মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

বাবা জেমসের সঙ্গে জান্নাত-জাহানের সেলফি

James-2-daughterব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী জেমস তার দুই মেয়ের সঙ্গে এবারের ঈদে সেলফি তুলেছেন। যা তিনি নিজেই ফেসবুকে দিয়েছেন।

ঈদটা ছিল বৃষ্টিবন্দী। তাই বলে ঈদ আনন্দে ছেদ পড়বে? মোটেও না। শ্রাবণের অবিরাম বর্ষণকে তুচ্ছ করে তারকারা ঠিকই উদযাপন করেছেন ঈদকে। সেই উদযাপন চিত্র আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বন্ধু ও ভক্তদের মাঝে।

সেলফি তুলেছেন জেমস। দুই মেয়ে জান্নাত ও জাহানের সঙ্গে। এই দুই মেয়ে জেমসের প্রথম স্ত্রীর। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তান, নাম দানেশ।

১৯৬৪ সালের ২রা অক্টোবর নওগাঁতে জন্ম গ্রহণ আইকনিক রক তারকা মাহফুজ আনাম জেমস । নওগাঁ জন্ম হলেও বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে ।

তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । সঙ্গীত জেমসের পছন্দের হলেও তার পরিবার তা পছন্দ করত না । ছেলেবেলা থেকেই তাঁর গানের সাথে গড়ে ওঠে সখ্যতা। সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় হাতে তুলে নেন গিটার।

গানের প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ তাঁর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই গান করা নিয়ে তাঁর বাবার ছিল প্রচন্ড আপত্তি।

গানের জন্য বাবার সাথে অভিমান করে ঘর ছাড়েন তিনি কিশোর বয়সে। জায়গা করে নেন চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং এর ছোট্ট একটি কামরায়।
জেমস বলেন তাঁর তারকা হয়ে ওঠার আগের সেই জীবন ছিল কঠিন ও সংগ্রামের। সারাদিন কেটে যেত তাঁর গান তৈরিতে আর সন্ধ্যা গড়ালে চলে যেতেন নগরীর নাইট ক্লাবে গান গাইতে।

সে সময় তিনি ও তাঁর ব্যান্ড ইংরেজি কাভার গান করতেন। ইংরেজি কাভার গান ছেড়ে তাঁরা একসময় নিজেদের সৃজনশীল মৌলিক বাংলা গান করার জন্য ঢাকা চলে আসেন।

চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া ব্যান্ড দল ফিলিংস এর মাধ্যমে তিনি প্রথমে খ্যাতি অর্জন করেন ।

পরবর্তীতে তিনি নগর বাউল নামে ব্যান্ড দল গঠন করেন। তিনি নগর বাউল এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য । বাংলা ভাষায় তিনিই প্রথম সাইকিডেলিক রক শুরু করেন । গিটার বাজনাতেও তার দারুন পটুতা রয়েছে । তিনি নগরবাউল ব্যান্ডের মূল ভোকাল ও গিটারিষ্ট হলেও তিনি মূলত তার সলো ক্যারিয়ারকেই বেশী গুরত্ব দেন ।

অনেক গীতিকার তার জন্য সঙ্গীত রচনা করেছেন। যাদের মধ্যে কবি শামসুর রহমান, প্রিন্স মাহমুদ, শিবলি উল্লেখযোগ্য । কর্মজীবনের প্রথম দিকে তিনি জিম মরিসন, মার্ক নফলার এবং এরিক ক্লাপটনের মত সঙ্গীত শিল্পীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম অ্যালবাম “স্টেশন রোড” মুক্তি পায়। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম একক অ্যালবাম অনন্যা। পরবর্তীতে তিনি ফিলিংস ব্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন “নগর বাউল” । তার অ্যালবাম গুলো হল , স্টেশন রোড (১৯৮৭),অনন্যা (১৯৮৮),জেল থেকে বলছি (১৯৯০),পালাবি কোথায় (১৯৯৫),নগর বাউল (১৯৯৬),দুঃখিনী দুঃখ করোনা (১৯৯৭),লেইস ফিতা লেইস (১৯৯৮),কালেকশন অফ ফিলিংস (১৯৯৯),ঠিক আছে বন্ধু (১৯৯৯),আমি তোমাদেরই লোক (২০০৩),জনতা এক্সপ্রেস (২০০৫),তুফান (২০০৬) ও কাল যমুনা (২০০৯) । আর জনপ্রিয় গান গুলোর মধ্যে মা , দুষ্টু ছেলের দল , বিজলি , লেইস ফিতা , বাংলাদেশ , বাবা , ভিগি ভিগি ইত্যাদি অনেক গান ।

বলিউডে বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতে কাজ করার কারণে পশ্চিমবঙ্গেও খুব জনপ্রিয় জেমস। সেই সূত্রে ২০০৪ সালে বাঙালি সঙ্গীত পরিচালক প্রিতমের সাথে মিলিত হন তিনি। ২০০৫ সালে বলিউডের গ্যাংস্টার নামক একটি চলচ্চিত্রে তিনি প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া “ভিগি ভিগি” গানটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় তা বলিউড টপচার্টের শীর্ষে ছিল।। ২০০৬ সালে তিনি ও লামহে নামক চলচ্চিত্রে “চল চলে” গানে কন্ঠ্য দেন। ২০০৭ সালে তিনি লাইফ ইন এ মেট্রো চলচ্চিত্রে আবারও প্লেব্যাক করেন। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া গান দুইটি হল রিশতে এবং আলবিদা (রিপ্রাইস)।চলচ্চিত্রে তার গাওয়া বেবাসি গানটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে । এইবার ঈদে মুক্তি পাবে আরেফিন শুভ ও মাহিয়া মাহি অভিনিত ‘ওয়ার্নিং’ নামক চলচ্চিত্রের টাইটেল ‘কান্নার কবিতা ‘ প্লে ব্যাক করেছেন জেমস ।

এদিকে ২০০০ সালের প্রথম দিকে জেমস পেপসির একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে অংশগ্রহন করেন। এটিই ছিল তার কাজ করা প্রথম বিজ্ঞাপন চিত্র। এই বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গে প্রচার করা হয়। এরপর তিনি ২০১১ সালে এনার্জি ড্রিংক ব্ল্যাক হর্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। বলিউড চলচ্চিত্র লাইফ ইন এ মেট্রোর কিছু অংশে জেমসকে দেখা যায়। যেখানে তিনি একটি ব্যান্ডের সদস্য চরিত্র কিছু অভিনয় করেন।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *