৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর যেভাবে রেখেছে সেই প্রক্রিয়া নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে; যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের সুযোগ নিতে পারে দুবৃত্তরা।
১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশংকা করে সরকারের ওই গোয়েন্দা সংস্থার মতে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) যে ভল্টে প্রশ্নপত্র রাখা হয়েছে তা প্রায় অরক্ষিত। ভোল্টে রাখা প্রশ্নপত্র কেউ ‘এদিক-সেদিক’ করলে তা নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরে আসবে না। এসব বিষয় উল্লেখ করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে পিএমও। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
২২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধে ৪ দফা সুপারিশ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- ১. প্রশ্নপত্র তৈরি/মডারেশন কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা, ২. বিসিএসসংক্রান্ত কোচিং সেন্টারগুলোর প্রতি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখা, ৩. অগ্রীম তথ্য সংগ্রহে সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো এবং ৪. লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।
প্রশ্নপত্র অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ জুলাই বিকালে ৩৫তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিজি প্রেস থেকে এনে পিএসসির ১নং ভল্টে (নিচতলায়) রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট ভল্টের রুমে প্রবেশ করার জন্য দুটি পথ রয়েছে। একটি বাহির থেকে নিচতলায়, অন্যটি দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে। যেখানে একটি কলাপসিবল গেট রয়েছে।
গেটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে, যার চাবি থাকে পিএসসি কর্তৃপক্ষের কাছে। নিচের প্রবেশ পথে প্রথমে কলাপসিবল গেট ও পরে কাঠের গেট রয়েছে। কাঠের গেটের জন্য কলাপসিবল গেটের ফাঁক দিয়ে দোতালার সিঁড়ি দিয়ে ভল্ট রুমে কেউ আসা-যাওয়া করলে নিচের গেটে থাকা পুলিশ ফোর্সের নজরে আসার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় তলায় কলাপসিবল গেটে ডিএমপির কোনো ফোর্স মোতায়েন না থাকায় ওই পথ দিয়ে কেউ নিচে নেমে প্রশ্নপত্র ‘এদিক-সেদিক’ করলে নিচের কলাপসিবল গেটে থাকা ডিএমপি নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরে আসবে না। এতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে।
এমন অবস্থায় দ্বিতীয় তলার ১নং ভল্টের সিঁড়ির কলাপসিবল গেটের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর কেন্দ্রে একযোগে ৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে। শিগগিরই পরীক্ষা কেন্দ্র এবং বিস্তারিত সময়সূচি পত্রিকার মাধ্যমে ঘোষণা করা হবে।
এক হাজার ৮০৩টি পদে নিয়োগ দিতে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এরপর চলতি বছরের ৬ মার্চ ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন, যা বিসিএসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বিসিএস বিধিমালা সংশোধনের পর নতুন নিয়ম ও সিলেবাসে ২০০ নম্বরে দুই ঘণ্টার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়া হয়। আগে ১০০ নম্বরে এক ঘণ্টা প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। এরপর ৮ এপ্রিল ৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি, যাতে উত্তীর্ণ হয় ২০ হাজার ৩৯১ জন পরীক্ষার্থী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিএসসির সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লা বলেন, বর্তমানে যেখানে প্রশ্নপত্র রাখা হয়েছে, সেখানে এর আগেও রাখা হতো। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নজরদারিতে সেগুলো রয়েছে। কিছুদিন আগে এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে পিএসসি।
ওই বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পিএসসির সংশ্লিষ্টদের গোয়েন্দা নজরদারি করতে ‘ফ্রি লাইসেন্স’ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ যে কোনো সময় পিএসসির যে কাউকে তারা নজরদারির আওতায় আনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি প্রশ্নপত্রের কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশংকা থাকে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



Leave a Reply