মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

কিশোরীকে ধর্ষণ ইউপি সদস্যের

Rape_caricatureদক্ষিণাঞ্চলীয় বরগুনা সদরের আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার ঈদের রাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও থানায় এখনও মামলা হয়নি। ওই ইউপি সদস্য ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে খুলনায় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের সামাজিক সুরক্ষা দলের সদস্য সেন্টু মীর জানান, উত্তর কদমতলা গ্রামের এক মেয়ে রাবেয়া স্বামীর সঙ্গে ঢাকা থাকেন।

ধর্ষণের শিকার মেয়েটি (১৫) ঢাকায় রাবেয়ার পাশের বাসায় থাকে। এতে রাবেয়ার সঙ্গে মেয়েটির সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

ঈদের দুদিন আগে ওই মেয়েটিকে নিয়ে রাবেয়া বরগুনায় তার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসে।

ঈদের দিন শনিবার বিকালে এলাকার কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করলে আরেকদল যুবকের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

সেন্টু মীর আরও জানান, এর জেরে আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বশির গাজী ঈদের রাতে রাবেয়ার বাবার বাড়ি গিয়ে বিষয়টি ফয়সালার কথা জানায়।

তাই মেয়েটিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শামসুল হকের বাড়ি যেতে বলে।

এরপর রাবেয়া ও মেয়েটি বশির গাজীর সঙ্গে সেখানে যাওয়ার সময় পথে রাবেয়াকে আটকে রাখে সুমন নামে যুবক।

ওই সময় ইউপি সদস্য বশির গাজী ও তার সহযোগী জলিল ফকির মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর নুরুল হক ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বরগুনা থানার ওসি রিয়াজ হোসেন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মীর নুরুল হক মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি মেয়েটিকে পাঠানোর কথা বললেও মেয়েটি তার কাছে যায়নি। তাই তিনি ধর্ষণের মামলা নিতে পারেননি।

চেয়ারম্যান মীর নুরুল হক জানান, রোববার বিকালে ওই মেয়েটি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দুই শতাধিক লোকের সামনে ধর্ষণের বর্ননা দিয়েছে।উপস্থিত লোকজনকে ধর্ষণের আলামতও দেখিয়েছে।

এরপর তিনি বিষয়টি বরগুনা থানার ওসি রিয়াজ হোসেনকে জানিয়ে চৌকিদারের সঙ্গে মেয়েটিকে থানায় পাঠিয়ে দেন।

চেয়ারম্যান নুরুল হক জানান, কিন্তু চৌকিদার সাইফুল ইসলাম রোববার সন্ধ্যার পর মেয়েটিকে নিয়ে থানার কাছে নিয়ে গেলেও ভেতরে যেতে দেয়নি বশির গাজীর শ্বশুর ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী শামসুল হক।

এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতেই মেয়েটিকে খুলনায় তাদের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য করে তারা, বলেন নুরুল হক। “ধর্ষণকারী ইউপি সদস্য হলেও তার বিচার হওয়া উচিত,” বলেন তিনি।

এছাড়া চৌকিদার সাইফুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান চেয়ারম্যান নুরুল হক।

চৌকিদার সাইফুল ইসলাম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মীর নুরুল হক মামলা করার জন্য মেয়েটিকে নিয়ে তাকে থানায় পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু থানার সামনে গিয়ে মামলা করতে রাজী হয়নি মেয়েটি।

এছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শামসুল হক মেয়েটিকে সালিশির কথা বলে বাড়ি নিয়ে গেছেন বলে জানান সাইফুল। এ ব্যাপারে গাজী শামসুল হকের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *