মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬

হাইওয়েতে সিএনজি অটোরিকশা চলবে না: সিদ্ধান্ত

obaidul-newsworldbdবাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদে ঘরমুখো এবং কর্মস্থলমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে গঠিত মনিটরিং টিমের কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী বলেন, ‘এবার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা হাইওয়েতে চলাচল অনেক কমে গেছে। কিন্তু নতুন একটা উপসর্গ যোগ হয়েছে, সেটা হল সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এবার ঈদে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য। সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবার মহাসড়কে খুব বেশি হারে এসে গেছে। যেটা অতীতে কখনো ছিল না।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আজ আমরা সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা একেবারে চলতেই পারবে না’।

সাম্প্রতিক সময়ে মহাসড়কে বড় যানবাহনের চাপায় অটোরিকশা আরোহীদের হতাহতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সচিবালয়ে এ বিষয়ে এক সভা শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চলতে পারবে না, আজ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

মন্ত্রী বলেন, সরকার উদ্যোগী হওয়ায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন চলাচল কমে গেছে।

“নতুন উপসর্গ মহাসড়কে সিএনজি (অটোরিকশা), অতীতে এতো সিএনজি অটোরিকশা ছিল না, এ সকল অটোরিকশা দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।”

একের পর এক দুর্ঘটনার কারেণ গত বছর হাই কোর্ট দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ১০ জেলার মহাসড়কে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার বাহন নছিমন, করিমন, ভটভটি না চালানোর নির্দেশ দেয়। পরে সরকারও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর হয়।

কিন্তু গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেলে বিষয়টি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঈদের ছুটির মধ্যে গত সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়কে বাসচাপায় অটোরিকশার পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ১৭ জুলাই মুন্সীগঞ্জে বাস-অটো সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন। আগের দিন কিশোরগঞ্জে ট্রাক্টর চাপায় প্রাণ যায় ৩ অটোরিকশা আরোহীর।

একই দিনে আখাউড়ায় মাইক্রোর ধাক্কায় অটো খালে পড়ে মানা যান তিনজন। ১৫ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা সিলেট মহাসড়কে পিকআপ ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন।

ঈদযাত্রায় সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে ‘মনিটরিং টিমের’ সভায় এসব বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভা শেষে কাদের বলেন, এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং তাদের কর্মস্থলে ফেরার পথ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ‘নির্বিঘ্ন’ ছিল।

“এবার প্রায় ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছে। গত বছর ছিল ৯০ জন। কিন্তু এতে স্বস্তির কোনো কারণ নেই, প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি, এসব ঘটনা বেদনাদায়ক।”

এবারের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী ঈদে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে কাদের বলেন, “আসন্ন ঈদ-উল-আজহার প্রস্তুতিও আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। ঢাকা মহানগরীর এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টগুলো নির্বিঘ্ন করতে এখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে।”

জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ও আশেপাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *