বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭০ বছর ৪ মাস। ২০০৯ সালে এটি ছিল ৬৭ বছর ২ মাস। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্টাটিসটিকস অব বাংলাদেশ এসভিআরএস-২০১৩ জরিপের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ১৪ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীদের গড় আয়ু বেশি। নারীদের গড় আয়ু হলো- ৭০ বছর ২ মাস, যা ২০০৯ সালে ছিল ৬৮ বছর ৭ মাস। আর পুরুষের গড় আয়ু- ৬৮ বছর ৮ মাস। ২০০৯ সালে ছিল ৬৬ বছর ১ মাস। এ ছাড়া সামাজিক বিভিন্ন সূচকে এগিয়েছে দেশ। মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার দাঁড়িয়েছে ১.৯৭ শতাংশ, যা ২০১২ সালে ছিল ২.০৩ শতাংশ।
শহর এবং গ্রাম উভয় স্থানে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। ব্যবহারের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩.৩ শতাংশ, যা ২০১২ সালে ছিল ৬৩.২ শতাংশ। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শিক্ষার হার (১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব মানুষ) মোট ৬১ শতাংশ, ২০০৯ সালে ছিল ৫৮.৪ শতাংশ।
পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পুরুষের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৬৫.১ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৬.৯ শতাংশ। এক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা কমেছে। বর্তমানে জাতীয়ভাবে শতকরা ৫৫ জন মানুষ নির্ভরশীল (শিশু, প্রতিবন্ধী, বেকার ইত্যাদি)। যা ২০১২ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ। তার আগের তিন বছরে এ হার ছিল পর্যায়ক্রমে ৫৭ শতাংশ, ৬৫ শতাংশ এবং ৬৬ শতাংশ।
এক্ষেত্রে পল্লী অঞ্চলে নির্ভরশীল মানুষের হার ৬০ শতাংশ, যা ২০১২ সালে ছিল ৬১ শতাংশ। শহর এলাকায় এ হার ৪৭ শতাংশ, যা তার আগের বছর ছিল ৪৮ শতাংশ।
আলোর উৎস ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে শতকরা ৬৬.৯ শতাংশ মানুষ। যা ২০১২ সালে ছিল ৬৫.৬ শতাংশ। ২০১১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এ হার ছিল ৬৩.৬ শতাংশ, ৫৪.৬ এবং ৫৪.৪ শতাংশ। কেরোসিনের আলো ব্যবহার করছে ৩২.৩ শতাংশ মানুষ, যা ২০১২ সালে ছিল ৩৩.১ শতাংশ। অন্যদিকে সৌর বিদ্যুৎসহ অন্য উৎস থেকে আলো ব্যবহার করছে ০.৮ শতাংশ মানুষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply