সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীর কাছ থেকে চিঠি পেয়ে প্রথমে তা ছুটির আবেদন হিসেবেই ভেবেছিলেন স্কুলশিক্ষক। কিন্তু গত সপ্তাহে পাওয়া ওই চিঠিটি পড়ে নিশ্চুপ হয়ে যান তিনি। চিঠিতে জন্মদাতা বাবার অব্যাহত ধর্ষণ থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে!
এনডিটিভির বুধবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মর্মান্তিক ওই চিঠি পেয়ে কী করবেন প্রথমে তা বুঝে উঠতে পারেননি সংশ্লিষ্ট স্কুলশিক্ষক। পরে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা বাসি’র সদস্যদের কাছে মেয়েটিকে নিয়ে যান তিনি।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিতা জানিয়েছে, তার মা এ ঘটনা দেখলেও তাকে সাহায্য করেনি। তাই কোনো উপায় না দেখে অবশেষে শিক্ষকের কাছে চিঠি দেয় সে।
মানবাধিকার সংস্থাটির সাহায্যে মেয়েটি গত সোমবার রাতে বাসি পুলিশের কাছে বাবা-মার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পরপরই নির্যাতিতার ৪৫ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত একজন ফল বিক্রেতা।
নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছে, ৭ বছর বয়স থেকেই তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিল তার বাবা। বিষয়টি এক পর্যায়ে তার মাকে জানালে তার মা তাকে পিল সেবন করতে দেয়।
ভুক্তভোগী জানায়, তার মায়ের সামনে তাকে ধর্ষণ করা হলেও সে নির্যাতিতা মেয়েকে সাহায্য করেনি।
নির্যাতিতা জানায়, তার বড় এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। এ ছাড়া তার ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা কেউ বাড়িতে না থাকলে ওই সময় তার বাবা তাকে ধর্ষণ করত বলে জানায় সে।
তার ১৭ বছর বয়সী বড় বোনও তার বাবার হাতে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছে বলে বিশ্বাস করে নির্যাতিতা কিশোরী।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়েটির বড় বোন তাদের সঙ্গে থাকে না। তবে সেও এক সময় তার বাবার হাতে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মেয়েটির মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তাকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি। তবে সে সত্যই জন্মনিয়ন্ত্রণকারী পিল খেতে দিয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হলে তাকেও গ্রেফতার করা হবে।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।




Leave a Reply