ফরজ হয় চারটি জিনিসের ওপর। ১. স্বর্ণ। ২. রুপা। ৩. নগদ টাকা। ৪. ব্যবসায়িক পণ্য।
ব্যবসায়িক পণ্য দ্বারা উদ্দেশ্য ওইসব পণ্য যা মানুষ বিক্রির উদ্দেশ্যে কিনে থাকে। এ চারটি জিনিস ছাড়া আর যত দামি জিনিসই হোক তার ওপর যাকাত আসবে না। যেমন, হীরার গয়না। ব্যবসায়িক পণ্য না হলে হীরার ওপর যাকাত আসবে না।
যাকাতযোগ্য সকল সম্পদের মোট মূল্য হিসেব করে এর ওপর শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত দিতে হবে। যেমন কারো যাকাতযোগ্য মোট সম্পদের পরিমাণ যদি এক লাখ টাকা হয় তাহলে তিনি শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে মোট আড়াই হাজার টাকা যাকাত দিবেন। এখন যদি তার বিশ হাজার টাকা ঋণ থাকে তাহলে তিনি আশি হাজার টাকার জন্য দুই হাজার টাকা যাকাত দিবেন। এটা হলো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঋণের কথা। তবে উন্নয়ন ঋণ বা ব্যাংক লোনের বিষয়টি একটু ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে ঋণের টাকা তিনি কোন খাতে খরচ করেছেন? যদি পূর্বোল্লিখিত যাকাতের চার খাতের কোনো খাতে খরচ করে থাকেন, তাহলে তা যাকাতের হিসেব থেকে বাদ দিতে পারবেন। আর অন্য খাতে খরচ করলে বাদ দিতে পারবেন না।
ধরি জনৈক ব্যক্তির যাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। আর তিনি ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক লোন নিয়েছেন। আর লোনের টাকা দিয়ে তিনি ব্যবসায়িক পণ্য কিনেছেন। যা যাকাতযোগ্য পণ্য। তাই তিনি যাকাতের হিসেব থেকে ওই টাকা বাদ দিতে পারবেন। অর্থাৎ, তিনি এখন ৫০ হাজার টাকার যাকাত দিবেন। আর যদি তিনি ব্যাংক লোন দিয়ে বাড়ি করে থাকেন বা ফ্ল্যাট কিনে থাকেন। বা এমন কোনো খাতে খরচ করে থাকেন, যা যাকাতযোগ্য বস্তু নয়- তাহলে তিনি যাকাতের হিসেব থেকে এ পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে তিনি পুরো একলাখ টাকার যাকাত হিসেবে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে।
অর্থাৎ, ব্যাংক লোন আর যাকাতের মাঝে বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যাংকলোন যদি যাকাতের উপর্যুক্ত চার খাতের কোনো খাতে খরচ করা হয়, তাহলে মোট হিসেব থেকে লোন পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন। আর যদি উপর্যুক্ত চার খাতের বাইরে অন্য খাতে লোন খরচ করেন, তাহলে তিনি মোট হিসেব থেকে লোন পরিমাণ অর্থ বাদ দিতে পারবেন না।
ধর্মবিষয়ক প্রদায়ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply