ওড়িষ্যার পুরীতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পৈতৃক বাসভবনটির মালিকানা পাওয়ার পর এর পুনর্নির্মাণ করেছে ওড়িশা সরকার৷ পুরী শহরের গোপালবল্লভ লেনে শতাব্দীপ্রাচীন বাড়িটি ভগ্নদশা থেকে উদ্ধার করে পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে দিয়েছেন জাতীয় শিল্প সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্হা ইনটাক-এর স্হপতিরা৷ শুক্রবার ১৭ জুলাই রথযাত্রার আগের দিন ঐতিহাসিক বাড়িটি তুলে দেওয়া হয় পুরী জেলা প্রশাসনের হাতে৷
ওড়িশার সংস্কৃতি মন্ত্রী অশোক পান্ডিয়া বলছেন, জগন্নাথদেবের মন্দিরের পর পুরীর সব থেকে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে নেতাজির এই বাড়ি৷
রাজ্য সরকারের পর্যটন ও সংস্কৃতিসচিব অরবিন্দ পাধি জানিয়েছেন, পুরীতে নেতাজির পৈতৃক বাড়ি মেরামতে রাজ্য সরকার চার কোটি রুপি বরাদ্দ করে। ভবনের সামনে বসানো হয়েছে নেতাজির একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি।
১৯১৬ সালে সুভাষচন্দ্রের পিতা জানকীনাথ বসু এই বাড়িটি বানাবেন বলে অর্ধেক একরেরও বেশি জমি ওড়িশা সরকারের থেকে লিজ নিয়েছিলেন৷ ১৯৩৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বাড়ির মালিকানা পান তাঁর স্ত্রী এবং সুভাষচন্দ্র-সহ সাত পুত্র৷ পরবর্তীকালে বসু পরিবারের মধ্যে আইনি বিরোধ শুরু হয় বাড়িটি নিয়ে৷
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটি ক্রমশ জরাজীর্ণ হতে থাকে৷ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ২০১৩ সালে ভগ্নপ্রায় বাড়িটি নিজেদের হাতে পায় ওড়িশা সরকার৷
ইনটাকের ভুবনেশ্বর শাখার ডিরেক্টর মল্লিকা মিত্র জানিয়েছেন, প্রথাগত পদ্ধতিতে, সময় নিয়ে বাড়িটি সারিয়েছেন তাঁরা৷ খেয়াল রাখতে হয়েছে পুরনো স্হাপত্যশৈলী৷ ফলে এই প্রকল্প কার্যকর করাটা বেশ কঠিন ছিল৷ বাড়ির সব পুরনো আসবাবও সংরক্ষণ করেছেন ওঁরা৷ সেই সঙ্গে নেতাজির ওপর একটি তথ্যচিত্র বানিয়েছে ইনটাক৷ বাড়ির চত্বরে নতুন তৈরি একটি খোলা মঞ্চে দেখানো হবে সেই তথ্যচিত্র৷
তিনি জানান, পর্যটকদের জন্য নিয়মিত সেই মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে, জানিয়েছেন পুরীর জেলা সাংস্কৃতিক অফিসার নলিনীকান্ত সাহু৷ মঞ্চের লাগোয়া একটি প্রদর্শনশালায় নেতাজি সম্পর্কিত ছবি, নথি, লেখাপত্র এবং পত্র-পত্রিকা রাখা থাকবে৷ ওড়িশা সরকার এই সংগ্রহশালাটির জন্য চার কোটি টাকা মঞ্জুর করেছিল৷
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply